Symphony Z28: ৯০০০ টাকায় বেস্ট ডিল?

মাসখানেক আগেই Z30 ফোনটি এনে এন্ট্রি লেভেল মার্কেটে বেশ ভালো সাড়া ফেলেছিলো সিম্ফনি। এবার তারা আনলো Symphony Z28, যেটি প্রায় Z30 এর অনুরূপ, তবে দাম অনেকটা কম। আসলে ডিসপ্লে সাইজ, ক্যামেরা, মেমোরি, স্টোরেজ, চিপসেট, ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজ সব দিক দিয়েই Z28 আর Z30 একইরকম, তবে Z28-এ ব্যাটারী কিছুটা কম আর Z30 এর মত দেখতে প্রিমিয়াম গ্লাস-লাইক নয়।

Symphony Z28-এ থাকছে 6.52″ HD+ IPS ডিসপ্লে, ৩ জিবি র‌্যাম ও ৩২ জিবি রম, Helio A25 চিপসেট, 13+5 (Wide Angle)+2 (Depth)+8 (Selfie) ক্যামেরা ও 4000 mAh ব্যাটারী। এর সরাসরি বলা যেতে পারে কম্পিটিটর হলো Realme C11। তাছাড়া Itel Vision 1 Plus-ও এর কম্পিটিটর হতে পারে। আমরা কম্পারিজনেও আসবো, পোস্টের শেষে।

শুনতে ভালো না লাগলেও, দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর অধিকাংশ ফোনই কিন্তু রিব্র্যান্ড হয়ে থাকে। এটা অবশ্য চাইনীজ মার্কেটে সাধারণ ঘটনা। যেমন আমরা জানি, ওয়ালটনের মার্কেট কাঁপানো RX7 Mini মূলত Nokia X5 এর রিব্র্যান্ড। তেমনিভাবে Z30 ছিলো Wiko View 4 এর রিব্র্যান্ড, সাথে যদিও তারা ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর যুক্ত করেছিলো এবং প্রাইস কাট করতে কিছু সেন্সর বাদ দিয়েছিলো।

এবারের Z28 সেই ফোনটিরই লাইট ভার্সন, Wiko View 4 Lite এর রিব্র্যান্ড, তবে কিছু পরিবর্তন থাকছে। এখানেও যুক্ত হয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, ২ জিবি র‌্যামের পরিবর্তে দেওয়া হয়েছে ৩ জিবি র‌্যাম। কালার অপশনে পরিবর্তন আছে, আরো কিছু ছোটখাট পরিবর্তন। বাংলাদেশের মার্কেট বিবেচনায় ৯০০০ টাকায় এই ফিচারগুলো খুব ভালো সংযোজন ছিলো বলতেই হচ্ছে। সব মিলিয়ে ৯০০০ টাকায় খুব ভালো প্যাকেজ মনে হচ্ছে এটাকে।

 

ডিজাইন ও বিল্ড

Z30-র গ্লাস লাইক ও কালার রিফ্লেকটিং ব্যাকপার্টের জন্য ওটা প্রথম দেখায়ই যেরকম ভালো লেগে যাচ্ছিলো, Symphony Z28 ঠিক ততটা আকর্ষণীয় নয়।  Z30 এর ব্যাকপার্ট রিভিউ দেখার আগে পর্যন্ত আমি গ্লাসই মনে করেছিলাম, যদিও পরে জেনেছি ওটা আসলে গ্লাস নয় (স্যাড ইমো)। অন্যদিকে Z28 দেখে এটা যে প্লাস্টিক বিল্ড তা খুব সহজেই বোঝা যায়।

ফোনটির ডিজাইন সুন্দর বলা যায়, কিন্তু এর বেশি অসাধারণ বা দুর্দান্ত এরকম কিছু বলার সুযোগ নেই। এই দামে এটা ভালোর মধ্যেই পড়বে বিশেষ করে ব্যাকপার্ট প্রায় ফল্যাট, যা আমার পছন্দের সাথে যায়। এর কালারগুলোও পছন্দ হয়েছে। Z28 এর মতই ব্র্যান্ডিং থাকছে ভার্টিকালি। তবে সামনের দিকে চিন এরিয়াটি এখনকার সময়ের সাথে যায় না।

 

