Symphony Z30, Itel Vision 1 Plus, Walton RX7 Mini: ১০ হাজার টাকায় কোনটি আপনার জন্য ভালো?

স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে অনেকেরই বাজেট ১০ হাজার টাকার আশেপাশে হয়ে থাকে। এই দামের মধ্যে বর্তমান বাজারে প্রচুর ফোন রয়েছে, তবে চমৎকার তিনটি অপশন হলো Symphony Z30, Itel Vision 1 Plus ও Walton RX7 Mini। তো আজকে কথা বলব এই ফোনগুলো নিয়ে আর আমি আশা করছি খুব ইন্টেরেস্টিং কম্পারিজন হবে, কেননা, প্রতিটি ফোনেরই অফার করার মত কিছু ভালো দিক রয়েছে।

এই দামে অন্য আর যত ফোন আছে, আমার কাছে মনে হয়েছে প্রায় প্রতিটি দিক থেকেই তাদের থেকে বিশেষভাবে এগিয়ে আছে এই তিনটি ফোন। সো, আমরা আগেই সেরা তিনটিকে বেছে নিয়েছি। এখন প্রশ্ন এটা নয় যে, এই তিনটির মধ্যে বেস্ট কোনটি। বরং প্রশ্ন হলো, আপনার জন্য কোনটি সবচেয়ে উপযুক্ত।

এছাড়া Realme C3 বর্তমানে ১১,০০০ টাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে মার্কেটে। সেটি আমাদের মূল আলোচনায় থাকবে না। তবে শেষের দিকে সেদিকে খানিকটা আলোকপাত করার চেষ্টা করব, যাতে ডিসিশন নিতে সুবিধা হয় আপনার বাজেট বাড়ানোর প্রয়োজন আছে কিনা।

২০১৯ সালের শেষের দিকে রিলিজ হয় Walton RX7 Mini। রিলিজের সময় ১০০০ টাকা ডিসকাউন্টে মাত্র ৭,৮৯৯ টাকায় Helio P60 চিপসেটসহ দুর্দান্ত স্পেক এনে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলো। আসলে এটি ছিলো Nokia X5 এর রিব্র্যান্ড এবং সামহাও ওয়ালটন অবিশ্বাস্য মূল্যে ফোনটি অফার করতে পেরেছিলো। পরবর্তীতে এর দাম কয়েক দফা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে অফিসিয়াল দাম ৯,৫০০ টাকা। তবে, এই দামেও এই ফোনটি এখন পর্যন্ত অসাধারণ এবং কিছু দিক দিয়ে একে হারিয়ে দেওয়ার মত ফোন মার্কেটে এখনো নেই।

এরপর যদি Itel Vision 1 Plus এর কথা বলি, খুব বেশিদিন হয়নি ফোনটি বাংলাদেশের মার্কেটে রিলিজ হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন ডিজাইন, বড় ডিসপ্লে, বড় ব্যাটারী এবং আরো আকর্ষণীয় ফিচার নিয়ে ফোনটি বাজারে এসেছে। ফোনটির দুটো ভ্যারায়েন্ট বর্তমান  বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। ২/৩২ ও ৩/৩২, দাম যথাক্রমে ৮,৫০০ ও ৯,৫০০ টাকা। আমাদের কম্পারিজনে মূলত আমরা ৩/৩২ ভ্যারায়েন্ট নিয়ে কথা বলব।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের বাজারে একদমই নতুন যুক্ত হয়েছে Symphony Z30। আকর্ষণীয় ডিজাইন ও গ্লাস বিল্ড ফোনটি প্রথম ইমপ্রেশনেই মন জয় করে নেওয়ার মত। ফোনটির দাম নির্ধারিত হয়েছে ৯,৮০০ টাকা। বড় ডিসপ্লে ও বড় ব্যাটারীসহ চমৎকার কম্বিনেশন থাকছে এই ফোনটিতে।

কম্পারিজন শুরু করার আগে আমি একটা বিষয় বলে রাখি, ফোনগুলোর কোনটিই আমি চালাইনি। কিছু বিষয় আছে, যা স্পেক দেখেই বলা সম্ভব, আর কিছু বিষয় হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ ব্যবহার করলে বোঝা যায়, আর এমন কিছু বিষয় আছে যা দীর্ঘদিনের রেগুলার ইউসেজ ছাড়া বলা সম্ভব নয়। এই লেখায় শেষের দুটোর অভাব থাকছে। এবং কোন ভুল ইনফরমেশন চোখে পড়লে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানিয়ে দিবেন।

