অবশেষে রিলিজ হলো Walton Primo S7 Pro, কিন্তু…

অবশেষে, অবশেষে! ভাবতেই চোখে পানি চলে আসছে… মাত্র ৬ মাস আপকামিং রেখে শেষ পর্যন্ত ওয়ালটন নিয়ে এসেছে তাদের ফ্ল্যাগশিপ Walton Primo S7 Pro! মাত্র ৬ মাস, ভাবা যায়? তবে বেশি খুশি হওয়ার দরকার নেই, কারণ দাম শুনলে চোখে সত্যিকার অর্থেই পানি চলে আসলেও আসতে পারে…

গত বছর, অর্থাৎ, ২০১৯ সালজুড়ে ওয়ালটন চমৎকার কিছু ফোন এনেছে। এন্ট্রি লেভেলে H8 Turbo, H8 Pro সহ চমৎকার কিছু ফোন এবং সবশেষ RX7 Mini-র মত দুর্দান্ত ডিভাইস এনে পুরো বিস্ফোরণ লাগিয়ে দিয়েছিলো বাজারে। কম্পিটিশনের জন্য আশেপাশে কোন ব্র্যান্ডই ছিলো না। এতটা এগ্রেসিভ ছিলো যে, জানুয়ারী মাসে প্রথম এটাকে এনাউন্স করার সময় ভাবছিলাম না ১৫ হাজার দাম দিয়ে বসে। তবে ২০২০ এ এসে তারা হতাশ করেছে বারবার।

Walton Primo S7 Pro

৭,৭৯৯ টাকায় রিলিজ হওয়া RX7 Mini-র দাম এখন ৯,৪৯৯ টাকা। কিছুদিন আগে N4 রিলিজ হয়েছে ১১,৬৯৯ (৩/৩২) ও ১৩,১৯৯ (৪/৬৪) টাকায়, যার কনফিগারেশন কোনভাবেই যথাক্রমে ১০,০০০ ও ১১,০০০ টাকার বেশি দামকে জাস্টিফাই করে না। কোথায় আশা ছিলো Primo S7 Pro আসবে ১৬-১৭ হাজারে, কিন্তু নাহ, দাম রাখা হয়েছে মাত্র ২০,৫০০ টাকা, চোখে পানি এসেছে কিনা কমেন্টে অবশ্যই জানিয়ে দিন…

অবশ্য সাথে ১০০% ক্যাশব্যাক অফার আছে ইভ্যালির। এখন সম্ভবত শুধু ইভ্যালিতেই পাওয়া যাবে। ক্যাশব্যাক জমা হবে ইভ্যালি ব্যালেন্সে, যা থেকে পরবর্তীতে কেনাকাটায় ৬০% পেমেন্ট করা যাবে এবং বাকি ৪০% নতুন করে পেমেন্ট করতে হবে।

যদি ৬ মাস আগে এই দাম রাখা হত, সেটা কিন্তু আমার মনে হয় খুব খারাপও হত না। তবে স্মার্টফোন মার্কেট এত দ্রুত পরিবর্তনশীল যে, একটা ফোনকে ৬ মাস আপকামিংয়ে রাখলে তার ভ্যালু আসলে হারিয়ে যায় অনেকটাই। যাই হোক, চলুন দেখি, ২০,৫০০ টাকায় এই স্মার্টফোনটি কি দিচ্ছে?

ফোনটি প্লাস্টিক বিল্ড, ব্যাকপার্ট PPME ম্যাটেরিয়েলে তৈরি, যেটা প্লাস্টিক হলেও দেখতে গ্লাসের মত এবং আলোর রিফ্লেকশনে রংয়ের খেলা চলে। ফোনটি দুটি রংয়ে পাওয়া যাচ্ছে। ব্লু ও ব্লাক। ছবিতে ব্লাক কালারটি বেশি প্রিমিয়াম মনে হয়েছে। এর গোল্ড কালারের বর্ডারগুলো একে অন্যরকম সৌন্দর্য্য দিয়েছে। তবে আগের দিনের মতই ভার্টিকাল ক্যামেরা মডিউল থাকছে, যেটা এখন তেমন চলে না…

ফোনটির বেজেল ও চিন এরিয়া একদমই ন্যারো, যেটা সত্যিই ভালো লাগার মত। ডিসপ্লে সেকশনে আসলে এখানে থাকছে 6.3″ FHD+ IPS প্যানেল। ৬ মাস আগে ততটাও খারাপ ছিলো না, তবে এখন যখন এই দামে স্যামসাংয়ের মত ব্র্যান্ড 6.4″ FHD+ Super Amoled প্যানেল দিচ্ছে, তখন এটা অবশ্যই হতাশাজনক। আর এখন এটাকে বড় ডিসপ্লেও বলা যায় না, কারণ দশ হাজার বাজেটেও এখন স্ট্যান্ডার্ড হলো 6.5″ ডিসপ্লে।

