ফিরে এলো Z! Symphony Z15, সিম্ফনির নতুন চমক!

Z, সিম্ফনির ফ্ল্যাগশিপ সিরিজ। এই সিরিজে এর আগেও তারা ভালো কিছু নিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিন পর, আবার তারা Z সিরিজের ফোন নিয়ে আসছে, Z is back!

Symphony Z15, সিম্ফনি অনেকদিন পর চমকপ্রদ কিছু আনতে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। Z সিরিজে তাদের সর্বশেষ রিলিজ Z10 ছিলো তাদের প্রথম ন্যারো বেজেল স্মার্টফোন। আর এবার তারা Z15 ফোনটিতে প্রথমবারের মত ছোট এবং সুন্দর একটি ওয়াটারড্রপ নচ যুক্ত করছে।

সিম্ফনি ব্র্যান্ড অবশেষে তাদের ফোনে ওয়াটারড্রপ নচ নিয়ে এসেছে, থাকছে 6.09” বড় ডিসপ্লে, 1.6 GHz Octa Core প্রসেসর, 4000 mAh বড় ব্যাটারি ,চমৎকার লুক আর সবকিছু একটা দুর্দান্ত দামে! পোস্ট লেখার সময় পর্যন্ত ফোনটি তাদের ওয়েবসাইটে আপকামিং সেকশনে দেখা যাচ্ছে, তবে বাজারে অল্পদিনের মধ্যেই চলে আসার কথা।

Z সিম্ফনির ফ্ল্যাগশিপ সিরিজ, এবং ২০১৯ সালে রিলিজ হওয়া সিম্ফনির সবচেয়ে দামী স্মার্টফোন Z15। তবে আসলে ফোনটি বর্তমান হিসেবে জাস্ট একটা এন্ট্রি লেভেল বাজেট ফোন। ৯,৪৯০ টাকা, দামটা অবশ্যই আপনাকে মাথায় রাখতে হবে পুরো আলোচনা জুড়ে।

তাদের পূর্বের সব স্মার্টফোন থেকে বড় ধরণের পার্থক্য দেখা যাবে এই ডিভাইসে। আর সত্যিই তারা অবশেষে সম্ভবত গ্রাহকদের মনের মত কিছু আনতে যাচ্ছে। সুন্দর ডিজাইন, বড় ব্যাটারী, ভালো প্রসেসর, বড় ডিসপ্লের সাথে দামও বেশ মানানসই মনে হচ্ছে।

ফোনটি এখনও বাজারে আসেনি। তবে, এখন পর্যন্ত যা জানি, তা নিয়ে এই লেখায় ফোনটি নিয়ে বেশ ভালো ধারণা দিতে পারবো আশা করছি। চলুন জেনে নিই, সিম্ফনি তাদের Z15 ফোনটিতে কী অফার করছে।

ডিজাইন

এবার তারা ডিজাইনে বেশ নতুনত্ব এনেছে। নচ ডিসপ্লে অনেকেরই পছন্দ, সময়ের দাবিও বলা চলে। Helio S60 তে বিশাল একটা নচ বাদে এর আগে দেশীয় কোন ডিভাইসে নচ চোখে পড়েনি। এবারই সম্ভবত দেশীয় ব্র্যান্ডের কোন ডিভাইস প্রথম ওয়াটারড্রপ নচ নিয়ে এলো। ছোট ও সুন্দর নচটি U শেপ। নচের সাথে সহনীয় বেজেল, তবে চিন এরিয়া কিছুটা বড়।

ব্যাক সাইডে গ্র্যাডিয়েন্ট কালারিং করা হয়েছে। যদিও এটা নতুন কিছু নয়, তবে সিম্ফনির জন্য প্রথমবার। এবং গ্রাডিয়েন্ট কালারিংটা তারা আসলেই খুব সুন্দরভাবে করেছে।

দুটি কালার ভ্যারিয়েশনে এভিলেবল ফোনটি, ব্লাক+ক্যারিবিয়ান ব্লু ও ব্লাক+ক্যানবেরি রেড। ভার্টিকালি ক্যামেরা ও ফ্ল্যাশ যুক্ত করা হয়েছে। বেশ সুন্দর দেখাচ্ছে আমার চোখে।

সব মিলিয়ে কোন দিক থেকেই এই দামে ফোনটির ডিজাইন নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকছে না। একদমই না!

