ভাষা নিয়ে অপ্রয়োজনীয় কিছু ভাসা ভাসা কথা

আসসালামু আলাইকুম। হঠাৎ ভাষা নিয়ে লাগলাম কেন ঠিক বলতে পারছি না। তবে, মূলকথা অতি ছোট্ট, তাই একটু ভূমিকা বেশি করবো। শুরু করা যাক!

(সতর্কীকরণ: এখানে ভাষাবিজ্ঞান শেখার চেষ্টা থেকে বিরত থাকুন। এই লেখায় শুধু আবোলতাবোল ভাবনাসমৃদ্ধ কিছু কথামালা পাবেন।)

ভাষা কাকে বলে? যদি আমি উত্তর দিতাম, সংজ্ঞাটা হতো সহজ ও সংক্ষিপ্ত। কোনরকমে ভাব বোঝাতে পারলেই সেটা ভাষা। সে যে বস্তুই করুক, আর যেভাবেই করুক। যেমন ধরুন, কোন যন্ত্র থেকে ঘট ঘট শব্দ আসছে। তা শুনে বোঝা যাচ্ছে, ওতে কোন সমস্যা হয়েছে। ব্যাস, এটাই ওর ভাষা!

কিন্তু ব্যাকরণ এবং জাতি তা মেনে নিবে না। তাই উত্তরটা বহুভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ দিয়েছেন এভাবে, “মনুষ্য জাতি যে ধ্বনি বা ধ্বনি সকল দ্বারা মনের ভাব প্রকাশ করে, তাহার নাম ভাষা।”

সংজ্ঞাতে ভাষা নিয়ে সহজ তিনটা কথা দেখতে পাচ্ছি। প্রথমত, ধ্বনি বা ধ্বনি সকল দিয়ে গঠিত হবে। দ্বিতীয়ত, ধ্বনিটা হবে মানুষের। তৃতীয়ত, মনের ভাবের প্রকাশ ঘটবে।

যাক, কোন সমস্যা নেই। ভাষার সংজ্ঞায় ব্যাকরণের কথা নেই। ধ্বনি দিয়ে কোন মানুষ কিছু বুঝাতে পারলেই আমরা তাকে ভাষার মধ্যে রেখে দিতে পারি।

ব্যাকরণের কাজ সম্ভবত ভাষাকে মেনে চলা। ভাষার কাজ সম্ভবত ব্যাকরণকে মেনে চলা নয়। তবুও ব্যাকরণটা দরকার পরে যখন কথাটা সাধু সাধু শুদ্ধভাষায় পৌছে দিতে হয়। দৈনন্দিন জীবনে সন্ধি, সমাস, বাহুল্যদোষ, ণত্ব ও ষত্ব বিধান খুব বেশি কাজে দেয় না।

তবে বানানরীতির বারোটা বাজানোর বিড়ম্বনাও কম নয় বটে, যেমন রাস্তায় দেখি পেসাল ডিম ভাজা। এক কেমন ডিম বুঝতে আক্ষরিক অর্থে কয়েক মিনিট লেগে গেছিলো। অনেক পরে বুঝলাম, এই ডিম ভাজা স্পেশাল। আবার কখনো ফেসবুকে দেখি ডাইলবাজি করে সমস্যার সৃষ্টি করা হচ্ছে। সে-ও বড় চিন্তার বিষয়।

এ কেমন ভাষা?

তবে কিনা, দিনশেষে কথাটা বোঝানোই জরুরী, আর ব্যাকরণের হালকা জানাশোনা এজন্যও লাগে, যেন কথাটা দ্রুত বোঝানো যায়। আবার, ব্যাকরণ বেশি মানলেও সমস্যা, কারণ ভাষা এক স্রোতস্বিনী নদী। ব্যাকরণ দিয়ে এই স্রোত থামবে না।

দৈনন্দিন কথাবার্তায় আমরা প্রায়ই নতুন নতুন শব্দের উদ্ভাবন ঘটাই। সময়ের সাথে কখনো সেগুলো ভাষারই অংশ হয়ে যায়। যেমন, ধরুন বন্ধু ইংরেজি ফ্রেন্ডস, সেখান থেকে ফ্রান্স আর এখন আপনি ফ্রান্স, ইতালি, উগান্ডা, আমেরিকা যায় বলুন না কেন, তা ‘ফ্রেন্ডস’-ই বোঝাবে। কঠিন ব্যাপার, কেমন আছো হনুলুলু?

এরপর আসি এই উদ্ভট ভাবনাগুলো মাথায় কীভাবে আসলো। মানুষের মস্তিষ্ক জিনিসটা আজব বটে। কখন কী মনে হয় বলা শক্ত। আবোলতাবোল ভাবনাগুলো শুধু এসে জড় হয়। সে ভাবনাগুলো পূর্ণতা পায় না, ভাষায় রূপ নিতে পারে না।

তবে এই ভাবনাগুলোর ভাষায় রূপ দেওয়ার এট্টু কারণ আছে। সেদিন গ্রুপে মেসেজ করলাম, আজিব তোহ! বাকিবিল্লাহ অবজেকশন দিলো, বাংলা ভাষায় আজিব বলে কিছু নাই। অনলাইন অভিধান ঘেঁটেে সত্যই পেলাম না, বড়ই দুঃখের বিষয়! তাই ভাবনায় ভাবনায় লিখে ফেললাম।

আজ চলে যাচ্ছি, কিন্তু হ্যাঁ! আপাতত সত্যিই যাচ্ছি। আল্লাহ হাফেজ।

সহায়তা: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, অক্ষর পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)

0 0 vote
Article Rating
Default image
তাহমিদ হাসান
এইতো, প্রতি ষাট সেকেন্ডে জীবন থেকে একটি করে মিনিট মুছে যাচ্ছে, আর এভাবেই এগিয়ে চলেছি মৃত্যুর পথে, নিজ ঠিকানায়। জীবন বড় অদ্ভুত, তাই না?
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x