realme C11: এন্ট্রি লেভেলের নতুন খেলোয়াড়

C3 এর পর একলাফে রিয়েলমি এবার নিয়ে এলো realme C11। এটি অবশ্য C3 এর সিক্যুয়েল নয়, বরং C2 এর সিক্যুয়েল। সম্ভবত iPhone 11 এর ক্যামেরা বাম্প কপি মেরে দেওয়ায় এই নাম দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। আরেকটি সম্ভাব্য কারণ পেয়েছি দীর্ঘ অনুসন্ধানে, হতে পারে এটি C2 এর সিক্যুয়েল, আর 11, মানে 1+1 হলো 2।

এর আগে Realme C11 নিয়ে বলেছিলাম আমার তেমন ভালো মনে হয়নি এবং সাথে এটাও বলেছিলাম ৮৫০০ টাকা পর্যন্ত দাম রাখা হলে ঠিক আছে। তবে আমার ধারণা ছিলো ৯৫০০ টাকায় আসবে ফোনটি, কিন্তু রিলিজ হয়েছে ৯০০০ টাকায়। দামটা realme C2 এর সেম, তবে কিছু আপগ্রেড থাকছে এখানে। এখন ডিসকাস করতে চাই, এই দামে কেমন হতে পারে এই ডিভাইসটি।

আলোচনার শুরুতে এই দামে এর কম্পিটিটর কারা আছে যদি দেখি, তাহলে ৮,৫০০ টাকায় Itel Vision 1 Plus এর 2/32 ভার্সন এর সবচেয়ে বড় কম্পিটিটর আমি বলব, আর ৯৫০০ টাকায় আছে এর 3/32 ভার্সন। আরো খানিকটা বাড়ালে ৯৮০০ টাকায় Symphony Z30-ও আছে। এছাড়া Walton RX7 Mini তো আছেই, তবে সেটি আসলে পারফর্মেন্স সেন্ট্রিক আর এটা ডিসপ্লে-ব্যাটারী সেন্ট্রিক, কাজেই কনজ্যুমার ক্যাটাগরীতে একটা বড় পার্থক্য আছে। তো, পোস্টজুড়ে V1+ (2/32) এর সাথে একটা কম্পারিজনও করে ফেলার চেষ্টা থাকবে।

ডিজাইনের কথা যদি বলি, realme এর বারবার একইরকম ডিজাইন থেকে বের হয়ে একদমই নতুন ধরণের ডিজাইন করেছে। আজকাল এন্ট্রি লেভেলেও বেশ ভালো ডিজাইন পাওয়া যাচ্ছে। ডিজাইন বেশ ভালো লেগেছে, তবে ক্যামেরা মডিউলে ক্যামেরার চারপাশের গোল বর্ডার আরেকটু বেশি হলে, সাথে ক্যামেরা বরাবর লম্বা টানটা আরেকটু ন্যারো হলে বেশি ভালো লাগতো বলে মনে হয়েছে। পার্সোনালি আমার Vision 1 Plus এর ডিজাইন বেশি ভালো লেগেছে, তবে বেশিরভাগ মানুষ সম্ভবত C11-কে এগিয়ে রাখবে।

ব্যাকপার্টটা যদি একটু খালি খালি লাগে, তাহলে ঠিক ধরেছেন, এখানে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর মিসিং। না, ইন-ডিসপ্লে বা সাইড মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরও এখানে থাকছে না, আসলে এখানে কোন ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরই থাকছে না। শুধু থাকছে ফেস আনলক, যা যেকোন দামের প্রায় সব ফোনেই থাকে এবং এরকম সফটওয়্যার ভিত্তিক ফেস আনলক আসলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরের রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে যথেষ্ট নয়। আমি জানি না, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর না দিয়ে রিয়েলমির কত ডলার বাঁচে। দেশীয় কোম্পানীগুলো চার-পাঁচ হাজার টাকার ফোনে অহরহ ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর দিয়ে যাচ্ছে।

স্মার্টফোনটির অন্যতম আকর্ষণ হলো বড় ডিসপ্লে। এখানে থাকছে 6.5″ এর HD+ IPS ডিসপ্লে। তবে কিনা, এই বাজেটে এখন এটা খুবই কমন ব্যাপার হয়ে গেছে। V1+ এর ডিসপ্লেও সেম। realme C2 থেকে অবশ্য এটা একটা আপগ্রেড, কেননা সেখানে ডিসপ্লে ছিলো 6.1″ HD+। যারা বড় ডিসপ্লে পছন্দ করেন, তাদের জন্য তো অবশ্যই চমৎকার, তবে যারা ছোটখাট, পকেটে সহজে রাখার মত কিছু চাইছেন, তাদের জন্য উপযুক্ত নয়।

এরপর ব্যাটারীও থাকছে হিউজ, 5000 mAh, এবং এটাও এখন কমন একটা ব্যাপার। V1+ সহ ফোনটির কম্পিটিটররাও এরকমই বড় ডিসপ্লে ও ব্যাটারী দিচ্ছে। এর সাথে চার্জিং থাকছে 10W। এখানে অবশ্য V1+ এর 2/32 ভ্যারিয়েন্টটি পিছিয়ে যাবে, তবে 3/32 ভ্যারিয়েন্টে চার্জিং 10W।