ডিজাইন ও বিল্ড

Walton RX7 Mini দুটো ফোনই গ্লাস বিল্ড, সামনে-পেছনে থাকছে গরিলা গ্লাসের প্রটেকশন। Symphony Z30 দেখতে গ্লাস বলেই মনে হয়, গ্লসি এবং সুন্দর, তবে এটা সম্ভবত গ্লাস নয়, উন্নতমানের প্লাস্টিক। সবশেষে Itel Vision 1 Plus প্লাস্টিক বিল্ড, যদিও দেখতে মন্দ নয়। এখানে ম্যাট ফিনিশ রয়েছে, ফলে আঙুলের ছাপ পড়ে না এবং বেশ ভালো ফিল দেয় হাতে। তো, এখানে সবচেয়ে প্রিমিয়াম হলো Walton RX7 Mini, তারপর থাকবে Symphony Z30 এবং সবশেষে Itel Vision 1 Plus।

ডিজাইনের দিক দিয়ে Z30 আমার কাছে খুবই চমৎকার মনে হয়েছে। বাট আমি জানি, এখানে সবার পছন্দ এক নয়। তবে, Z30-এর কালার কম্বিনেশন বেশ ইউনিক, সাথে আলোর রিফ্লেকশনে রংয়ের খেলা চলে, যা দেখতে খুব সুন্দর। এরপর আমার চোখে Vision 1 Plus বেশ সুন্দর। এর ডাবল এস ডিজাইন আর আইফোন স্টাইল ক্যামেরা হাউজিং দেখতে বেশ ভালো লাগে। এবং সবশেষে RX7 Mini-ও কিন্তু গ্লাস বিল্ড গ্লসি লুক নিয়ে খুব সুন্দর দেখায়।

Symphony Z30 আনা হয়েছে দুটি কালার কম্বিনেশনে, Indigo Blue ও Amazon Green, কালারগুলো বেশ আনকমন মনে হয়েছে, বিশেষ করে সবুজ রংয়ের ফোন কিন্তু খুব বেশি দেখা যায় না। Itel Vision 1 Plus রয়েছে Gradation Blue ও Gradation Purple এই দুটি কালারে। অন্যদিকে, RX7 Mini তিনটি কালারে পাওয়া যাচ্ছে, Black, Midnight Purple ও Midnight Blue, তবে শেষের দুটিও ব্লাকের সাথে গ্র্যাডিয়েন্ট।

ডিসপ্লে

Symphony Z30 ও Itel Vision 1 Plus অফার করছে 6.5″ এর বিগ V-নচ ডিসপ্লে। তবে কিছুটা পিছিয়ে থাকবে Walton RX7 Mini কেননা, এর ডিসপ্লে 5.9″, আর এখানে বেশ বড় একটি নচ থাকছে। যাহোক, সবগুলো ফোনের ডিসপ্লে টাইপ আইপিএস, রেজ্যুলেশন HD+, Z30 ও Vision 1 Plus এ 1600*720, আর RX7 Mini তে 1520*720।

HD+ রেজ্যুলেশন নিয়ে সাধারণ ইউজারদের কোন অসুবিধা হওয়ার কথা না, তবে যারা এর আগে আরো ভালো রেজ্যুলেশনের ফোন চালিয়েছেন কিংবা খুব ভালোভাবে খেয়াল করবেন, তারা শার্পনেসের ঘাটতি কিছুটা অনুভব করতে পারেন, বিশেষ করে বড় 6.5″ ডিসপ্লের ফোনদুটোতে। এনিওয়ে, ১৭,০০০ টাকার ফোনেও আমরা এই রেজ্যুলেশন পেয়েছি, আর এই দামে এর চেয়ে বেশি আশা একদমই করা যায় না, তাই দাম হিসেবে ডিসপ্লে একদম ঠিকঠাক বলব।

ওভারঅল, আই থিঙ্ক যারা বড় ডিসপ্লের ডিভাইস চালাতে ইচ্ছুক তাদের জন্য Z30 অথবা Vision 1 Plus এবং যারা একটু হ্যান্ডি ও পকেটে সহজে বহনযোগ্য ফোন খুঁজছেন, তাদের জন্য RX7 Mini বেটার চয়েস। বর্তমানে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করছে, ছাত্রদের অনলাইন ক্লাস করার জন্য বড় ডিসপ্লের ফোন হেল্পফুল হতে পারে।