ডিসপ্লে

এই ফোনে থাকছে 6.09″ IPS ডিসপ্লে। 19.5:9 অ্যাসপেক্ট রেশিওর ডিসপ্লেটির রেজ্যুলেশন 1560*720 অর্থাৎ, HD+। 282 PPI এর ডিসপ্লেটি বিশেষ কিছু না। বাজেট অনুযায়ী ঠিকই আছে বলব।

পারফর্মেন্স

ভালো ব্যাপারটা হলো, অবশেষে সিম্ফনি 1.3 GHz Quad Core প্রসেসর থেকে বেরিয়ে এসে Unisoc এর sc9863a মডেলের প্রসেসর যা একটি 28 nm 1.6 GHz ক্লক স্পিডসম্পন্ন অক্টাকোর প্রসেসর। এতে AI ক্ষমতা থাকছে। GPU থাকছে IMG 8322। AI প্রসেসর হওয়ায় ক্যামেরা সেকশনে এডভান্টেজ পাওয়া যাবে।

এর সাথে র‌্যাম থাকছে ২ জিবি DDR4 র‌্যাম। আর সবকিছুর দিকে দেখলে, এটা ৩ জিবি হলে কম্বিনেশন পারফেক্ট হত। কিন্তু হয়তো, দাম ১০ এর নিচে রাখতে গিয়ে এটা কম্প্রোমাইজ করা হয়েছে। এটার একটা ৩ জিবি ভ্যারিয়েশন পরবর্তীতে বের করলে ভালো হয় মনে করি।

র‌্যাম কিছুটা কম হলেও, তা DDR4, এর সাথে 1.6 GHz অক্টাকোর প্রসেসর মিলিয়ে পারফর্মেন্স ভালোই হবে আশা করা যায়। তবে PUBG সহ ভারি গেমগুলো খেলতে চাইলে, this device is not for you!

স্টোরেজ

সাধারণত র‌্যাম-রম ২-১৬, ৩-৩২ এরকম কম্বিনেশন দেখা যায়। তবে সিম্ফনি র‌্যাম ২ দিলেও এর সাথে রম ঠিকই ৩২ জিবি দিয়েছে। তাছাড়া দুটি ন্যানো সিমের সাথে ফোনটিতে ডেডিকেটেড SD Card স্লট থাকছে। তাই স্টোরেজ ১২৮ জিবি পর্যন্ত বাড়িয়ে নেওয়া যাবে।

ব্যাটারি

ফোনটিতে 4000mAh Li-Polymer ব্যাটারি সংযুক্ত রয়েছে, যেটি নন রিমুভেবল। তাছাড়া ডিসপ্লে রেজ্যুলেশন HD+ হওয়ায় বেশ দীর্ঘ সময় ব্যাকআপ পাওয়া যাবে। ডে টু ডে ইউজে এক চার্জে একদিনের বেশি চলে যাওয়ার কথা। স্ট্যান্ডবাই মোটামুটি ২৬৫ ঘন্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ পাওয়া যাবে বলে সিম্ফনি ক্লেইম করছে।

ক্যামেরা

এই ফোনের AI প্রসেসরের কারণে ছবি তোলায় এডভান্টেজ পাওয়া যাবে। ইমেজ প্রসেসিংয়ের জন্য এই ফোনের প্রসেসর বেশ ভালো। এই ক্যামেরায় ওয়েল ডিটেইলড উজ্জল প্রাণবন্ত ছবি তোলা যাওয়ার কথা। AI সিন ডিটেক্ট করে সে অনুযায়ী ছবি প্রসেস করতে সক্ষম।

রিয়ারে 13MP প্রাইমারী ক্যামেরার সাথে থাকছে 2MP ডেপথ সেন্সিং ক্যামেরা। ফলে পোর্টেট ছবি ভালো আসবে। ক্যামেরা দুটির অ্যাপার্চার যথাক্রমে f/2.0 ও f/2.4। তবে ফ্রন্ট ক্যামেরা মাত্র 5MP, যেটা অন্তত 8MP হলে মানানসই হত। এর অ্যাপার্চার f/1.9।

ক্যামেরাতে থাকছে Sony সেন্সর। ভিডিও ক্যাপচারের ক্ষেত্রে এই ফোনে সর্বোচ্চ 1080p 30fps পর্যন্ত রেকর্ডিং করা যাবে।

সিক্যুরিটি

ফোনটিতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সিক্যুরিটি থাকছে। এর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটি মাল্টি ফাংশনাল। অর্থাৎ, ফোন আনলকের পাশাপাশি এতে ছবি ক্যাপচার, ন্যাভিগেশন জাতীয় ফাংশন থাকবে। খুব ছোট হলেও, এটা ব্যবহারিক ক্ষেত্রে অনেক কাজে দেয়।

পাশাপাশি টিপিক্যাল ক্যামেরা বেজড ফেস আনলক থাকছে। যা 0.7 সেকেন্ড সময়ের মধ্যে ফোন আনলক করবে বলে সিম্ফনি জানাচ্ছে।

