পেঙ্গুইনীয় (পর্ব-১০): ডিস্ট্রো পরিচিতি – পপ ওএস

Pop!_OS এর নির্মাতা System76 মূলত একটি হার্ডওয়্যার কোম্পানি, তাদের বেশকিছু ল্যাপটপ, ডেস্কটপ ও মিনি কম্পিউটার রয়েছে। পরবর্তীতে তারা তাদের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে আসে। বেশ নতুন বলা যায় পপ ওএসকে, ২০১৭ সালের দিকে যাত্রা শুরু। তবে অল্প সময়ে ভালো জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পেরেছে। যখন লিখছি, আমি নিজেও পপ ওএস প্রাইমারী ডিস্ট্রো হিসেবে ব্যবহার করছি।

পপ ওএস একটি উবুন্টুভিত্তিক ডিস্ট্রো এবং উবুন্টুর মতই গ্নোম ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট অফার করে। উবুন্টু গ্নোম ছাড়া আরো কিছু ডিই অফার করলেও, পপ ওএস আউট অফ দি বক্স শুধু গ্নোম ডিই-তেই এভেইলেবল, তবে অবশ্যই অন্য ডিই ইন্সটল করে নেওয়া যায়। পূর্ণাঙ্গ ডিস্ট্রো হিসেবে আত্মপ্রকাশের আগে তাদের পপ থিম ও আইকন সেট বেশ পপুলার ছিলো। তাই তারা যখন একটি ডিস্ট্রো আনার ঘোষণা দেয়, তখন অনেকেরই ধারণা ছিলো এটা জাস্ট উবুন্টুর একটি স্কিনড ভার্সন হতে যাচ্ছে।

প্রথমদিকে অবশ্য বাস্তবেও অনেকটা সেরকমই ছিলো তবে প্রতিটি রিলিজের সাথে তারা নতুন নতুন ফিচার যুক্ত করতে থাকে এবং বর্তমানে পপ ওএসকে উবুন্টুর স্কিনড ভার্সন বলা একদমই ভুল হবে। আমরা যেহেতু উবুন্টু নিয়ে আলোচনা করেছি, তাই উবুন্টু থেকে বাড়তি কী কী পপ ওএস অফার করছে সে বিষয়গুলোতেই আলোকপাত করছি।

বলা হয়, আগে দর্শনধারী, এরপর গুণবিচারী। যদিও আমরা যেকোন ডিস্ট্রোকে কাস্টমাইজ করতে পারি, তারপরও প্রথম ইম্প্রেশন ভালো হওয়া বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলেই আমি মনে করি। এদিক দিয়ে পপ ওএস পূর্ণ নাম্বার পাবে। পপ ওএসের সিম্পল, ফ্লাট ও ক্লিন ডিজাইন প্রায় সবারই পছন্দ হবে। কালার কম্বিনেশনও বেশ চমৎকার। লাইট অথবা ডার্ক থিমে সুইচ করার সুযোগও আছে।

ছবি দুটো একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে, উইন্ডোতে কোন মিনিমাইজ বা ম্যাক্সিমাইজ বাটন নেই। অথবা কোন টাস্ক ম্যানেজারও নেই। আসলে পপ ওএসে গ্নোমের ওয়ার্কফ্লো অনেকটা স্টক রেখে দেওয়া হয়েছে। প্রথমে একটি কমপ্লিকেটেড মনে হতে পারে। তবে এটা অভ্যাসের বিষয়।

এখানে উপরে বাম কোণায় Activities বাটনেই মূলত সবকিছু। এখান থেকে অ্যাপ সুইচ করা যাবে ও বিভিন্ন ওয়ার্কস্পেসে সাজিয়ে রাখা যাবে। একারণে মিনিমাইজ বাটনের বিশেষ প্রয়োজন হয় না। তাছাড়া রাইট ক্লিক করে মিনিমাইজ করা যায়। অথবা টুইক টুল দিয়ে এনাবল করে নেওয়া যায়। তবে অভ্যস্থ হয়ে গেলে এর অভাব আসলে বোধ হয় না।