ডিসপ্লে

কিছুদিন আগেও 6.52″ ডিসপ্লে হিউজ হিসেবে গণ্য হত। তবে এখন এটা খুব সাধারণ হয়ে গেছে। ৮-১০ হাজারের মধ্যে অনেক ফোনই এরকম বড় ডিসপ্লে অফার করছে। রেজ্যুলেশন অবশ্যই HD+, কেননা এখন পর্যন্ত এই দামে এর থেকে বেশি আশা করা যায় না। আর হ্যাঁ, এটি একটি IPS প্যানেল। যারা বড় ডিসপ্লের ফোন পছন্দ করেন, তাদের জন্য তো বেশ আকর্ষণীয়, তবে যাদের একটু ছোটখাট সহজে বহনযোগ্য কিছু পছন্দ, তাদের জন্য এটা উপযুক্ত নয়।

সিম্ফনির ওয়েবপেজে উল্লেখ আছে এর রেজ্যুলেশন 1440*720, যেটা নিয়ে আমি একটু সন্দিহান। বেশ কিছু কারণ আছে। যেমন, এর অ্যাসপেক্ট রেশিও 20:9, যা 1600*720-এর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। এর PPI 270 লেখা, যা 1600*720 এর দিকে নির্দেশ করে। Wiko View 4 Lite-এও 1600*720 রেজ্যুলেশন। সব মিলিয়ে আমার মনে হয় এটা মিসটেক। তাছাড়া ওয়েবপেজে এখনো Rom 32MB, Connectivity GPS টাইপের মিসটেক রয়েছে। যা হয়ত দ্রুতই ঠিক করে ফেলা হবে।

ক্যামেরা

Z28 এর রেয়ারে থাকছে ৩টি ক্যামেরা। 13 MP মেইন ক্যামেরা ও 2MP ডেপথ সেন্সরের পাশাপাশি তৃতীয় ক্যামেরাটি হলো 5MP আলট্রাওয়াইড। অন্যদিকে সামনে নচে থাকা ক্যামেরাটি 8MP। যেহেতু এই ফোনটি সদ্য রিলিজ হলো, আর আমি নিজে অবশ্যই ফোনটি চালাইনি, তাই এর ক্যামেরা নিয়ে সরাসরি কিছু বলতে পারছি না। তবে এর ক্যামেরা সেটআপ Symphony Z30-র একদমই অনুরূপ, আর সেটির ক্যামেরা কিন্তু ইউজার ও রিভিউয়ারদের বেশ প্রশংসা পেয়েছে।

চিপসেটেও যেহেতু কোন পরিবর্তন নেই, আর না পরিবর্তন আছে ক্যামেরা হার্ডওয়্যারে, কাজেই Z30-র মতই ভালোমানের ছবি Z28 থেকে পাওয়া যাবে বলে আমার বিশ্বাস। বিশেষ করে, এই দামে আর কোন ডিভাইস আল্ট্রাওয়াইড লেন্স দিচ্ছে বলে আমার জানা নেই। ক্যামেরাতে স্লো-মোশন রেকর্ড করার অপশন রয়েছে।

চিপসেট

Helio A25 এবছরই বের হওয়া একদমই এন্ট্রি লেভেলের একটি চিপসেট। Z30 তেও এটাই ব্যবহার করা হয়েছিলো, এবং এর বেঞ্চমার্ক স্কোর একদমই কম। যখন আমি Geekbench-এ এর স্কোর সিঙ্গেল কোর ও মাল্টিকোর স্কোর যথাক্রমে 123 ও 443 দেখলাম, আমি অনেকটা টাস্কিত হয়ে গেছিলাম, কেননা এতটা কম স্কোর একদমই এক্সপেক্টেড ছিলো না। এন্ট্রি লেভেলের জাতীয় চিপসেট Unisoc SC9863A থেকেও এর স্কোর অনেক কম।

তবে কিনা বেঞ্চমার্ক সব কথা বলে না। A25 12nm আর্কিটেকচারে বিল্ড করা একটি অক্টাকোর চিপসেট, যার কোরগুলো চারটি করে দুটি ক্লাস্টারে বিভক্ত, যাদের ক্লকস্পিড 1.8 GHz ও 1.5 GHz। সবগুলো কোর Arm Cortex-A53। এর সাথে জিপিইউ রয়েছে IMG PowerVR GE8320, যার ক্লকস্পিড 600MHz।

যদি আরেকটু বেটার কোন চিপসেট, যেমন P22 (G25), P35 (G35) ব্যবহার হত, তাহলে আরেকটু ভালো হত সম্ভবত। তবে ইউজার ফীডব্যাক থেকে বলছি, খুব খারাপ হবে না এর পারফর্মেন্স। ডে টু ডে টাস্ক থেকে মোটামুটি গ্রাফিক্স ইনটেন্সিভ টাস্ক ভালোভাবেই সামলাতে পারবে। আর তাছাড়া এর ক্যামেরা প্রসেসিং ও আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স বেশ ভালো এবং ব্যাটারী সেভিং একটি চিপসেট।