অন্যান্য

ফোনটির বিল্ড ম্যাটেরিয়াল জানতে পারিনি। এই বাজেটে যদিও প্লাস্টিকই এক্সপেক্ট করব। ওয়েবসাইটে বলা আছে MTC Back Cover, এটা আসলে কী বোঝাচ্ছে এখন পর্যন্ত জানা নেই। ফোনটি অবশ্যই ফোরজি সমর্থিত। এতে বর্তমানের লেটেস্ট অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন, Android 9.0 Pie পেয়ে যাবেন। Fingerprint, Gravity(3D), Proximity ও Light Sensor এতে থাকছে। অর্থাৎ, Compass, Gyroscope প্রভৃতি সেন্সর মিস করবেন।

ফোনটিতে স্মার্ট কন্ট্রোল রয়েছে, যেমন, Smart Gesture, Smart Motion, Smart Action, Pocket Mode। এক হাতে ব্যবহারের জন্য থাকছে One Hand Mode ।

কেমন হতে যাচ্ছে?

সিম্ফনির সাম্প্রতিক কার্যকলাপ লক্ষ্য করলে দেখবেন Symphony i120 এর পর তারা ৯-১০ হাজারে কোন ফোন আনেনি, বরং ৫ থেকে ৭ হাজার বাজেটকে বিশেষভাবে টার্গেট করেছে। গত ৭-৮ মাসে তাদের রিলিজকৃত সর্বোচ্চ দামি ফোনটি ছিল Symphony i95, রিলিজের সময় ৭৯৯০ টাকা, অতি সম্প্রতি দাম কমিয়ে এখন ৬৯৯০ টাকা।

একসময়ের বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান স্মার্টফোন ব্র্যান্ড সিম্ফনি মার্কেটে তাদের আধিপত্য অনেক আগেই হারিয়েছে। শুধু লো বাজেটে i95, i65 ও R40 সহ কিছু মডেল কিছুটা বাজার পেয়েছে।

খুবই স্বাভাবিক, কারণ অনর, হুওয়ায়ে, শাওমি, অপ্পো এমনকি স্যামসাং যখন মিড বাজেটে দুর্দান্ত সব ফোন নিয়ে আসছে, সিম্ফনি এসময় বাজেট অনুযায়ী মন জয় করার মত তেমন কোন ফোনই আনতে পারেনি।

তাছাড়া, 1.3 GHz Quad Core প্রসেসরের প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসা, কম ব্যাটারী, সফটওয়্যার আপডেট না আসা, ট্রেন্ডি নচযুক্ত ফোন না আনা সহ সমস্যাগুলোর কারণে সিম্ফনি স্বাভাবিকভাবেই পিছিয়ে পড়েছে।

এই সময়ে এরকম একটা ফোন সিম্ফনির আনা খুবই প্রয়োজন ছিলো। ফোনটি রিলিজ হওয়ার আগেই বেশ সাড়া ফেলেছে। এই বাজেটের অন্য ফোনগুলোর সাথে কম্পেয়ার করলে এই ফোনটি অনেকের চেয়ে এগিয়ে থাকবে।

তাছাড়া, নচ, গ্রাডিয়েন্ট ডিজাইন, AI প্রসেসর, ডুয়াল রিয়ার ক্যামেরা সহ মডার্ণ ট্রেন্ডগুলো নিয়ে আসায় ফোনটি বিশেষ আকর্ষণীয় হয়েছে। সব মিলিয়ে ৯-১০ হাজার টাকা বাজেটে ফোনটি মোটামুটি সব চাহিদায় পূরণ করবে।

যদি আমার মতামত চাওয়া হয়, এই প্রাইসে এই ফোন নেওয়া উচিৎ হবে কিনা, তবে আমার এখনই কিছু বলার নেই। কারণ ফোনটি আমি চোখেও দেখিনি এমনকি এখনও রিলিজও হয়নি। তাই কিনতে চাইলে পরামর্শ হবে, অপেক্ষা করুন। রিলিজ হতে দিন, রিভিউয়ারদের রিভিউ করতে দিন, এরপর রিভিউ দেখে সিদ্ধান্ত নিন।

আর ফোনটি কবে রিলিজ হবে তা আমি নিশ্চিত নই। তবে, ফেসবুকে কোন এক জায়গায় দেখেছিলাম, ৩০ মে মানে ৩ দিন পরেই এটি বাজারে চলে আসবে।

সোর্স

About the Author: তাহমিদ হাসান

এইতো, প্রতি ষাট সেকেন্ডে জীবন থেকে একটি করে মিনিট মুছে যাচ্ছে, আর এভাবেই এগিয়ে চলেছি মৃত্যুর পথে, নিজ ঠিকানায়। জীবন বড় অদ্ভুত, তাই না?

You May Also Like

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of