পেঙ্গুইনীয় (পর্ব-১৫): ডিস্ট্রো পরিচিতি – এলিমেন্টরী ওএস

ম্যাক ওএসের প্রতি যদি আকর্ষণ থেকে থাকে, তাহলে এলিমেন্টরী ওএস (Elementary OS) সম্ভব আপনার পছন্দ হতে পারে। এটার ইন্টারফেস ম্যাক থেকে ইন্সপায়ার্ড। ইন্টারফেস বেশ সিম্পল, উপরে একটি ট্রান্সপারেন্ট প্যানেল আর নিচের দিকে একটি ডক। তবে সিম্পল হলেও কিন্তু বেশ সুন্দর। এটি একটি উবুন্টু এলটিএস ভিত্তিক পয়েন্ট রিলিজ ডিস্ট্রো।

এলিমেন্টরী ওএস তাদের নিজেদের ডেভেলোপকৃত প্যানথীয়ন (Pantheon) ডিই ব্যবহার করে। ম্যাক ওএসের আদলে এর ইন্টারফেস গড়ে তোলা হয়েছে। এর সিম্পল লুক আর স্মূথ এনিমেশন মিলে বেশ ভালো লাগে চোখে। তবে যারা নিজের মত সাজিয়ে নিতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য দুঃখজনক বিষয় হলো কাস্টমাইজেবিলিটির দিক দিয়ে এটি অন্যান্য অধিকাংশ ডিই থেকে পিছিয়ে থাকবে।

এমন নয় যে একদমই কাস্টমাইজ করার সুযোগ নেই। তবে, এটাকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা কাস্টমাইজেশনকে নিরুৎসাহিত করে। উদাহরণস্বরূপ, এটির থিম, উইন্ডো বাটনসহ বিভিন্ন পরিবর্তন আনতে এলিমেন্টরী টুইকস (elementary Tweaks) অ্যাপ প্রয়োজন, যা রিপোতে নেই, PPA ব্যহার করে ইন্সটল করতে হয়। আবার PPA ব্যবহারও ডিফল্ট ব্লক করা থাকে, যদিও এনাবল করা একদমই সহজ।

কাস্টমাইজ করতে গিয়ে অপটিমাল এক্সপেরিয়েন্সে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থেকেই সম্ভবত খুব বেশি কাস্টমাইজেশনের সুযোগ এলিমেন্টরী সাধারণভাবে দেয় না, ম্যাকের মতই… বলা যায় ডেভেলোপাররা চান, আপনি যেভাবে আছে রেখে দিন এবং অ্যাপ ইন্সটলের জন্য কেবলমাত্র অ্যাপসেন্টার ব্যবহার করুন।

বিশেষ ফিচারের কথা বললে বলতে হবে এলিমেন্টরী ওএসের অ্যাপসেন্টারের কথা। এলিমেন্টরী ওএস ডেভেলোপারদের বিশেষ সুবিধা দেয় এবং অ্যাপ তৈরি করে অ্যাপসেন্টারে বিনামূল্যে অথবা Pay What You Want সিস্টেমে বিতরণের সুবিধা দেয়। এই সিস্টেমটা হলো আপনি যে দামে খুশি কিনতে পারবেন, এমনকি $0 তথা বিনামূল্যেও ডাউনলোড করতে পারবেন।

একারণে এলিমেন্টরী ওএসের অ্যাপসেন্টারে ইউনিক কিছু অ্যাপ আছে যা উইন্ডোজ বা ম্যাক তো নয়ই এমনকি অন্য কোন লিনাক্সেও এভেইলেবল নেই। নির্দিষ্ট গাইডলাইন থাকায় অ্যাপগুলো বেশ মানসম্মত।

মজার বিষয় হলো, এলিমেন্টরী নিজেও Pay What You Want সিস্টেম অনুসরণ করে। তাদের ওয়েবসাইট থেকে আইএসও ডাউনলোডের ক্ষেত্রে আপনি যেকোন দাম নির্ধারণ করতে পারেন, অথবা $0 লিখে দিয়ে বিনামূল্যে ডাউনলোড করতে পারেন।