ব্যাটারী ও চার্জিং

Symphony Z30 ও Itel Vision 1 Plus দুটো ডিভাইসেই থাকছে 5000mAh এর হিউজ ব্যাটারী। তবে, Walton RX7 Mini এখানে পিছিয়ে পড়বে, কেননা, সেখানে থাকছে 3000mAh ব্যাটারী, যা বেশ কম। ব্যাকআপের কথা যদি বলি, RX7 Mini তে থাকা চিপসেট, Helio P60 বেশ ব্যাটারী সেভিং। তাই ব্যাকআপ একদম খারাপ হবে না আশা করা যায়। সাধারণ ব্যবহারে ৬ ঘন্টার মত SoT (স্ক্রিন অন টাইম) পাওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ, একদিন চলে যাওয়ার মত।

তবে, Symphony Z30 এর চিপসেট A25 সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ব্যাটারী সাশ্রয়ী এই ফোনগুলোর মধ্যে। মডারেট ইউসেজে 5000mAh ব্যাটারীতে ১০ ঘন্টা+ SoT পাওয়া যাবে বলে আমার ধারণা। একবার পুরো চার্জ দিলে দুদিন আর চার্জারের স্পর্শ না দিলেও চলবে। অন্যদিকে, Itel Vision 1 Plus এর চিপসেট 28nm হওয়ায় ব্যাটারী ব্যাকআপ Z30 থেকে কিছুটা কম হতে পারে। হয়ত ঘন্টাখানেক কম SoT পাওয়া যাবে।

যদি চার্জিংয়ের কথা বলি, RX7 Mini তে থাকছে ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট। তবে কোন ফাস্ট চার্জিং থাকছে না, ১০ ওয়াট চার্জিং সমর্থিত, যেটাকে এখন আর ফাস্ট চার্জিং বলা যায় না। বাকি দুটো ফোনে মাইক্রোইউএসবি টাইপ বি। Vision 1 Plus-এও চার্জিং ১০ ওয়াট। আর Z30 আমার জানা নেই, এটাও একই হওয়ার কথা।

ব্যাটারী বেশি হলে থিকনেসের প্রশ্ন চলে আসে। Walton RX7 Mini, Itel Vision 1 Plus ও Symphony Z30 এর থিকনেস যথাক্রমে 8.1mm, 8.6mm ও 8.9mm। ব্যাটারী বেশি হলেও সে অনুযায়ী কিন্তু Itel Vision 1 Plus ও Symphony Z30 এর থিকনেস তেমন বেশি নয়।

ক্যামেরা

Symphony Z30 তে রেয়ারে থাকছে মোট তিনটি ক্যামেরা। 13MP মেইন ক্যামেরা ও বাকি দুটি হলো 2MP ডেপথ সেন্সর ও 5MP আল্ট্রাওয়াইড লেন্স। Walton RX7 Mini ও Itel Vision 1 Plus এ রয়েছে দুটি করে রেয়ার ক্যামেরা। উভয়ক্ষেত্রে মেইন ক্যামেরা 13MP। RX7 Mini তে ডেপথ সেন্সর রয়েছে 5MP, আর Vision 1 Plus এরটি সম্ভবত VGA। আর সেলফি ক্যামেরা তিনটিতেই 8MP।

দেখা যাচ্ছে তিনটি ফোনেরই মেইন ক্যামেরা ও সেলফি ক্যামেরা মেগাপিক্সেলের দিক থেকে সমান। তবে সাথে একটি আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা Z30 কে এগিয়ে রাখছে। যাহোক, ক্যামেরাতে শুধু মেগাপিক্সেলের উপর কোয়ালিটি ডিপেন্ড করে না। আসলে লেন্সের ধরণ, চিপসেট, সফটওয়্যারসহ অনেক ব্যাপার এখানে রয়েছে।

সরাসরি ব্যবহার না করে মন্তব্য করাটা কঠিন। যাহোক, Nokia X5 এর রিব্র্যান্ড যেহেতু, তাই স্বাভাবিকভাবেই বেশ ভালো পারফর্ম করে RX7 Mini এর ক্যামেরা। আইটেলকেও সবসময় ক্যামেরার দিক দিয়ে রিভিউয়ারদের প্রশংসা পেয়ে আসতে দেখছি এবং এবারও ব্যতিক্রম হয়নি।

