Redmi 9A: এটা মানুুষ কেন কিনবে? (+কম্পারিজন)

শাওমি আজ বাংলাদেশে নিয়ে এলো তাদের নতুন স্মার্টফোন Redmi 9A, আর আমি ভেবে পাচ্ছি না, কী এমন দুঃখ থাকতে পারে, যার জন্য কেউ এই ফোনটা কিনবে? ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরবিহীন ২ জিবি র‌্যামের ফোন ৯,৯৯৯ টাকা, সিরিয়াসলি?

এখন বলা হতে পারে শাওমির ফ্যাক্টরী নেই দেশে, অনেক ট্যাক্স দিতে হয়, তাই দাম বেশি। কিন্তু ভাই, মার্কেটে এই দামে যদি অনেক বেটার অপশন থাকে, তাহলে কে ১৭% ট্যাক্স দিলো আর কে ৫৭% সেটা তো ভোক্তার দেখার বিষয় না, তার দরকার কম দামে ভালো কিছু। আর শাওমিকে ফ্যাক্টরী দিতে তো মানাও করা হয়নি।

তো যাই হোক, ফোনের কথা বলি, ফোনটির দুটি ফিচার খুব বড় করে হাইলাইট করা হয়েছে, 6.53″ বিগ ডিসপ্লে আর 5000 mAh বিগ ব্যাটারী। কিন্তু ৮০০০-১০০০০ এর মধ্যে Itel Vision 1 Plus, Realme C11, Symphony Z30-ও এরকম বড় ডিসপ্লে ও ব্যাটারী দিচ্ছে। তাই দামকে জাস্টিফাই করার জন্য এই ফিচারদুটো যথেষ্ট হতে পারে না।

ডিজাইনের কথা যদি বলি, ফোনটির ডিজাইন আমার বেশ ভালো লেগেছে। আগেই যেমনটা বলেছি, কোন ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর নেই। সিম্পল ও মিনিমালিস্টিক ডিজাইন। Carbon Grey, Sky Blue, Ocean Green কালারগুলোও ভালো লেগেছে। তবে একটা ক্যামেরাকে তিনটা ক্যামেরা বানানোর প্রচেষ্টা ভালো লাগেনি। যদি 13MP Camera লিখে ক্যামেরা মডিউলটা এত লম্বা না করে ফেলতো, তাহলে মনে হয় আরেকটু ভালো দেখাত।

তো, যেমনটা বললাম, এখানে একটিমাত্র ক্যামেরা থাকছে। কোন ডেপথ সেন্সর, আল্ট্রাওয়াইড, টেলিফটো, ম্যাক্রো ক্যামেরা নেই। ডেপথ সেন্সরের কাজটা সফটওয়্যার দিয়ে যদি ঠিকভাবে করতে পারে, তাহলে পার্সোনালি আমি এতে কোন সমস্যা দেখি না। যদি দ্বিতীয় কোন আল্ট্রাওয়াইড, কার্যকর টেলিফটো বা ম্যাক্রো ক্যামেরা থাকে, সেটা ভিন্ন ব্যাপার। কিন্তু লো বাজেটে প্রায়ই দেখা যায় অনেক কোম্পানি 2MP টেলিফটো, তথাকথিত AI লেন্স এরকম সব ক্যামেরা লাগিয়ে ৩-৪ টা ক্যামেরা বানিয়ে ফেলে, তার থেকে একটা ক্যামেরা দেওয়াই ভালো বলব।

সামনে নচে থাকা ক্যামেরাটি 5MP। MP কম হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ছবির রেজ্যুলেশন খুব ভালো হবে না। তবে ক্যামেরাটির পিক্সেল সাইজ বেশ বড়, 1.12μm ও অ্যাপার্চার f/2.2।

Redmi 9A-র 6.53″-র ডিসপ্লেটির রেজ্যুলেশন HD+ এবং এটি একটি IPS LCD প্যানেল। এখনকার হিসেবে 6.5″ একদমই সাধারণ ব্যাপার, আর যদিও বড় ডিসপ্লেতে HD+ রেজ্যুলেশনে শার্পনেসের ঘাটতি থাকে, তবে এই বাজেটে এটা মেনে নিতেই হবে। সব মিলিয়ে বাজেট অনুযায়ী ডিসপ্লে একদম ঠিকঠাক।