এলিমেন্টরী ওএসের আরেকটি আকর্ষণীয় ফিচার হলো পিকচার ইন পিকচার মোড। এই মোডের সাহায্যে কোন একটি উইন্ডোর অংশবিশেষকে পিন করে রাখা সম্ভব। যেমন, ছবিতে ডান কোণায় একটি ইউটিউব ভিডিও পিন করে রাখা আছে। Super + F বাটন প্রেস করে এই ফিচার ব্যবহার করা যায়। উল্লেখ্য উইন্ডোজ বাটন লিনাক্সে সুপার অথবা মেটা হিসেবে পরিচিত।

This image has an empty alt attribute; its file name is Screenshot-from-2018-10-23-13-52-25-1-1024x768.png

এলিমেন্টরী ওএস একদমই মিনিমাল একটি অপারেটিং সিস্টেম। বেসিক ইউটিলিটি ছাড়া কোন ব্লটওয়্যার নেই। অফিস, গ্রাফিক্স সফটওয়্যারগুলোও সংযুক্ত নয়। অ্যাপসেন্টার থেকে প্রয়োজনমত ইন্সটল করে নিতে হবে। সাধারণত লিনাক্সে ফায়ারফক্স প্রি-ইন্সটল্ড থাকে, তবে এখানে আছে Epiphany বা গ্নোম ওয়েব। আমার কাছে এটা Internet Explorer এর মত মনে হয়েছে, যথেষ্ট ফাংশনাল নয়। তাছাড়া, Internet Explorer দিয়ে ক্রোম কিংবা ফায়ারফক্স ডাউনলোডের কাজ করা যায়। এখানে সেই কাজটাও অ্যাপসেন্টারের জন্য বরাদ্দ। এটা বিশেষ কাজের মনে হয়নি।

আরেকটি বিষয়, এখানেও কোন মিনিমাইজ বাটন নেই। গ্নোমে থাকে না, এটা আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয়, কেননা গ্নোম একটি ভিন্নধর্মী ওয়ার্কফ্লো প্রদান করে। তবে এলিমেন্টরী ওএসে কেন নেই, তা আমার কাছে বোধগম্য হয়নি। যাই হোক, এলিমেন্টরী টুইকস ব্যবহার করে এনাবল করে নেওয়া যায়।

সব মিলিয়ে আমার ভালো লাগার মধ্যে রয়েছে এর লুক, এনিমেশন, অ্যাপসেন্টার, নোটিফিকেশন সিস্টেম, পিকচার ইন পিকচার মোড এই বিষয়গুলো। অন্যদিকে ভালো লাগেনি কাস্টমাইজেশনের সীমাবদ্ধতা, মিনিমাইজ বাটন না থাকা, ডিফল্ট ওয়েব ব্রাউজার এরকম বিষয়গুলো। তাছাড়া সংযুক্ত বাংলা লেআউট, যেটা জাতীয় লেআউটের মত, সেখানে স্বরবর্ণ লিখতে পারছিলাম না, ফলে ওপেন বাংলা কীবোর্ড ব্যবহার করতে হয়েছে।

সব মিলিয়ে এলিমেন্টরী ওএস সিম্পলের মধ্যে সুন্দর, তবে একদম ঝামেলামুক্ত ঝরঝরে নয়।

Series Navigation<< পেঙ্গুইনীয় (পর্ব-১৪): ডিস্ট্রো পরিচিতি – সোলাস
0 0 vote
Article Rating
Default image
তাহমিদ হাসান
এইতো, প্রতি ষাট সেকেন্ডে জীবন থেকে একটি করে মিনিট মুছে যাচ্ছে, আর এভাবেই এগিয়ে চলেছি মৃত্যুর পথে, নিজ ঠিকানায়। জীবন বড় অদ্ভুত, তাই না?
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x