Z30 নিয়ে আমার একটু ডাউট ছিলো, কেননা, সিম্ফনির ক্যামেরা বেশ অনিয়মিত, কিছু ডিভাইস যেমন, Z15, Z25 এ দেখা গেছে বেশ ভালো, কিছু ডিভাইস যেমন, Z20 ও সর্বশেষ Z50 তে ক্যামেরা নিয়ে অভিযোগ ছিলো।

তবে এবারের Z30 এর ক্যামেরা নিয়ে সম্ভবত কেউ হতাশ হবেন না। যারা ইতোমধ্যেই ব্যবহার করেছেন, তারা ক্যামেরার প্রশংসা করেছে দেখলাম। আর কিছু ক্যামেরা স্যাম্পলও দেখলাম। দাম বিবেচনায় আসলেই প্রশংসনীয় ছবি। এর চিপসেট বেশ ভালো AI ক্যাপাবল। তাই, সিন ডিটেক্ট করে সুন্দর ছবি তুলতে পারে।

সব মিলিয়ে আমি অভিজ্ঞতা না থাকায় কম্পেয়ার তো করতে পারছি না, কিন্তু এটুকু বেশ বলতে পারি, ইন শা আল্লাহ, এই তিনটির কোনটিই ক্যামেরা নিয়ে হতাশ করবে না।

চিপসেট

চিপসেট আর প্রসেসর আমরা অনেক সময় এক মনে করি। আসলে কিন্তু তা নয়। চিপসেটের নামে যেহেতু ‘সেট’ শব্দটি আছে, তাই অনেক কিছু মিলিয়েই চিপসেট তৈরি হয়।

আমরা জানি, সিম্ফনি ও ওয়ালটন সাধারণত সহজে চিপসেটের নাম প্রকাশ করতে চায় না। কাজেই, ওয়ালটনের ওয়েবসাইটে আপনি দেখবেন, লেখা রয়েছে 1.8GHz Octa-Core Processor (12nm)। মজার বিষয় হলো Symphony Z30 তেও 12nm আর্কিটেকচারের 1.8GHz Octa-Core Processor ব্যবহার হয়েছে। তবে পার্থক্য আকাশ-পাতাল।

RXं7 Mini-র সবচেয়ে বড় আকর্ষণ বলতে হয় এর চিপসেটকে। কেননা, এর চিপসেট হলো, Helio P60 এর আন্ডারক্লকড ভার্সন, যেটি এই দামে এক্সপেক্টেশন থেকে অনেক বেশি। এখানে আছে চারটি 1.8GHz ক্লকস্পিডের ARM Cortex-A73 কোর ও চারটি 1.8GHz ক্লকস্পিডের ARM Cortex-A53। ARM Cortex-A73 হলো পারফর্মেন্স কোর, যা A53 থেকে অনেক ভালো পারফর্মেন্স ডেলিভার করে। GPU থাকছে Mali G72 MP3।

অন্যদিকে Z30 তে আছে Helio A25, যার প্রসেসরের চারটি কোর 1.8GHz ক্লকস্পিডের ARM Cortex-A53 ও বাকি চারটি 1.5GHz ক্লকস্পিডের ARM Cortex-A53। তো, এখানে কোন হাই পারফর্মেন্স কোর নেই। GPU থাকছে IMG PowerVR GE8320 । রেগুলার ব্যবহারকারীদের জন্য ঠিক আছে, তবে সিপিইউ, জিপিইউসহ সবদিকেই P60 থেকে অনেক পিছিয়ে।

সবশেষে, Itel Vision 1 Plus এ থাকছে Unisoc SC9863A। এটিও অক্টাকোর চিপসেট, চারটি কোরের ক্লকস্পিড 1.6GHz ও বাকি চারটি কোরের ক্লকস্পিড 1.2 GHz। এর কোরগুলো হলো ARM Cortex-A55, যা পারফর্মেন্স কোর না হলেও A53 থেকে ২০% বেটার পারফর্মার বলা হয়েছে। ফলে সিপিইউ এর দিক দিয়ে A25 থেকে আসলে এটা একটু বেটার। এখানে জিপিইউ আছে IMG8322। তবে এটি 28nm এ বিল্ড বলে পাওয়ার কনজাম্পশন বেশি, অর্থাৎ, ব্যাটারী খরচ কিছুটা বেশি হবে। আর A25 এআই সহ বিভিন্ন ফিচারে এর চেয়ে সম্ভবত এগিয়ে থাকবে।