মেমোরি ও স্টোরেজ

এখানে র‌্যাম দেওয়া হয়েছে ৩জিবি LPDDR4 র‌্যাম ও রম থাকছে ৩২ জিবি। Wiko View 4 Lite থেকে এটা একটা আপগ্রেড, সেখানে ২/৩২ দেওয়া হয়েছিলো। বাংলাদেশের মার্কেটে ৩ জিবি র‌্যাম এই দামে দেওয়াটা প্রয়োজন ছিলো। রিয়েলমি সি১১ কিন্তু ঠিক এখানেই সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে গেছে, কেননা, ৯০০০ টাকায় ২/৩২ অফার করছে তারা। আর এই ফোনের স্টোরেজ এক্সপেন্ড করা যাবে ১২৮ জিবি পর্যন্ত।

ব্যাটারী

এখানে দেওয়া হয়েছে 4000 mAh ব্যাটারী, যেটা কিছুদিন আগেও হিউজ হিসেবে ধরা হত। তবে এখন এন্ট্রি লেভেলে 5000 mAh সাধারণ হয়ে গেছে। এন্ট্রি লেভেল ফোনগুলোতে ২টা জিনিস সাধারণত মিড বাজেট এমনকি ফ্ল্যাগশিপ থেকেও বেশি থাকে, ব্যাটারী আর ইয়ারফোন পোর্টের কথা। তো যাই হোক, 4000 mAh কম নয়, স্বাভাবিকভাবেই এক-দেড় দিন সাধারণ ব্যবহারকারীদের এমনিতেই চলে যাবে। HD+ ডিসপ্লে, লো ক্লকস্পিডের 12nm চিপ থাকায় এটি ব্যাটারীও খুব বেশি নেওয়ার কথা নয়।

সফটওয়্যার

Android 10 দেওয়া হয়েছে Symphony Z28-এ। ফলে ডার্ক মোডসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া যাবে। সিম্ফনি বরাবরই অলমোস্ট স্টক ইউআই ব্যবহার করে আসছে। সাথে Digital Wellbeing, Smart Control, One Hand Mode, Lift to Wake-up, Smart Action ও Smart Gesture এরকম কিছু ফিচার যুক্ত রয়েছে।

সেন্সর

বরাবরের মতই সিম্ফনি এখানে হতাশ করতে ভুলেনি। শুধুমাত্র প্রক্সিমিটি, লাইট ও গ্রাভিটি সেন্সর থাকছে। কোন ম্যাগনেটোমিটার বা জাইরোস্কোপ সেন্সর থাকছে না। ম্যাগনেটোমিটার প্রয়োজন হয় কম্পাস ব্যবহারে আর জাইরোস্কোপ 360° ছবি/ভিডিও (যেমন গুগল ম্যাপ স্ট্রিট ভিউ) দেখতে সাহায্য করে। আমার মনে হয় ম্যাগনেটোমিটার খুব জরুরী না, তবে জাইরো সেন্সরটা থাকা অবশ্যই উচিৎ। অবশ্য এই দামে RX7 Mini বাদে কোন ফোনেই এই সেন্সর চোখে পড়েনি।

এক্সটেরিয়র

ফোনটি দুটো গ্র্যাডিয়েন্ট কালারে আনা হয়েছে। Caribbean Blue, Cranberry Red। সিম্ফনি Z15 সহ বিভিন্ন ফোনের কালার হিসেবে এই নাম দুটো ব্যবহার করেছে, যদিও তাদের কালার টোন, গ্র্যাডিয়েন্টের ধরণ এক নয়। এবারের Cranberry Red কালারটি খয়েরি ধরণের। স্মার্টফোনে এরকম কালার অনেকটা নতুন মনে হচ্ছে। ফোনটির সাইজ 166.2 x 76.3 x 8.4। ব্যাটারী কম হওয়ার সাথে থিকনেসও Z30 এ 8.9mm থেকে থেকে একটু কম।

 

