চলেন, লিনাক্স মিন্ট মাতের চেহারা বদলায়া দিই!…

মাতে যখন প্রথম ইন্সটল দিয়েছিলাম, তখন অনেকে বলেছিলো এটাই নাকি সবচেয়ে বেশি কাস্টমাইজেবল ডেস্কটপ ইন্টারফেস। যদিও, ‘সবচেয়ে বেশি’ কিনা, আমি নিশ্চিত নই। তবে, মাতে নিঃসন্দেহে চরম লেভেলের কাস্টমাইজেবল একটা ডিই। চলুন, এবার হাতে কলমে দেখা যাক, মাতে ডেস্কটপকে কী থেকে কী করা সম্ভব…

কাজ শুরুর পূর্বে ডেস্কটপটা দেখে নিন। এবার এটার উপর অত্যাচার শুরু করি।

লিনাক্স মিন্ট মাতে: কাস্টমাইজেশন শুরুর আগে
লিনাক্স মিন্ট মাতে: কাস্টমাইজেশন শুরুর আগে

থিম

শুরুটা সিম্পল হোক, প্রথমে আমরা থিম বদলে ফেলি। সহজ কাজ, Mint Menu> Preferences> Appearance> Customize এ যেতে হবে। এবার Controls Theme সেট করব Adwaita Dark, উইন্ডো বর্ডার Dopple-Left, আইকন থিম Mint-X-Dark। সবগুলোই মিন্ট মাতেতে সংযুক্ত আছে।

এবার আমাদের ডেস্কটপের চেহারাটা হবে এরকম। এবার আরেকটু ইন্টেরেস্টিং কিছু করা যাক।

লাইভ ওয়ালপেপার

Komorebi অ্যাপের মাধ্যমে লাইভ ওয়ালপেপার ব্যবহার করা যাবে। এটা .deb ফরমেটে ডাউনলোড করে নিয়ে ইন্সটল করতে হবে। ডাউনলোড করা যাবে এখান থেকে।

এটা ইন্সটল করা হয়ে গেলে Mint Menu> System Tools> Komorebi চালু করুন। এবার ডেস্কটপে রাইট ক্লিক করে Change Wallpaper থেকে পছন্দমত একটি বেছে নিন। বলে রাখি, এখানে সব ওয়ালপেপার লাইভ না। আমি আমার পছন্দের এবস্ট্রাক্ট লাইট লাইনস সিলেক্ট করছি।

লাইভ ওয়ালপেপারের সাথে ডেস্কটপে একটা ঘড়িও দেখাবে। ঘড়িটার পজিশন বদলাতে জাস্ট ক্লিক করে ধরে জায়গামত রেখে দিন।

উইন্ডো ম্যানেজার

এখন আসল খেলা হবে। আপনি মিন্ট মাতে চালালে আপনি জানেন, এতে তেমন কোন ইফেক্ট আর এনিমেশন নেই। ওপেন, ক্লোজ, মিনিমাইজ এধরণের এনিমেশনের কথা বলছিলাম আরকি। কিন্তু চিন্তা করবেন না, এখন আমরা এটা নিয়ে খেলবো।

আপনাকে একটা সফটওয়্যার ইন্সটল করতে হবে। মাতে টুইক। ইন্সটল করতে এই লিংকটাতে একটা টোকা মারুন। হ্যাঁ, ভাই, সফটওয়্যার ইন্সটল এতই সহজ। এখন Mint Menu> Preferences> Mate Tweak> Windows> Window Manager> Compiz সেট করে দিন।

এবার Mint Menu> Control Center> CompizConfig Settings Manager এ চলে যান। প্রথমেই আপনাকে সতর্ক করে দেওয়া হবে, কম্পিজের উল্টাপাল্টা ব্যবহারে আপনার পিসির বারোটা বাজাই দিতে পারে। অতএব, সাবধান!