তো, সব মিলিয়ে এখানে চ্যাম্পিয়ন অবশ্যই RXं7 Mini, তারপর Z30 ও সবশেষে Vision 1 Plus। তবে, Z30 থেকে Vision 1 Plus এর প্রসেসর হয়ত একটু বেটার।

স্টোরেজ

তিনটি ফোনেই ৩ জিবি র‌্যামের সাথে থাকছে ৩২ জিবি ইন-বিল্ট স্টোরেজ। Vision 1 Plus এর একটি ২/৩২ ভার্সনও রয়েছে। স্টোরেজ RX7 Mini ও Z30 তে ১২৮ জিবি পর্যন্ত এক্সপেন্ডেবল। Vision 1 Plus এ কতটা, তা আমার জানা নেই।

সফটওয়্যার

Symphony Z30 তে থাকছে Android 10। ফলে এখানে ইউআই ডার্ক মোডও থাকছে। বাকি দুটো ডিভাইসে থাকছে Android 9.0 Pie। সিম্ফনিকে আমরা সাম্প্রতিক ফোনগুলোতে স্টক অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার করতে দেখেছি। ওয়ালটনও স্টক ব্যবহার করে, তবে তার সাথে থিম ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে তাদের ইউআই-তে। অন্যদিকে আইটেল নিজেদের কাস্টম ইউআই ব্যবহার করে।

আপডেটের কথা বললে, আইটেল এখানে এন্ট্রি লেভেল হিসেবে মোটামুটি আপডেট দেয়। ওয়ালটন তাদের পূর্বের ফোনগুলোতে আপডেট না দিলেও RX7 Mini-তে দু-একবার আপডেট দিয়েছে। অন্যদিকে সিম্ফনিতে আপডেট পাওয়া আরও দুর্লভ ব্যাপার।

অন্যান্য

তিনটি ফোনেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও সফটওয়্যার বেজড ফেস আনলক থাকছে। RX7 Mini তে প্রচুর সংখ্যক সেন্সর দিয়ে দেওয়া হয়েছে; accelerometer, gravity, gyroscope, linear acceleration, Rotation Vector, orientation, light, proximity, e-compass, step detector ওয়েল, সবই আছে এখানে। বাকি দুটো ফোনে শুধু সবচেয়ে বেসিক সেন্সরগুলো থাকছে, অর্থাৎ, light, proximity ও gravity।

 

Symphony Z30 তে থাকছে,… নোটিফিকেশন লাইট! হ্যাঁ, বর্তমানে ফোনগুলোতে এই জিনিস দুর্লভ বস্তু, এবং অনেকের কাছেই খুব প্রয়োজনীয়। আর সিম্ফনি তা দিয়েছে। আরো থাকছে একটি ডেডিকেটেড গুগল অ্যাসিস্টেন্ট বাটন। যা অন্য দুটো ফোনে থাকছে না।

দাম

কোম্পানিগুলোর মত দাম ১টাকা বা ১০ টাকা কমিয়ে না লিখে আমি পূর্ণ সংখ্যাতেই লিখছি। এই কালচার থেকে কোম্পানিগুলোর বেরিয়ে আসা উচিৎ বলে মনে করি। এনিওয়ে, Walton RX7 Mini আর Itel Vision 1 Plus এর দাম ৯৫০০ টাকা এবং Symphony Z30 এর দাম তার চেয়ে ৩০০ টাকা বেশি।

মতামত

সব দিক থেকে দেখলে, Itel Vision 1 Plus আর Symphony Z30 বেশ কাছাকাছি অফার করছে। গ্লাস ব্যাক, নোটিফিকেশন লাইট, আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা, এন্ড্রয়েড ১০ এই ফিচারগুলো Z30 কে আকর্ষণীয় করছে আর Vision 1 Plus এর ভালো ব্যাপার হলো দাম কিছুটা কম, থিকনেস সামান্য কম, কাস্টম ইউআই ব্যবহার করে। দুটো ফোনেরই কমন দিক হলো, সুন্দর ডিজাইন, বড় ডিসপ্লে, বড় ব্যাটারী, সমান র‌্যাম-রম। Z30 ওভারঅল স্লাইটলি এগিয়ে থাকছে আমার চোখে।