অন্যান্য

এখানে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর থাকছে। আর সফটওয়্যার বেজড ফেস আনলক তো এখন সব ফোনেই থাকে। কতটা জরুরী জানি না, তবে একটা ডেডিকেটেড গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট বাটন রয়েছে। এই বাটনটিতে অন্য প্রোগ্রাম সেট করা যাবে কিনা এরকম কিছু উল্লেখ পাইনি, সম্ভবত যাবে না। চার্জিংয়ের জন্য থাকছে মাইক্রোইউএসবি টাইপ বি, এই বাজেটে আমার এটা নিয়ে কোন আপত্তি নেই। আর অত্যন্ত জরুরী বিষয়, এখানে থাকছে নোটিফিকেশন লাইট।

অবশ্যই এটি একটি 4G VoLTE সুবিধাযুক্ত ফোন। এখানে ন্যানো সিম কার্ড ব্যবহার করা যাবে দুটি। থাকছে ডেডিকেটেড মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট।

দাম

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে এই স্মার্টফোনটির নির্ধারিত মূল্য ৯০০০ টাকা। অবশ্য পুরো ৯০০০ না, ১০ টাকা কম আরকি 😕

Z30 নাকি Z28?

কথায় বলে আগে দর্শনধারী, এরপর গুণবিচারী। আপনি যদি এই কথায় বিশ্বাসী হয়ে থাকেন, তাহলে সম্ভবত ৮০০ টাকা বেশি খরচ করে Symphony Z30 স্মার্টফোনটি বেছে নিতে চাইবেন। Z30 এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিলো এর ডিজাইন। আমার দৃষ্টিতে ১০ হাজারের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ডিজাইন সেটিতেই রয়েছে। আর প্রথম নজরে ভালো লেগে যাওয়াটা কিন্তু বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে Z28 এর ডিজাইন খারাপ নয়, তবে ওরকম অসাধারণ কিছুও নয়। বাহিরের রূপে কী যায় আসে মর্মে বিশ্বাসী হলে Z28 সম্ভবত বেটার ডিল হতে পারে। শুধুমাত্র ব্যাটারীটা 1000 mAh কম, এই যা। এজন্য পুরো ৮০০ টাকা বেঁচে যাচ্ছে। সবশেষে বলবো, বাজেট যদি ৯০০০ টাকা হলে ৮০০ টাকা বাড়ানোর খুব বেশি প্রয়োজন নেই। আর বাজেট বেশি হলে Z30 নেওয়া যেতে পারে।

Realme C11 নাকি Z28?

একই দামে Realme C11 বেছে নেওয়ার কারণ হতে পারে ব্র্যান্ড হিসেবে যদি আপনার সিম্ফনি অপছন্দ হয়। এছাড়া Z28 যেহেতু সদ্য রিলিজ হলো, ইউজার ফীডব্যাক কেমন আসে সেটিও দেখার বিষয়। C11-এর আইফোন স্টাইল ক্যামেরা বাম্প ও ভিন্নধর্মী ডিজাইন অনেকেরই পছন্দ হবে, যদিও আমার পছন্দের সাথে খুব বেশি যায়নি।

এরপর C11 এর আরেকটি বেটার সাইড হলো চিপসেট। এখানে আছে Helio G35 (নতুন মোড়কে P35)। এটিও এন্ট্রি লেভেলের, তবে A25 থেকে অনেকটা পাওয়ারফুল। কিন্তু যখন C11-এ র‌্যাম মাত্র ২ জিবি, তখন SD865+ দিলেও আসলে বিশেষ লাভ নেই। র‌্যামের অভাবটা ফিল করতেই হবে। তো, Z30-র ৩ জিবি র‌্যাম + A25 কম্বিনেশন সম্ভবত C11-র ২ জিবি র‌্যাম + G35 কম্বিনেশন থেকে বেটার পারফর্মেন্স ডেলিভার করবে।

এছাড়া C11-এ ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর মিসিং। আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা নেই। নোটিফিকেশন লাইট নেই। ফ্রন্ট ক্যামেরা 5MP। সব মিলিয়ে আমার কাছে Z28 বেটার অপশন মনে হয়েছে। তবে আপনি যদি C11 পছন্দ করেন, অবশ্যই আপনি আপনার পছন্দের ফোন নিবেন, আমার পছন্দের নয়।

Itel Vision 1 Plus নাকি Z28?

