Tecno Pouvoir 4: কাদের জন্য আর কাদের জন্য নয়?

ফ্রেঞ্চ শব্দ Pouvoir অর্থ Power বা ক্ষমতা। 6000 mAh এর ম্যাসিভ ব্যাটারী নামকরণকে যথার্থ বলেই প্রতীয়মান করে। সাথে থাকছে 7.0″ এর হিউজ একটি ডিসপ্লে। এটাকে ছোটখাট একটা ট্যাব মনে হয় বলা যেতেই পারে। এর ডিজাইন পছন্দ হবে না, এমন কাউকে পাওয়া সম্ভবত কঠিনই হবে। তার সাথে ডুয়াল স্টেরিও সাউন্ড ফিচারটি এই দামে বেশ আকর্ষণীয় বলতেই হবে।

তবে, পারফর্মেন্স সেকশনে যখন আমরা উঁকি দিব, তখন অবশ্য একটু হতাশই হতে হয়। কারণ এখানে থাকছে Helio A22, যেটা আসলে একদমই এন্ট্রি লেভেল একটি চিপসেট। ফোনটির দাম ধরা হয়েছে ১০ টাকা কম ১২০০০ টাকা। এই দামে আমরা আরেকটু বেশিই আশা করি, তবে আমার কিছু পয়েন্ট আছে এখানে, আসছি সে কথায় একটু পরে।

বরাবরের মতই ডিজাইন ও বিল্ড দিয়ে শুরু করি। ফোনটি প্লাস্টিক বিল্ড। তবে দেখতে চিপ লাগে না। Fantasy Blue ও Ice Jadeite। দুটিই সুন্দর, তবে Fantasy Blue কালারে একটি টেক্সচার দেওয়া হয়েছে যা বেশ এক্সেপশনাল। তার সাথে ক্যামেরা হাউজিং, ব্র্যান্ডিং স্টাইল মিলিয়ে একটা অসাধারণ লুক।

এবার ডিসপ্লেতে আসি। 7.0″ এর একটি V-নচযুক্ত ডিসপ্লে। চিন ও বেজেল বেশি নয়। ডিসপ্লে টাইপ আইপিএস, রেজ্যুলেশন HD+ (720*1640), PPI 256। এত বড় ডিসপ্লেতে HD+ রেজ্যুলেশনের কারণে শার্পনেসের ঘাটতি কিছুটা থাকবেই। এই দামে কোন ফোনই যদিও FHD দেয় না, তারপরও, যেহেতু ডিসপ্লে এই ফোনের প্রধান আকর্ষণগুলোর একটি, তাই রেজ্যুলেশন বেশি হলে ভালো হত।

ডিসপ্লের উপরে নচে রয়েছে 8MP এর একটি ক্যামেরা। ফ্রন্ট ক্যামেরাতে ফ্ল্যাশ দেওয়া হয়েছে, ভালো ব্যাপার। ব্যাকসাইডে থাকছে কোয়াড ক্যামেরা সেটআপ, যেটাকে আসলে সিঙ্গেল ক্যামেরা বলাই ভালো। এখানে মূল ক্যামেরাটি 13MP, তার সাথে একটি 2MP টেলিফটো, সাথে একটি 2MP ডেপথ, সাথে একটি AI লেন্স। এরকম দুর্দান্ত কোয়াড ক্যামেরা সেটআপের চেয়ে শুধু একটা ক্যামেরা দেওয়া অনেক ভালো, আমি বলব। তবে, টেকনোকেও দোষ দিতে পারছি না, একটা ক্যামেরা দিলে জাতি কি মেনে নিবে?
6000 mAh ব্যাটারীযুক্ত ফোনটিতে টাইপ সি অনেকেরই এক্সপেক্টেশন থাকবে। কিন্তু না, মাইক্রো-ইউএসবি টাইপ বি। 10W চার্জিং নিয়ে ফোনটি এসেছে। চার্জ হতে চার ঘন্টার মত লাগতে পারে। বিশাল ব্যাটারী থাকলেও ফোনটির থিকনেস খুব বেশি নয়, 9.2 mm। ডানদিকে বরাবরের মতই থাকছে ভলিউম ও পাওয়ার বাটন। ডানদিকে সিম ট্রে ও একটি গুগল অ্যাসিস্টেন্ট বাটন।
তারপর চলে আসে পারফর্মেন্স সেকশন। এখানে থাকছে ৩ জিবি র‍্যাম ও ৩২ জিবি রম। চিপসেট Helio A22, ১২০০০ টাকায় এটা এক্সপেক্টেড না। ইভেন P22 থেকেও এটা অনেক পিছিয়ে, মূলত এন্ট্রি লেভেলের একটি কোয়াড কোর প্রসেসর। এখানে রয়েছে 2.0GHz এর চারটি ARM Cortex-A53 কোর। সাধারণ টাস্কগুলো নিয়ে কোন সমস্যা হওয়ার কথা না। মডারেট ইউজারদের এই চিপ দিয়ে বেশ ভালোভাবেই চলে যাবে আশা করা যায়।
এই দামের আশেপাশে আমরা Helio G70, SD665 চিপসেট দেখেছি, অন্তত Helio P22, SD439 এগুলো তো ১০ হাজারের নিচেও অহরহই দেখা যায়। তবে তারা কিন্তু এত বড় ডিসপ্লে, হিউজ ব্যাটারী আর ডুয়াল স্টেরিও স্পিকার দেয়নি।
দিনশেষে বাজেট ফোনে কোথাও তো কম্প্রোমাইজ করতেই হয়। আর তাছাড়া সবার তো এই ফোন কেনার প্রয়োজন নেই। যাদের ভালো চিপসেট বা বেশি র‍্যাম-রম এই বাজেটের মধ্যে তাদের জন্য চমৎকার কিছু অপশন মার্কেটে আছে।
যাই হোক, তারপরও এত দামে অন্তত P22-ও যদি না থাকে, সমালোচনা তো হবেই।
এখানে প্রক্সিমিটি সেন্সর, এম্বিয়েন্ট লাইট সেন্সর, জি-সেন্সর থাকছে। তবে জাইরো বা কম্পাস সেন্সর থাকছে না।