এই ফোনের সবচেয়ে হতাশাজনক ব্যাপার সম্ভবত এর 2 GB র‌্যাম। দশ হাজার টাকায় প্রায় সবাই 3 GB র‌্যাম দিয়ে থাকে, 2GB মেনে নেওয়া যায় না। সাথে চিপসেট আছে Helio G25 এর ছদ্মবেশে Helio P22। হ্যাঁ ভাই, G শুনে গেমিং-টেমিং মনে করিয়েন না, এটা জাস্ট P22 এর নতুন খোলস। আর এটা কোন ওভারক্লক ভার্সনও না, ভেতরে অতি হালকা আপডেট আছে, বেসিকালি সেম জিনিস।

তো যাই হোক, 2 GB র‌্যামের সাথে এর চেয়ে বেশি পাওয়ারফুল চিপসেট দিয়ে লাভ নাই। এই চিপসেটটিতে AI সক্ষমতা আছে। তবে মিডিয়াটেকের G সিরিজে এরকম চিপসেট এনে সেটাকে মেইনস্ট্রিম গেমিং স্মার্টফোন চিপসেট দাবি করাটা বড়ই আশ্চর্য ব্যাপার।

সেন্সরের কথা বললে, এখানে জাইরো কিংবা ম্যাগনেটোমিটার (কম্পাস) সেন্সর নেই। আছে একসেলেরোমিটার, লাইট সেন্সর ও ডিসটেন্স সেন্সর, যেটার কাজ সম্ভবত প্রক্সিমিটি সেন্সরের মত। বিশাল ব্যাটারীর সাথে এখানে থাকছে 10W চার্জিং, যেটা এখন আর ফাস্ট চার্জিং বলা চলে না।

তো, এই গেলো ফোন নিয়ে কথাবার্তা। আমার মনে হয়েছে মার্কেট বিবেচনায় ৮৫০০ টাকা হতে পারতো ফোনটির উপযুক্ত দাম। ১০০০০ টাকার ক্ষেত্রে বলতে হচ্ছে ওভারপ্রাইসড এবং এই দামে এটা বেছে নেওয়ার কারণ একদমই দেখছি না। এখন আমি এই ৮৫০০ থেকে ১০০০০ টাকার মধ্যে কিছু ফোনের সাথে এটা কম্পেয়ার করতে চাই।

Walton Primo H9 (৮৭০০ টাকা)

H9 এর ডিসপ্লে ও ব্যাটারী যথাক্রমে 6.1″ ও 3500 mAh, যেখানে এটি অনেকটাই পিছিয়ে। তবে এখানে 3GB র‌্যাম দেওয়া হয়েছে, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর রয়েছে এবং দামেও ১৩০০ টাকা কম। এর চিপসেট Unisoc SC9863A, যেটি অবশ্যই ওভারঅল P22 থেকে পিছিয়ে থাকবে, তবে এর সিপিইউ কোরগুলো Cortex A55 , আর 3GB র‌্যামের সাথে মিলিয়ে তুলনামূলক ভালো পারফর্মেন্স দিতে সক্ষম। এছাড়া এখানে একটি ডেপথ সেন্সর ক্যামেরা ও স্টেপ ডিটেক্টর সেন্সর থাকছে।

realme C11 (৯০০০ টাকা)

শাওমির সবচেয়ে বড় কম্পিটিটর রিয়েলমি গতকালই রিলিজ করেছে realme C11। ১০০০ টাকা কম দামে সবই সিমিলার এই ফোনে। তবে এখানে Helio G35 চিপসেট দেওয়া যা কিছুটা বেটার, তবে 2GB র‌্যামের সাথে চিপসেট এত দেখে লাভ নেই। এখানেও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর নেই। তবে একটা বাড়তি ডেপথ সেন্সর ক্যামেরা থাকছে সাথে। সেই সাথে ডিজাইনটাও অনেকের কাছে (আমার কাছে 9A বেটার) বেশি ভালো লাগতে পারে।

