আমার নতুন মনিটর: SAMSUNG SF350

হ্যাঁ ভাই, ২০১৯ সালের শেষে এসে অবশেষে আমি সিআরটি থেকে এলইডিতে সুইচ করলাম। প্রায় ১৪ বছর ধরে আমার সঙ্গী Samsung SyncMaster 793s কে অবশেষে বিদায় জানালাম।

২০০৫-০৬ সালের দিকে আমাদের ঘরে প্রথম কম্পিউটার আসে। তখন কনফিগারেশন ছিলো যতটুকু মনে পড়ে, ৫১২ মেগাবাইট র‌্যাম, ৮০ জিবি স্টোরেজ, পেন্টিয়াম ফোর প্রসেসর। হ্যাঁ, এখন হাস্যকর হলেও তখনকার সময়ে বেশ ভালো কনফিগারেশন। আর অবশ্যই এতে ছিলো উইন্ডোজ এক্সপি, আহ!

সেই সময় থেকেই SyncMaster 793s মনিটরটি আমার সঙ্গী। ২০১২ সালের দিকে পিসির কনফিগারেশন কিছুটা উন্নত করা হয়। ২ জিবি র‌্যাম, ১ টেরাবাইট স্টোরেজ, কোর আই থ্রি প্রসেসর। সময়ের সাথে মাউস, কী-বোর্ড, সিপিইউ, প্রিন্টার এগুলো বদলে গেলেও মনিটর আর সাউন্ডবক্সটা বদলেনি। মনিটরটা অবশেষে পরিবর্তন হলো যদিও… সাউন্ডবক্সের একটা স্পিকার গেছে অবশ্য!

যাই হোক, ২০১৯ সালে এসে সিআরটি কতটা বেমানান, তা ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন। তবে তার চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছিলো, মনিটরটা বেশ সমস্যা করত। যেমন অনেকসময় খুললে শুরুতে একদম ডার্ক হয়ে থাকে। কিছুই দেখা যায় না। কয়েক মিনিট ধরে আস্তে আস্তে ব্রাইটনেস বাড়ে। এটাও তেমন কিছু না। তবে বেশি সমস্যা হচ্ছিলো, ডিসপ্লেতে কনটেন্টগুলো একদমই অস্পষ্ট দেখাতো। ব্রাইটনেস কনট্রাস্ট কম রাখলে কিছুটা বোঝা যেত, তবে এমনিতে লেখাগুলো বোঝা কঠিন হয়ে যেত। সময় কি আর কাউকে ছাড় দেয়?

চোখের উপরও বেশ চাপ পড়ত অবশ্যই। তবে বাপের হোটেলে থাকি। চাহিবামাত্র না পাওয়া গেলেও, প্রয়োজনের জিনিসগুলো পাওয়া যায়, হয়ত একটু দেরিতে… মনিটরের কথায় আসি।

আমার মনিটরটি হলো Samsung LED Monitor 19। তবে এটা আসলে একটা 18.5″ মনিটর, 19″ নয়। মনিটরটির মডেল SF350। এটি একটি LED মনিটর। ডিসপ্লে টাইপ PLS। PLS ডিসপ্লে মূলত IPS এর একটা বিশেষ প্রকার। PLS আর IPS এর পার্থক্য বুঝতে এটা দেখতে পারেন।

মনিটরটি 16:9 অ্যাসপেক্ট রেশিওর। রেজ্যুলেশন 1366*768। স্কয়ার মনিটর ইউজ করেছি এতদিন। কাজেই সম্পূর্ণ নতুন ধরণের একটা ফিল পাচ্ছি। আমার আগের ১৭” মনিটরের চেয়ে গাণিতিকভাবে ১৮.৫” যদিও তেমন বেশি নয়, বিশেষ করে এটা উচ্চতায় আগেরটার চেয়ে বেশ খানিকটা ছোট। কিন্তু এটা ওয়াইডস্ক্রিন হওয়ায় মনে হচ্ছে অনেক বড় একটা মনিটরের সামনে বসে আছি।

ডিজাইনের দিক দিয়ে বেশ সিম্পল। চারদিকে সহনীয় বেজেল, নিচের দিকে স্যামসাং লোগো। আর বেজটি বৃত্তাকার।