যাদের জন্য উপযুক্ত

১. যারা একটি বড় ডিসপ্লেযুক্ত ফোন খুঁজছেন
২. একবার চার্জ দিয়ে দুই-তিনদিন কাটিয়ে দিতে ইচ্ছুক
৩. সুন্দর ডিজাইন যাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ
৪. ডুয়াল স্টেরিও অডিও যারা কমদামে খুঁজছেন
৫. মোটামুটি ভালো ক্যামেরা থাকলেই যাদের চলবে

যাদের জন্য উপযুক্ত নয়

১. যারা ছোটখাট, সহজে পকেটে বহনযোগ্য, এক হাতে সহজে ব্যবহারযোগ্য একটি ফোন খুঁজছেন
২. যাদের কাছে পারফর্মেন্স সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ
৩. বড় ডিসপ্লের জন্য শার্পনেসে যারা কম্প্রোমাইজ করতে ইচ্ছুক নন
৪. যারা ওয়াইড অ্যাঙ্গেল বা ম্যাক্রো লেন্স চাইছেন
৫. ব্র্যান্ড ভ্যালু যদি গুরুত্বপূর্ণ হয় (কারণ টেকনো এখনো ততটা প্রতিষ্ঠিত নয়)
৬. যাদের বাজেট কম

আমার মতামত

বাজেট ফোন স্বাভাবিকভাবেই অল ইন ওয়ান হয় না। কারণ দিনশেষে কোন দিকে বেশি দিলে অন্য দিকে কোম্পানিকে কস্ট কাট করতে হবে। তাই চিপসেট কেন এর চেয়ে ভালো দেওয়া হলো না কিংবা এই দামে ৪/৬৪ কেন নয় এই অভিযোগগুলো আমি করতে চাই না। কারণ এটি কোন পারফর্মেন্স সেন্ট্রিক ফোন নয়।
যারা সেরকম কিছু খুঁজছেন, Realme C3, 5i কিংবা আরেকটু কমদামে Walton RX7 Mini আছে। এছাড়া Infinix Hot 8, Redmi 8A, Symphony Z50 সহ অনেক ফোন এই রেঞ্জে আছে। আপনার প্রয়োজন ও বাজেট বুঝে নিজের জন্য ফোন বেছে নিতে পারেন।
Tecno Pouvior 4 এর আকর্ষণ হলো ডিজাইন, ডিসপ্লে, স্টেরিও সাউন্ড আর অবশ্যই হিউজ ব্যাটারী। HD+ রেজ্যুলেশন পাশে সরিয়ে রাখলে এই দিকগুলোতে ফোনটা কিন্তু খুবই ভালো।
১০,০০০ এর উপরের ফোনে জাইরোস্কোপ সেন্সর থাকা উচিৎ বলে আমি মনে করি, সাথে কম্পাস থাকলে আরো ভালো। কেননা, জাইরো সেন্সরের কাজ ডিজাইন, ডিসপ্লে, চিপসেট, র‍্যাম-রম কোনটি দিয়েই হয় না। ৩৬০ ডিগ্রি ছবি বা ভিডিও এক্সপেরিয়েন্সের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সেন্সর।

ছবি ও তথ্য সোর্স: অফিসিয়াল ওয়েবপেজ

0 0 vote
Article Rating
Default image
তাহমিদ হাসান
এইতো, প্রতি ষাট সেকেন্ডে জীবন থেকে একটি করে মিনিট মুছে যাচ্ছে, আর এভাবেই এগিয়ে চলেছি মৃত্যুর পথে, নিজ ঠিকানায়। জীবন বড় অদ্ভুত, তাই না?
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x