ফোনটিতে র‍্যাম রয়েছে 2GB, স্টোরেজ 32GB। ৯,০০০ টাকা দামে ৩ জিবি র‍্যামের ফোন কিন্তু বাজারে বেশকিছু আছে। Walton Primo H9, Symphony Z20, Z25 সহ অনেক ফোন এই দামে ৩/৩২ দিচ্ছে। V1+ এরও একটি 3/32 ভ্যারিয়েন্ট আছে ৫০০ টাকা বেশি দামে। তো, এই দামে 2/32 নিয়ে কম্পিটিশনে পিছিয়ে থাকবে C11।

চিপসেট এখানে কিছুটা বেটার। RX7 Mini-তে P60 বাদ দিলে বাকিরা এই দামে A25, P22, SC9863A এরকম চিপসেট দিয়ে থাকে। তার তুলনায় Helio G35 কিছুটা ভালো। তবে নামে G দেখে বেশি খুশি হওয়ার প্রয়োজন নেই, এটি জাস্ট Helio P35 এর নতুন নাম। আমি P35 আর G35 এর স্পেক নিচে দিয়ে দিলাম, কোন পার্থক্য বেড়িয়ে আসলে আমাদের জানান।

G35 এর আনটুটু স্কোর অবশ্য দেখলাম ৮% এর মত বেশি, হয়ত অভ্যন্তরীণ কিছু ইম্প্রুভমেন্ট আছে। তো যাই হোক, এই দামে কিন্তু খারাপ না! RX7 Mini-র P60-র সামনে দাঁড়াতেই পারবে না, তবে V1+ এর SC9863A কিংবা Z30 এর A25 থেকে অনেকটা এগিয়ে থাকবে। তবে কিনা শুধু চিপসেট দিয়ে তো হয় না, চিপসেট আর র‍্যাম সমন্বয় প্রয়োজন। ২ জিবি র‍্যামের সাথে SD865 দিয়েও বিশেষ লাভ নাই।

ক্যামেরা সেকশনে যদি আসি, এখানে রেয়ারে থাকছে 13MP f/2.2 প্রাইমারী ক্যামেরা ও 2MP f/2.0 ডেপথ সেন্সর। সামনে নচে থাকছে 5MP f/2.4 সেলফি ক্যামেরা। আমি সবসময়ই বলি, স্পেক দেখে ক্যামেরা কেমন প্রায় সময়েই বোঝা যায় না। রিভিয়াররা দেখলাম এই ক্যামেরাকে অ্যাভারেজ বলেছে, মানে এই দামে চলনসই ধরণের।

এর সফটওয়্যার হিসেবে রয়েছে realme UI, Android 10 এর উপরে তৈরি। লাইট, প্রক্সিমিটি ও একসেলেরেশন সেন্সরের সাথে থাকছে ম্যাগনেটিক ইনডাকশন সেন্সর। ম্যাগনেটোমিটার আগে দেখেছি, যেটা কম্পাস ব্যবহারের জন্য লাগে। সত্যি বলতে ম্যাগনেটিক ইনডাকশন সেন্সর কি সেটিরই আরেকটি নাম না অন্য কিছু আমার জানা নেই। জাইরোস্কোপ থাকছে না এখানে। তবে থাকছে 3-Card Slot, মানে দুটি সিমের পাশাপাশি একটি এসডি কার্ড ব্যবহারযোগ্য।

এখন সামারাইজ করা যাক। এই দামের মধ্যে আকর্ষণীয় ডিজাইন, বড় ডিসপ্লে ও বড় ব্যাটারী এই ফোনটির ভালো দিক, তবে কম্পিটিটররাও এখানে সমানে খেলেছে। অন্যদিকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরের অভাব, 2GB র‍্যাম একে কম্পিটিশনে পিছিয়ে দেয়। আপনি যদি রিয়েলমি ব্র্যান্ড পছন্দ করে থাকেন সেক্ষেত্রে নিতে পারেন। দশ হাজার টাকার নিচের বাজেটে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর শক্ত দখল রয়েছে, সাথে চাইনীজ ব্র্যান্ড আইটেলও এই দামে ভালো ফোন আনছে। রিয়েলমি যদি এই বাজেটে ভালো পজিশনে আসতে চায়, আরো বেশি কিছু এবং ভালো কিছু তাদের অফার করতে হবে বোধ করছি।

সবশেষে আমি আমার আগের কথাতেই স্থির থাকতে চাই, দামটা যদি ৮৫০০ টাকা হতো, Vision 1 Plus এর 2/32 ভার্সনের একটা ভালো কম্পিটিটর হতে পারতো। ৯০০০ টাকা পর্যন্ত যখন যেতেই হচ্ছে, আর কিছু যোগ করে Vision 1 Plus এর 3/32 কিংবা Symphony Z30 নেওয়াটাই ভালো চয়েস হতে পারে। আর যারা বড় ডিসপ্লে বা ব্যাটারী নয়, বরং ভালো পারফর্মেন্স, বিল্ড কোয়ালিটির সন্ধানে রয়েছেন, তাদের জন্য RX7 Mini তো আছেই!

ছবি ও তথ্য: অফিসিয়াল ওয়েবসপেজ

0 0 vote
Article Rating
Default image
তাহমিদ হাসান
এইতো, প্রতি ষাট সেকেন্ডে জীবন থেকে একটি করে মিনিট মুছে যাচ্ছে, আর এভাবেই এগিয়ে চলেছি মৃত্যুর পথে, নিজ ঠিকানায়। জীবন বড় অদ্ভুত, তাই না?
Subscribe
Notify of
guest
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
1
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x