কোন দেশীয় ব্র্যান্ডের ফোন হিসেবে প্রথম 48MP ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে এখানে, তবে এটা নিয়ে মহাকাব্য করার কিছু নেই, এই দামে এটাই এক্সপেক্টেড। তার সাথে থাকছে আরো দুটি ক্যামেরা। একটি 8MP এর আল্ট্রাওয়াইড, অপরটি 2MP এর ডেপথ সেন্সর। এর ক্যামেরাতে 108MP আলট্রা পিক্সেল মোডে ছবি তোলা যাবে। আমার ধারণা, এই মোডটি কিছুটা সময় নিয়ে কয়েকটি ছবি তুলে কম্বাইন করে ডিটেইলড ছবি দিবে, যদিও সঠিক জানা নেই। অন্যদিকে ফোনটির ফ্রন্টে থাকছে 16MP এর একটি ক্যামেরা।

এই ফোনে রয়েছে MediaTek Helio P70 চিপসেট। আবারো বলব, ৬ মাস আগে ভালোই ছিলো, এখন অন্তত G80 তো আশা থাকেই এই দামে। যাহোক, P70 এমনিতে খারাপ না। এটি একটি অক্টাকোর চিপসেট, যাতে আছে চারটি হাই পারফর্মেন্স Cortex-A73 ও চারটি ব্যাটারী সেভিং Cortex-A53 চিপ। ক্লকস্পিড সর্বোচ্চ 2.1 GHz। পারফর্মেন্সে G70 বা G80 থেকে খুব খারাপ হওয়ার কথা না, কিন্তু পুরান হয়ে গেছে। দেওয়া হয়েছে LPDDR4x সিরিজের 6GB র‌্যাম। এটা সম্ভবত ওয়ালটন এবং যেকোন দেশীয় কোম্পানীর দ্বিতীয় 6GB র‌্যামের ফোন।

সব মিলিয়ে পারফর্মেন্স খারাপ হওয়ার কোন কারণ নেই। ডে টু ডে কিংবা হেভি ইউসেজ সব ক্ষেত্রেই এই বাজেটে যতটা আশা করা যায়, ততটা পারফর্মেন্স পাওয়া যাবে আই হোপ। শুধু মনের মধ্যে পুরনো চিপসেট বিষয়টা একটু খুঁতখুঁত করতে পারে, এই যা…

এর ব্যাটারী রয়েছে 3950 mAh। ফোনটি 18W ফাস্ট চার্জিং সমর্থন করে এবং আরো রয়েছে ওয়ারলেস চার্জিং সুবিধা, যা 10W সমর্থিত। ফাস্ট চার্জিংয়ের ব্যাপারটি ভালো, ওয়ারলেস চার্জিং এই দামে দিয়েছে, খুবই ভালো বিষয়, কিন্তু আবারো ৬ মাসের খোঁটা দিতে হচ্ছে, সরি, এখন 5000 mAh এর কম চলে না…

চার্জ দেওয়ার জন্য নিচের দিকে থাকছে টাইপ সি-পোর্ট। নিচের দিকে আরো থাকছে স্পিকার গ্লিলস। থাকছে 3.5mm এর ইয়ারফোন জ্যাকভ সিকিউরিটি সেকশনে আসলে এতে রয়েছে এজ ইউজুয়াল রেয়ার মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ফ্রন্ট ক্যামেরা ভিত্তিক ফেস আনলক।

সফটওয়্যারের কথা তারা উল্লেখ করেনি, তবে আমি আধ্যাত্মিক শক্তিতে দেখতে পাচ্ছি এখানে Android 9.0 Pie দেওয়া। মজা করলাম, তবে যদি Android 10 হত সগৌরবেই সেটার উল্লেখ করার কথা ছিলো, যখন উল্লেখ নেই, তখন এটা 9.0-ই হওয়ার কথা। তাছাড়া কিছুদিন আগে আনা Primo N4-এও তারা 9.0-ই দিয়েছিলো।

সবশেষে বলবো, এটা এই দামে খুব আকর্ষণীয় ডিল মনে হচ্ছে না। বিশেষ করে যখন Samsung এর মত ব্র্যান্ডের Galaxy M21 এই দামে 6.4″ Super Amoled ডিসপ্লে, 6000 mAh ব্যাটারী (15W Charging), গরিলা গ্লাস ৩ প্রটেকশন, Android 10, 20 MP সেলফি ক্যামেরা দিচ্ছে, তখন শুধু ওয়ারলেস চার্জিং আর সুন্দর ডিজাইনের জন্য ঠিক কতজন Walton Primo S7 Pro কিনবেন, সেটা চিন্তার বিষয়। এছাড়া ব্র্যান্ড ভ্যালুর ব্যাপার তো আছেই।

সবশেষে, দেশকে ভালোবেসে দেশীয় ব্র্যান্ডের পণ্য কেনা হয়ত যেতেই পারে। কিন্তু দেশীয় কোম্পানি হিসেবে ওয়ালটনেরও কি দেশের মানুষকে আরো ভালো কিছু দেওয়া উচিৎ না?

3.3 6 votes
Article Rating
Default image
তাহমিদ হাসান
এইতো, প্রতি ষাট সেকেন্ডে জীবন থেকে একটি করে মিনিট মুছে যাচ্ছে, আর এভাবেই এগিয়ে চলেছি মৃত্যুর পথে, নিজ ঠিকানায়। জীবন বড় অদ্ভুত, তাই না?
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x