যাই হোক, আমরা এখানে বেশি নাড়াঘাটা করব না। কেবল নিচের ছবিতে যেগুলোতে টিক মারা, সেগুলোতে টিক না দেওয়া থাকলে দিয়ে দিন। এর অতিরিক্ত কিছু চাইলে করতে পারেন, তবে নিজ দায়িত্বে ও নিজ ঝুঁকিতে…

এবার একটু ডেস্কটপটা নাড়াচাড়া করে দেখুন তো, এট্টু অন্যরকম লাগতেসে কিনা! এ অবস্থায় আপনার ডেস্কটপে Wobbly Windows (উইন্ডো নাড়াচাড়া করে দেখুন) ইফেক্ট, ডেস্কটপ কিউব (alt+ctrl+left/right arrow দিয়ে ওয়ার্কস্পেস সুইচের সময় কিউব ইফেক্ট দেখাবে)। এর সাথে ওপেন ক্লোজ মিনিমাইজ এসব একশনে এনিমেশন দেখা যাবে।

এনিমেশন পরিবর্তন

এনিমেশনগুলো পরিবর্তন করতে উপরের ছবির এনিমেশন অংশে যেতে হবে। যে এনিমেশনটি পরিবর্তন করতে চান, সেটি নির্বাচন করে Edit এ ক্লিক করুন। এবার পছন্দের ইফেক্ট ও ডিউরেশন নির্বাচন করে নিন।

কার্সর ইফেক্ট

কম্পিজকনফিগ সেটিংস ম্যানেজারে শো মাউস আরেকটা ফিচার আছে। এটা এনাবল করলে কি হয় তা তো ছবিতে আইডিয়া পাচ্ছেন। তবে এখানে এনাবল করার পর কাজের উপযোগী করতে আমার আরো কিছু কনফিগের দরকার হয়েছে। যা নিচের ছবিতে দেখিয়ে দিলাম।

প্যানেল ট্রান্সপারেন্সি

প্যানেলের খালি কোন জায়গায় রাইট ক্লিক করে Properties এ গেলাম। সেখান থেকে ব্যাকগ্রাউন্ড> সলিড কালার থেকে ওয়ালপেপারের সাথে মানানসই রং নির্বাচন করে ট্রান্সপারেন্সি ঠিক করে নিলাম।

আইকন অনলি উইন্ডো লিস্ট

লিনাক্স মিন্ট মাতের উইন্ডোজ এক্সপি স্টাইলের উইন্ডো লিস্ট যদি পছন্দ না হয়, চিন্তা করবেন না। কারণ সমস্যা থাকলে সমাধানও আছে। মাতে ডক অ্যাপলেট ইন্সটল করতে হবে। এবার উইন্ডো লিস্টের সামান্য বামে রাইট ক্লিক করলাম। লক থাকলে প্রথমে লক উঠিয়ে দিলাম। এরপর আবার রাইট ক্লিক করে রিমুভ করে দিলাম। এর সাথে আমি লঞ্চার আইকনগুলোও রিমুভ করে দিব, কারণ আমরা যে ডক ব্যবহার করব, তাতে কোন অ্যাপ পিন করে রাখা যায়।

এরপর প্যানেলের ফাঁকা কোন জায়গায় রাইট ক্লিক করলাম। Add to Panel… এ গিয়ে Dock যুক্ত করে প্রয়োজনমত মুভ করে নিলাম।

বলে রাখি, ডকে কোন অ্যাপ পিন করতে কিছুক্ষণ অ্যাপের আইকনে কার্সর কয়েক সেকেন্ড হোভার (ক্লিক না করে শুধু ধরে রাখা) করতে হবে। তাহলে পিনের অপশন আসবে।

ফলাফল

তো, আপনি যদি এই কাজগুলো করেন, তাহলে এখন দেখতে পাবেন, আপনার লিনাক্স মিন্ট মাতের চেহারা আসলেই বদলে গেছে… সব শেষে আপনার পিসির চেহারা হবে এরকম:

সহায়তা

http://www.webupd8.org/2015/05/dock-applet-icon-only-window-list-for.html

http://www.webupd8.org/2015/05/dock-applet-icon-only-window-list-for.html

0 0 vote
Article Rating
Default image
তাহমিদ হাসান
এইতো, প্রতি ষাট সেকেন্ডে জীবন থেকে একটি করে মিনিট মুছে যাচ্ছে, আর এভাবেই এগিয়ে চলেছি মৃত্যুর পথে, নিজ ঠিকানায়। জীবন বড় অদ্ভুত, তাই না?
Subscribe
Notify of
guest
2 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Hasibul karim Ratul Patuakhali
Hasibul karim Ratul Patuakhali
24 days ago

বাহ কমেন্ট করা যায় দেখি। 😃

তাহমিদ হাসান
তাহমিদ হাসান
Reply to  Hasibul karim Ratul Patuakhali
22 days ago

বাহ! রিপ্লাইও দেখি দেওয়া যায়। 😃

2
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x