Walton Primo E11 ও Symphony G10: ৪৩০০ টাকায় দুটি ফোরজি স্মার্টফোন

ফোরজি বাংলাদেশে এতদিনে অনেকটাই বিস্তৃত হয়েছে এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের উল্লেখযোগ্য অংশ ফোরজি ব্যবহার করছেন। কিন্তু, এখনও অনেকের কাছেই দ্রুতগতির ফোরজি ইন্টারনেট সহজলভ্য নয়। আজ যে স্মার্টফোনটি নিয়ে কথা বলব, অনেকের কাছে হয়ত এর বিশেষ গুরুত্ব নেই, তবে অনেকেই হয়ত জীবনের প্রথম ফোরজি স্মার্টফোন হিসেবে এরকম কিছুর জন্যই অপেক্ষায় ছিলেন।

উচ্চ বাজেটে চাইনীজ কিংবা গ্লোবাল ব্র্যান্ডগুলোর তুলনায় দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো পিছিয়ে থাকলেও অল্প দামের মধ্যে দেশের সবরকম মানুষের কাছে ভালোমানের স্মার্টফোন পৌছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অবদান অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। কিছুদিন আগে সিম্ফনি নিয়ে এসেছিলো Symphony G10, যেটি মাত্র ৪৩০০ টাকায় ফোরজি অফার করছিলো। এবার ওয়ালটন ঠিক একই দামে একটি ফোরজি স্মার্টফোন নিয়ে এসেছে, Walton Primo E11।

অবশ্য পুরোপুরি একই দাম না, সিম্ফনিরটা ৪২৯০, ওয়ালটনেরটা ৪২৯৯ টাকা। চলুন দেখি, ৯ টাকা বেশি দামে ওয়ালটন কী কী বেশি দিচ্ছে… মজা করলাম! তো, স্পেসিফিকেশনের দিক দিয়ে G10 ও E11 বেশ সিমিলার। থাকছে FWVGA রেজ্যুলেশনের 5″ ডিসপ্লে। র‍্যাম ১ জিবি। ক্যামেরা সামনে পেছনে 5MP করে। ব্যাটারী কিছুটা কম, তবে ফোন অনুযায়ী চলে, 2000 mAh, এখানেও সমান দুটো ফোনই। দুটি ফোনেই থাকছে Android 9.0 Pie, গো এডিশন। তবে থাকছে না কোন ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর। আর অবশ্যই 4G ও VoLTE অফার করছে এই স্মার্টফোন দুটি।

পার্থক্যের কথা বললে, E11 অফার করছে ১৬ জিবি ইন বিল্ট স্টোরেজ, এক্সপেন্ডেবল ৬৪ জিবি পর্যন্ত। ফলে, আলাদা মেমোরি কার্ডের খরচ হয়ত বেঁচে যাবে। G10 এ থাকছে ৮ জিবি ইনবিল্ট স্টোরেজ, এক্সপেন্ডেবল ৩২ জিবি পর্যন্ত। অন্যদিকে G10 OTG সমর্থন করে, অর্থাৎ, এখানে পেনড্রাইভসহ বিভিন্ন ইউএসবি ডিভাইস সমর্থন করে, তবে E11 এই ফিচারটি দেয়নি। আর ওয়ালটনে সামনের ইয়ারপিস বাদে আলাদা কোন স্পিকার গ্রীলস থাকছে না, অর্থাৎ, সেটিই লাউডস্পিকারের কাজ করবে। সিম্ফনিতে স্পিকার গ্রিলস থাকছে ব্যাক সাইডে।

ডিজাইনের কথা যদি বলি, G10 এ একরকম ক্লাসিক ডিজাইন করা হয়েছে। ব্যাকপার্টে একটা টেক্সচার দেওয়া হয়েছে। তিনটি কালারে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে, কালো, নীল ও সোনালি। অন্যদিকে E11 এর ডিজাইন অনেকটা রেগুলার লো বাজেট স্মার্টফোনের মত। এটিও তিনটি কালারে বাজারে এসেছে, জেট ব্ল্যাক, সায়ান ও ইলেকট্রিক ব্লু। ডিজাইনের দিক দিয়ে অনেকেরই E11 ভালো লাগতে পারে, তবে পার্সোনালি, আমার G10 বেশি পছন্দ হয়েছে।

এবার চিপসেটের কথায় আসি। সম্ভবত G10 এ আছে Unisoc 9832E চিপসেট, যেখানে আছে 1.4 GHz ক্লকস্পিডের 4টি ARM Cortex-A53 কোর, আর GPU Mali Mali T820 MP1। অন্যদিকে E11 এর চিপসেট আমি নিশ্চিত নই, 1.3 GHz ক্লকস্পিডের 4টি ARM Cortex-A53 আছে এখানে, GPU PowerVR Rouge GE8100। G10 অবশ্যই এখানে কিছুটা এগিয়ে থাকছে, যদিও ১ জিবি র‌্যামের সাথে এই পার্থক্যের প্রভাব কতটুকু হবে, সেটা একটা প্রশ্ন।

সামারাইজ করলে, ওয়ালটন দিচ্ছে বাড়তি স্টোরেজ আর সিম্ফনি একটু ভালো চিপসেট, সাথে OTG সমর্থন দিচ্ছে। সব মিলিয়ে দেখলে দুটি স্মার্টফোন মোটামুটি একইরকম। তাই যেটি পছন্দ হয় কিনে নিতে পারেন।

0 0 vote
Article Rating
Default image
তাহমিদ হাসান
এইতো, প্রতি ষাট সেকেন্ডে জীবন থেকে একটি করে মিনিট মুছে যাচ্ছে, আর এভাবেই এগিয়ে চলেছি মৃত্যুর পথে, নিজ ঠিকানায়। জীবন বড় অদ্ভুত, তাই না?
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x