পপ ওএসের যে ফিচারটির কথা বিশেষভাবে বলতে হবে, তা হলো পপ শেল। যারা ডেভেলোপার রয়েছেন, একসাথে অনেক উইন্ডো মেইনটেন তথা মাল্টিটাস্কিং করতে হয়, তাদের জন্য পপ শেল খুবই উপকারী। পপ শেলে টাইলিং উইন্ডো ফিচার রয়েছে এবং রয়েছে বেশ কিছু কীবোর্ড শর্টকাট। শর্টকাট দিয়ে দ্রুততার সাথে ওয়ার্কস্পেস পরিবর্তন, অ্যাপ সুইচ, ক্লোজ, ম্যাক্সিমাইজ টাস্কগুলো করা যাবে।

যারা একটি কীবোর্ডভিত্তিক এনভায়রনমেন্ট চান, তাদের জন্য পপ ওএস খুবই উপযুক্ত। আমরা এর আগে উইন্ডো ম্যানেজার নিয়ে কিছুটা আলোচনা করেছিলাম এবং বলেছি, তা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উপযুক্ত নয়। তবে পপ শেল একটি পূর্ণাঙ্গ ডিই এর সাথে টাইলিং উইন্ডো ম্যানেজারের সুবিধাও প্রদান করে যা শর্টকাট কিংবা প্যানেল থেকে এনাবল করে নেওয়া যায়।

ডেভেলোপারদের জন্য এটা খুবই আকর্ষণীয় ফিচার। যাই হোক, সব ধরণের ইউজারদের এই ফিচার হয়ত প্রয়োজন নেই। তাদের জন্য পপ শেল এক্সটেনশন ডিজেবল করে রাখার সুযোগ রয়েছে। তারা একটি এক্সটেনশন ম্যানেজার যুক্ত করে দিয়েছে। ড্রাইভার সাপোর্টের দিক দিয়ে পপ ওএস খুবই চমৎকার। অন্যান্য গ্নোম ডেস্কটপের সাথে তুলনা করলে বেশ স্মূথ পারফর্মেন্স পাওয়া যায়।

পপ ওএসের ইন্সটলারটিও সিম্পল এবং ফ্রেন্ডলি। পপ ওএসের নিজস্ব সফটওয়্যার ম্যানেজার রয়েছে, Pop!_Shop। তারা .deb ফাইল ইন্সটলের জন্য একটি অ্যাপ যুক্ত করে দিয়েছে Eddy। বুটেবল ইউএসবি তৈরির জন্য একটি USB Flasher-ও রয়েছে।

তাছাড়া, উবুন্টুর মত লিব্রে অফিস, ফায়ারফক্স, সিস্টেম মনিটর, টেক্সট এডিটর, ডকুমেন্ট ভিউয়ারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো তো আউট অফ দি বক্স থাকছেই। তবে, উবুন্টুর মত পপ ওএসে Snap প্রি-ইন্সটলড নেই। তবে যুক্ত রয়েছে Flatpak।

এখন তাহলে একনজরে দেখে নিই পপ ওএস:

✓ স্লীক এন্ড সিম্পল ডিজাইন
✓ উবুন্টুভিত্তিক
✓ ডেভেলোপার ফ্রেন্ডলি ওয়ার্কফ্লো
✓ ভালো ড্রাইভার সমর্থন ও পারফর্মেন্স
✗ অভ্যস্থ হতে একটু সময় প্রয়োজন

Series Navigation<< পেঙ্গুইনীয় (পর্ব-০৯): ডিস্ট্রো পরিচিতি – উবুন্টুপেঙ্গুইনীয় (পর্ব-১১): ডিস্ট্রো পরিচিতি – লিনাক্স মিন্ট >>
0 0 vote
Article Rating
Default image
তাহমিদ হাসান
এইতো, প্রতি ষাট সেকেন্ডে জীবন থেকে একটি করে মিনিট মুছে যাচ্ছে, আর এভাবেই এগিয়ে চলেছি মৃত্যুর পথে, নিজ ঠিকানায়। জীবন বড় অদ্ভুত, তাই না?
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x