পেঙ্গুইনীয় (পর্ব-১৪): ডিস্ট্রো পরিচিতি – সোলাস

সোলাস ওএসের বড় বিশেষত্ব হলো, এটি ইনডিপেন্ডেন্টলি ডেভেলোপ করা হয়েছে। অর্থাৎ, উবুন্টু বা অন্য কোন ডিস্ট্রোর উপর ভিত্তি করে নয়, সরাসরি লিনাক্স কার্ণেলের উপর এই ডিস্ট্রোটি ডেভেলোপ করা হয়েছে। তাই, অন্য অপারেটিং সিস্টেমগুলো থেকে স্বাভাবিকভাবেই অভিজ্ঞতা অনেকটাই ভিন্ন হওয়ার কথা, এবং বাস্তবেও তাই ঘটেছে।

ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজে একটা বোল্ড ভাব আছে, ডার্ক থিম দেওয়া বাই ডিফল্ট এবং এটা সত্যিকারের ডার্ক। এই বিষয়টা খুবই ভালো লেগেছে, কেননা আমি মনে করি, ডার্ক হলে ডার্কের মত হওয়া উচিৎ, ছাইরঙা না।

এটার স্টার্টআপ ও শাটডাউন টাইম খুবই ফাস্ট। আমার কোন এসএসডি নেই, সাধারণ এইচডিডি, তারপরও মোটামুটি ২০ সেকেন্ডের মধ্যে চালু হয়ে যায়, আর বন্ধ হতে ৩-৪ সেকেন্ডের মত নেয়। এটা অবশ্যই ইমপ্রেসিভ, এতটা দ্রুত আমি আর কোন অপারেটিং সিস্টেমে লক্ষ্য করিনি। একইসাথে অ্যাপ ওপেনিং, ক্লোজিং, সুইচিং টাস্কগুলো বেশ দ্রুত। তো, একারণে ব্যবহার করে শান্তি পেয়েছি।

সোলাস ওএস একটি রোলিং রিলিজ ডিস্ট্রো। তবে মানজারোর মত AUR সমর্থন এখানে থাকছে না, অথবা থাকছে না উবুন্টুর মত PPA সমর্থন। অবশ্যই এটা অনেকসময় অসুবিধাজনক হতে পারে, তবে সোলাসের উদ্দেশ্য অনুযায়ী, ঠিক আছে। তাছাড়া, রিপোজিটরীতে কোন অ্যাপ না পাওয়া গেলে Snap, Flatpak ও Appimage ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

সোলাস তৈরি হয়েছে সাধারণ হোম ইউজারদের জন্য। পার্সোনাল কম্পিউটারে ডে-টু-ডে টাস্কে ব্যবহারের জন্য আদর্শ একটি অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে এটি বিল্ড করা হয়েছে। রোলিং রিলিজ বলে লেটেস্ট অ্যাপগুলো এখানে পাওয়া যাবে। সোলাস ওএস ৪টি ডেস্কটপ এনভায়নমেন্টে এভেইলেবল।

সোলাসের ফ্ল্যাগশিপ হলো এর বাজ্বি এডিশন, কেননা তারা নিজেরাই এই ডেস্কটপ এনভায়নমেন্ট ডেভেলোপ করে। এটার ইউটিলিটিগুলোর সাথে গ্নোমের মিল পেয়েছি। যেমন, গ্নোম ডেস্কটপের মত Files (Nautilus), Settings অ্যাপ ব্যবহৃত হয়েছে। ডার্ক থিম আর ফ্লাট ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজের জন্য দেখতে অসাধারণ। তার সাথে এনিমেশনগুলো সিম্পল ও আই প্লিজিং। তাছাড়া গ্নোম, মাতে ও কেডিই প্লাজমা ডেস্কটপ এডিশনও রয়েছে।

ইনডিপেনডেন্টলি ডেভেলোপড হিসেবে সোলাসের নিজস্ব রিপোজিটরী, প্যাকেজ ম্যানেজার ও সফটওয়্যার সেন্টার আছে। তাদের প্যাকেজ ম্যানেজার হলো eopkg। সফটওয়্যার সেন্টারটিও বেশ দ্রুতগতির মনে হয়েছে। তবে, রিপোজিটরীতে সফটওয়্যারের অভাব বেশ ভোগান্তির হতে পারে।

প্রয়োজনীয় ও জনপ্রিয় সফটওয়্যারগুলো রিপোজিটরীতে দেওয়া আছে। বাজ্বির বিভিন্ন অ্যাপলেট ও থিম প্রভৃতিও সরাসরি সফটওয়্যার সেন্টার থেকেই ইন্সটল করা যায়। আর Solus অনেকটা নতুন এবং রিপোজিটরীও উবুন্টু বা আর্চ থেকে কম সমৃদ্ধ। আবার অন্য ডিস্ট্রোতে কোন অ্যাপ না পেলে হয়ত AUR বা PPA থেকে পাওয়া যায়, কিন্তু Solus-এ একটু সমস্যা হয়ে যায়।

যেমন, kazam নামের একটি স্ক্রিন রেকর্ডার আমি ব্যবহার করে থাকি, সেটি পাইনি। nsnake ও asciiquarium নামের দুটি কমান্ড লাইন প্যাকেজও রিপোজিটরীতে নেই। Snap বা Flatpak-এও নেই। অর্থাৎ, শুধু সোর্স থেকে বিল্ডের অপশনটিই বাকি থাকে।

তবে একটি জিনিস ভালো লেগেছে, তারা আলাদাভাবে সফটওয়্যার সেন্টারে জনপ্রিয় প্রপারইটরী সফটওয়্যার যেমন, গুগল ক্রোম, অ্যান্ড্রয়েড স্টুডিও কিংবা সাবলাইম টেক্সটের মত সফটওয়্যারগুলো দিয়ে দিয়েছে।

সোলাস স্বাধীনভাবে ডেভেলোপ হওয়ায় অনেকটা ভিন্নধর্মী এবং অন্য লিনাক্স ব্যবহারকারীদের কিছুটা নতুন ধরণের অভিজ্ঞতা দিতে পারে। তবে আমি রেগুলার ব্যবহারের জন্য খুব বেশি রেকমেন্ড করব না কিছু কারণে। যেমন:

১. সোলাসের কমিউনিটি উবুন্টু কিংবা আর্চ কিংবা ফিডোরা পরিবারের মত বড় নয়। এটির জন্য অনলাইনে রিসোর্স তুলনামূলক কম।

২. রিপোজিটরী যথেষ্ট সমৃদ্ধ নয়।

৩. এখনও আরো ডেভেলোপমেন্ট প্রয়োজন মনে হয়েছে।

Series Navigation<< পেঙ্গুইনীয় (পর্ব-১৩): ডিস্ট্রো পরিচিতি – মানজারোপেঙ্গুইনীয় (পর্ব-১৫): ডিস্ট্রো পরিচিতি – এলিমেন্টরী ওএস >>
0 0 vote
Article Rating
Default image
তাহমিদ হাসান
এইতো, প্রতি ষাট সেকেন্ডে জীবন থেকে একটি করে মিনিট মুছে যাচ্ছে, আর এভাবেই এগিয়ে চলেছি মৃত্যুর পথে, নিজ ঠিকানায়। জীবন বড় অদ্ভুত, তাই না?
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x