তবে, Walton RX7 Mini এর সাথে এই ফোনদুটোর পার্থক্য অনেক। RX7 Mini কিছুটা ছোটখাট ফোন যারা পছন্দ করেন, তাদের জন্য ভালো। অনেক অনেক সেন্সরের উপস্থিতি প্রশংসনীয়। গরিলা গ্লাসের প্রটেকশন এই দামে সত্যিই ভালো ব্যাপার। আর অবশ্যই চিপসেটের কথা বলতেই হবে, P60 এই দামের মধ্যে দারুণ ব্যাপার।

দিনশেষে ডিশিসন কিন্তু আপনার হাতেই থাকছে, যে আপনার প্রয়োজনগুলো কোন ফোনটি পূরণ করতে পারে। আপনার কি ভালো পারফর্মেন্স দরকার, নাকি বড় ডিসপ্লে আর দীর্ঘ সময়ের ব্যাটারী ব্যাকআপ? সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দেখুন নিজের প্রয়োজন ও পছন্দের সাথে কোন ডিভাইসটি ভালো যাচ্ছে।

আরেকটু বাড়িয়ে C3?

অনেকে এখানে বলতে পারেন, আরেকটু বেশি দামে, ১১,০০০ টাকায় Realme C3 বা অন্য কোন ফোন এর চেয়ে ভালো স্পেক অফার করছে। মানে, এটা তো একটা স্বাভাবিক বিষয় আরেকটু বাড়ালে আরেকটু ভালো পাবেন। তার সাথে আরো বাড়ালে আরো ভালো পাবেন। কাজেই, এটা কোন কথা নয়। তবে, কথা হলো, আপনার আসলেই বাজেট বাড়ানোর প্রয়োজন আছে কিনা।

C3 তে রয়েছে Helio G70 চিপসেট, যা P60 থেকে অনেক বেটার। বাদবাকি কনফিগারেশন Z30 বা Vision 1 Plus এর কাছাকাছি। তবে এখানে থাকছে প্লাস্টিক বডি। আর RX7 Mini এর মত অত সেন্সরও থাকছে না, তবে কম্পাস সেন্সর আছে। এটিও ৩/৩২ পাওয়া যাচ্ছে ১১,০০০ টাকায়।

আপনার যদি মনে হয়, আপনার খুব ভালো চিপসেট প্রয়োজন, কিংবা ব্র্যান্ড হিসেবে আইটেল, সিম্ফনি বা ওয়ালটন আপনার অপছন্দ, সেক্ষেত্রে আমি বলব আপনি বাজেট বাড়িয়ে C3 নিতে পারেন। যদি এমনটা না হয়, তাহলে আমার মতে বাজেট বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।

অথবা C11?

রিয়েলমির নতুন একটি ফোন C11 ৯০০০-১০০০০ টাকা প্রাইস ট্যাগ নিয়ে কিছুদিনের মধ্যে দেশে লঞ্চ হতে পারে। সত্যি বলতে আমি বলব ৮৫০০ টাকা পর্যন্ত ঠিক আছে, কিন্তু এর বেশি হলে চলে না।

এটি আসতে পারে ২/৩২ নিয়ে, ৩/৩২ ও আছে, তবে সেটি দেশে রিলিজ হবে কিনা জানা নেই বা হলেও দাম হয়ত বেশি হবে। এখানে আছে Helio G35 চিপসেট, যার নামে G থাকলেও আসলে এটি P35 এর মত। এই দামে ভালো, তবে আহামরী কিছু নয় এবং P60 থেকে অনেক পিছিয়ে।‍‍

তাছাড়া, এখানে থাকছে প্লাস্টিক বডি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর নেই। সব মিলিয়ে আমার ভালো লাগেনি।

আরো জানুন

Symphony Z30 Itel Vision 1 Plus Walton RX7 Mini

তথ্য ও ছবি সোর্স: সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবপেজ

0 0 vote
Article Rating
Default image
তাহমিদ হাসান
এইতো, প্রতি ষাট সেকেন্ডে জীবন থেকে একটি করে মিনিট মুছে যাচ্ছে, আর এভাবেই এগিয়ে চলেছি মৃত্যুর পথে, নিজ ঠিকানায়। জীবন বড় অদ্ভুত, তাই না?
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x