পেঙ্গুইনীয় (পর্ব-১২): ডিস্ট্রো পরিচিতি – জরিন ওএস

পিসিকে আরো সহজ, আরো দ্রুত, আরো শক্তিশালী, আরো নিরাপদ করার জন্য উইন্ডোজ ও ম্যাক ওএসের একটি ভালো বিকল্প হিসেবে জরিন ওএস বিশেষভাবে তৈরি হয়েছে। অনেক লিনাক্স মিন্টের বিষয়ে যে কথাগুলো বলেছি, তার কিছুটা জরিন ওএসের জন্যও প্রযোজ্য। লিনাক্স মিন্টের মত এটিও উবুন্টুর এলটিএস ভার্সন ব্যবহার হয়। উবুন্টুর রিপোজিটরীর পাশাপাশি জরিন ওএসের নিজস্ব রিপোজিটরী থেকে কিছু অ্যাপের আপডেট ভার্সন পাওয়া যায়, যা মিন্ট থেকে একটি প্লাসপয়েন্ট।

একটি বিষয় হলো, জরিন ওএসের কয়েকটি এডিশন রয়েছে। কোর, আল্টিমেট, এডুকেশন এবং এদের প্রত্যেকের লাইট ভার্সন। এর মধ্যে আল্টিমেট ও আল্টিমেট লাইট এডিশন ফ্রি নয়। বাকি এডিশনগুলো ফ্রি। কোর ভার্সনের সবকিছুর সাথে বাড়তি কিছু অ্যাপ, লেআউট ও ইন্সটলেশন সাপোর্ট যুক্ত রয়েছে আল্টিমেট ভার্সনে। আর এডুকেশন ভার্সনে এডুকেশনাল অ্যাপগুলো যুক্ত আছে।

জরিন ওএস কোর

ছবিতে জরিন ওএস দেখতে আপনার কাছে কিছুটা উইন্ডোজের মত লাগে, তাহলে আপনি ঠিকই ধরেছেন। আর এটা কোন সিক্রেট নয়, এটাকে উইন্ডোজ লেআউটই বলা হয়। কারণ তারা সবসময়ই উইন্ডোজ ও ম্যাক থেকে লিনাক্সে নতুন আগতদের বিশেষ সুবিধা দিতে চেষ্টা করে। জরিন ওএস কোর ভার্সনে তিনটি লেআউট রয়েছে, উইন্ডোজ, উইন্ডোজ ক্লাসিক ও টাচ লেআউট। টাচ লেআউটটি টাচস্ক্রিন ডিসপ্লের জন্য বিশেষভাবে উপযুক্ত। অন্যদিকে, আল্টিমেট ভার্সনে আরো তিনটি লেআউট থাকছে, ম্যাক, গ্নোম ৩ ও উবুন্টু। লাইট ভার্সনে টাচ লেআউট নেই।

আসলে, বাড়তি লেআউটগুলোই আল্টিমেট ভার্সনের বড় আকর্ষণ। তবে ভালো কথা হলো কাস্টমাইজেশনের মাধ্যমে কোর এডিশনকেও সেরকম করে নেওয়া যায়, জাস্ট রেডিমেড না। জরিন ওএসে ডার্ক ও লাইট মোড এবং বিভিন্ন কালার একসেন্ট আছে।

Lite Desktop
জরিন ওএস লাইট

জরিন ওএসের ডিফল্ট ডিই হলো গ্নোম, যা চালাতে অন্তত ২ জিবি র‍্যাম প্রয়োজন, তবে ৪ জিবি র‍্যাম থাকলে ভালোভাবে চলে। অন্যদিকে লাইট এডিশনে এক্সএফসিই ডেস্কটপ ব্যবহার করা হয়েছে, যেটি চালাতে ১ জিবি র‍্যাম হলেই চলে। তবে উভয় ডিই-তে বেশ ভালোরকম কাস্টমাইজেশনের ছোঁয়া রয়েছে, আর একারণে দুটির মধ্যে পার্থক্যও খুব বেশি নয়। দুটোই সমানভাবে সুন্দর, তবে এনিমেশনের ব্যবহার সেভাবে নেই লাইট এডিশনে আর এটা একটু বেশি সিম্পল তবে একইসাথে বেশি কাস্টমাইজেবল।

জরিন ওএসের একটি অ্যাপের কথা আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই, তা হলো জরিন কানেক্ট। এটা এন্ড্রয়েডের সাথে ইনটিগ্রেশনের জন্য। বর্তমানে যেহেতু প্রায় সবারই একটি অ্যান্ড্রয়েড আছে, তাই এরকম অ্যাপ প্রি-ইন্সটলড থাকাটা ভালো লেগেছে। অবশ্য এটা লাইট ভার্সনে নেই।

✓ সুন্দর ইন্টারফেস
✓ উবুন্টুভিত্তিক
✓ ব্যবহার সহজ
✓ লাইট এডিশন

 

Series Navigation<< পেঙ্গুইনীয় (পর্ব-১১): ডিস্ট্রো পরিচিতি – লিনাক্স মিন্টপেঙ্গুইনীয় (পর্ব-০৩): ডেস্কটপ ইন্টারফেস কী? জনপ্রিয় ডেস্কটপ ইন্টারফেসগুলোর পরিচিতি >>
0 0 vote
Article Rating
Default image
তাহমিদ হাসান
এইতো, প্রতি ষাট সেকেন্ডে জীবন থেকে একটি করে মিনিট মুছে যাচ্ছে, আর এভাবেই এগিয়ে চলেছি মৃত্যুর পথে, নিজ ঠিকানায়। জীবন বড় অদ্ভুত, তাই না?
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x