Itel Vision 1 Plus এর দুটি এডিশন আছে। ২/৩২ ও ৩/৩২, দাম যথাক্রমে ৮৫০০ ও ৯৫০০ টাকা। চিপসেট রয়েছে Unisoc SC9863A, যেটার সিপিইউ A25 থেকে বেটার, তবে ক্যামেরা প্রসেসিং, AI এবং বিভিন্ন ফিচারে A25 থেকে পিছিয়ে থাকে। ৫০০ টাকা বেশি দামে আসলে ৩/৩২ এডিশনটি বেশি কিছু অফার করছে না। তাছাড়া সফটওয়্যার রয়েছে Android Pie। এখানে থাকছে না আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা। ডিজাইনটা অবশ্য ভালোই, এটাও আইফোন স্টাইল, তবে C11 থেকে আমার পার্সোনালি বেশি ভালো লেগেছে। নোটিফিকেশন লাইটও সম্ভবত নেই।

RX7 Mini নাকি Z28?

RX7 Mini একদমই অন্য ক্যাটাগরীর। ৯৫০০ টাকায় এই ফোনটি অফার করছে এই বাজেটের মধ্যে সেরা চিপসেট Helio P60। আছে প্রিমিয়াম গ্লাস বিল্ড বডি, গরিলা গ্লাস প্রটেকশনসহ। আর জাইরোস্কোপ, কম্পাসসহ প্রয়োজনীয় সব সেন্সরও দিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা এই দামের ফোনগুলোতে দুষ্প্রাপ্য। কাজেই এই দিকগুলো যদি গুরুত্বপূর্ণ হয়, অবশ্যই RX7 Mini সাজেস্টেড।

অন্যদিকে Z28-এ রয়েছে 6.5″ বড় ডিসপ্লে, ওয়াটারড্রপ নচ, 4000 mAh ব্যাটারী, আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা, Android 10, সুন্দর ডিজাইনসহ বেশ কিছু ফিচার যা অনেকের জন্যই আকর্ষণীয়। আপনি কোন দলে তার উপরে নির্ভর করছে RX7 Mini নাকি Z28 কোনটি আপনার জন্য। অন্যদিকে ৫০০ টাকা দামের পার্থক্যও কিন্তু রয়েছে।

অভিমত

আমার কাছে এটিকে একটি কমপ্লিট প্যাকেজ মনে হয়েছে এই দামের মধ্যে। আমি একটা কথা বলি, বাজেট ফোনে একদিকে বেশি দিতে হলে অন্য কোথাও অবশ্যই প্রাইস কাট করতে হবে। এই দামে আপনি এর থেকে বেশি ব্যাটারী পাবেন, এর থেকে ভালো চিপসেট পাবেন কিন্তু তখন দেখা যায় র‍্যাম দেওয়া হয়েছে ২ জিবি। তো, সিম্ফনি কিন্তু এই ফোনের ক্ষেত্রে সবদিকে একটা ব্যালেন্স রেখেছে আমি বলব।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা উল্লেখ করা আমি জরুরী মনে করি, স্মার্টফোনের অনেক দিক অভিজ্ঞতা ছাড়া বলা যায় না। আমি ফোনটি চালাইনি। কাজেই এমন কোন ত্রুটি যদি থাকে যা স্পেক দেখে বোঝা সম্ভব নয়, তা কিন্তু এই পোস্টে উল্লেখ নেই। আমার কাছে এই দামে এটা বেস্ট একটি ডিল বলেই মনে হচ্ছে। যদিও এটি কোন পারফর্মেন্স সেন্ট্রিক ফোন নয়, এটা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

আপনার কাছে স্মার্টফোনটি এবং আমাদের এই পর্যালোচনা কেমন লেগেছে কমেন্ট সেকশনে জানিয়ে দিতে একদমই ভুলবেন না। কোন তথ্য ভুল থাকলেও অবহিত করুন, সাথে কোন কিছু বাদ পড়লে সেটিও জানিয়ে দিন, ইন শা আল্লাহ আপডেট করে দেওয়া হবে।

©হযবরল.বাংলা

ছবি ও তথ্য: অফিসিয়াল ওয়েবপেজ

0 0 vote
Article Rating
Default image
তাহমিদ হাসান
এইতো, প্রতি ষাট সেকেন্ডে জীবন থেকে একটি করে মিনিট মুছে যাচ্ছে, আর এভাবেই এগিয়ে চলেছি মৃত্যুর পথে, নিজ ঠিকানায়। জীবন বড় অদ্ভুত, তাই না?
Subscribe
Notify of
guest
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
trackback
11 days ago

[…] বড় ডিসপ্লে পছন্দ করেন তাদের জন্য Symphony Z28 বা Itel Vision 1 Plus বা Realme C11 এর মত কিছু অপশন […]

1
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x