মনিটরটির বেস্ট পার্টটি হলো, এই দামের অনেক মনিটরে নেগেটিভিটি সমস্যা থাকলেও এতে নেই। 178° Viewing Angle হওয়ায় যেকোন কোণ থেকে দেখলে কোন নেগিটিভিটি চোখে পড়ছে না।

আর কনটেন্টগুলো সেই লেভেলের লাগছে। বুঝতেই পারছেন, ১৪ বছর সিআরটি চালানোর অসামান্য অভিজ্ঞতা… ফুলস্ক্রিনে 16:9 অ্যাসপেক্ট রেশিওর ভিডিও দেখার অনুভূতি অন্যরকম।

যদি বিল্ডের কথা বলি, সত্যি বলতে, আমার আগের সিআরটি মনিটরের তুলনায় বেশ পলকা মনে হচ্ছে। তৈরি অবশ্যই প্লাস্টিকে। হালকা পাতলা হওয়ায় কী-বোর্ডে দ্রুত লেখালেখির সময় বা টেবিলে ধাক্কা লাগলে নড়াচড়া করে। তবে, এরপরও আশা করছি, এটা দিয়ে আরো ১৪ বছর চলে যাবে…

আমার আগের মনিটরে ডানদিকে ৫ টি বাটন ছিলো। একটি মেনু/ব্যাক বাটন, একটি সিলেক্ট বাটন, দুটি আপ ডাউন বাটন ও সবশেষে পাওয়ার বাটন। মজার ব্যাপার হলো, নতুটনাতে পেছনে ডানদিকে একটিমাত্র বাটন আছে। অনুমান করতে পারছেন নিশ্চয়ই, বাটনটি একটু স্পেশাল। হ্যাঁ, এটা খানিকটা রিমোট কন্ট্রোল গাড়ির জয়স্টিকের মত। প্রেস করা যায় এবং চারদিকে ঘোরানো যায়। অর্থাৎ, একাই ৫ টি বাটনের কাজ করে।

বাটনটি উপরে বা নিচে নিলে ব্রাইটনেস, কনট্রাস্ট, শার্পনেস অপশনগুলো আসে। ডানে বা বামে নিলে স্ক্রিন এডজাস্টমেন্ট হয়, যেটা কখনো বিরক্তির কারণ হয়। কারণ অনেক সময় প্রেস করতে গিয়ে ডানে বা বামে চলে যায়। প্রেস করলে মেনু আসে।

মনিটরের আরেকটা ফিচার হলো আই সেভার মোড। এটা স্ক্রিনের ওয়ার্ম লাইট থেকে আপনাকে রক্ষা করবে। এখন বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমে এই মোডটা যুক্তই থাকে। তবুও মনিটরে আলাদাভাবে যুক্ত থাকায় খুব সহজেই এনাবল ও ডিজেবল করা যায়। তাছাড়া যদি মনিটরটিতে টিভি দেখেন, তখন এই সিস্টেমটি কাজে দিবে।

মনিটরের দাম এখনো বলা হয়নি। এর বক্সের গায়ে লেখা আছে ৬৪০০ টাকা এবং আমি কিনেছি ৬১০০ টাকায়। সব মিলিয়ে মনিটরটি বাজেট অনুযায়ী বেশ মনে ধরেছে। অবশ্য, যে ১৪ বছর সিআরটি চালিয়েছে, তার ভালো না লাগারও কারণ নেই…

About the Author: তাহমিদ হাসান

এইতো, প্রতি ষাট সেকেন্ডে জীবন থেকে একটি করে মিনিট মুছে যাচ্ছে, আর এভাবেই এগিয়ে চলেছি মৃত্যুর পথে, নিজ ঠিকানায়। জীবন বড় অদ্ভুত, তাই না?

You May Also Like

1
Leave a Reply

avatar
1 Comment threads
0 Thread replies
0 Followers
 
Most reacted comment
Hottest comment thread
1 Comment authors
Jsjs Recent comment authors
  Subscribe  
newest oldest most voted
Notify of
Jsjs
Guest
Jsjs

Test