Itel Vision 1 Plus (৮৫০০ টাকা/৯৫০০ টাকা)

Itel Vision 1 Plus-এর 2/32 ভার্সনটির দাম ৮৫০০ টাকা। ১৫০০ টাকা কমে প্রায় সিমিলার স্পেক। ফ্রন্ট ক্যামেরা 8MP, সাথে মাল্টি ফাংশনাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরও পাওয়া যাবে। তবে এখানে অবশ্য মাত্র 5W চার্জিং, ফলে 5000 mAh ব্যাটারী চার্জ করতে হিউজ পরিমাণ সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে, ৯৫০০ টাকায় ফোনটির 3/32 ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যাচ্ছে। এখানে চার্জিংও 10W, ফলে এটা নিয়েও চিন্তা নেই। ৫০০ টাকা কমে অনেক বেটার, নয় কী?

Walton Primo RX7 Mini (৯৫০০ টাকা)

বাজার কাঁপিয়ে দেওয়া এই স্মার্টফোনটি অবশ্য ভিন্ন ক্যাটাগরীর, এটি মিডিয়া সেন্ট্রিক নয়, পারফর্মেন্স সেন্ট্রিক। এর প্রিমিয়াম বিল্ড, সাথে গরিলা গ্লাস প্রটেকশন, 3GB LPDDR4x র‌্যাম, জাইরোস্কোপসহ প্রয়োজনীয় সব সেন্সর আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, Helio P60-র মত পাওয়ারফুল চিপসেট এই বাজেটের আর সব স্মার্টফোন থেকে একে করেছে আলাদা। তবে অবশ্যই বড় ডিসপ্লে বা ব্যাটারী যার খুঁজছেন তাদের জন্য এটা নয়, কেননা, এর ডিসপ্লে বড় নচযুক্ত 5.9″ ও ব্যাটারী 3000 mAh।

Symphony Z30 (৯৮০০ টাকা)

দুর্দান্ত ডিজাইনের ফোনটির ব্যাকপার্টে আলোর প্রতিফলনে রংয়ের খেলা বেশ আকর্ষণীয়। এখানেও থাকছে 6.5″ ডিসপ্লে ও 5000 mAh ব্যাটারী। এর আরেকটি আকর্ষণ হলো এর ক্যামেরা। এখানে রেয়ারে থাকছে তিনটি ক্যামেরা, প্রাইমারী ও ডেপথ সেন্সরের সাথে 5MP আল্ট্রাওয়াইড, যা এই দামে সচারচর দেখা যায় না। ব্যবহারকারী ও রিভিউয়াররা ক্যামেরার বিশেষ প্রশংসা করেছে। আর হ্যাঁ, এটি অবশ্যই 3/32। এর চিপসেট অবশ্য কিছুটা পিছিয়ে, Helio A25, বলা চলে Helio G25 এর আন্ডারক্লক ভার্সন।

TECNO Spark 5 Air (১০০০০ টাকা)

এটার দামও স্পেক অনুযায়ী অনেকটা বেশি বলব, তবে এর ডিসপ্লে 7.0″, মানে এটা প্রায় একটা ট্যাবলেট বলা চলে। ডিজাইন এই ফোনটার কিলার পয়েন্ট। যদি 6.5″ ডিসপ্লেও ছোট লাগে, এই ফোনটি সম্ভবত আপনার জন্য। অবশ্য, এর বাইরে এই দামে এই ফোনটি সাজেস্টেড নয়। ১০০০০ টাকায় এটি আরেকটি 2/32 স্মার্টফোন। চিপসেট Helio A22, যেটা কোয়াড কোর ও একদমই এন্ট্রি লেভেলের।

অফিসিয়াল ওয়েবপেজ

0 0 vote
Article Rating
Default image
তাহমিদ হাসান
এইতো, প্রতি ষাট সেকেন্ডে জীবন থেকে একটি করে মিনিট মুছে যাচ্ছে, আর এভাবেই এগিয়ে চলেছি মৃত্যুর পথে, নিজ ঠিকানায়। জীবন বড় অদ্ভুত, তাই না?
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x