পেঙ্গুইনীয় (পর্ব-০৬): লিনাক্স ইন্সটলেশন, আল্টিমেট গাইডলাইন!

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। আসসালামু আলাইকুম। কেউ লিনাক্সে আসতে চাইলে প্রথম যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, তা হলো, ইন্সটলেশন। অনেকে এটা বুঝে উঠতে পারেন না। আবার অনেকে ইন্সটলের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে হার্ডডিস্ক পুরোপুরি ফরমেট করে ফেলেন।

ডিস্ট্রোভেদে ইন্সটলের নিয়মে কিছু পার্থক্য আসে। আর্চ, জেন্টুসহ কিছু ডিস্ট্রো রয়েছে যেগুলো ইন্সটলের জন্য বিশেষ দক্ষতা প্রয়োজন হয়। তবে উবুন্টু, মিন্ট, মানজারো, এলিমেন্টরী, পপ, জরিন,… প্রভৃতি ওএস ইন্সটলেশনের পদ্ধতিতে তেমন বড় ধরণের পার্থক্য আসলে নেই। হয়ত বা ইন্সটলারের লুক একটু ভিন্ন, কিছু ধাপ আগে পরে, তবে মূলনীতি কিন্তু একই!

মিন্ট, উবুন্টু, জরিন ওএস প্রভৃতি অপারেটিং সিস্টেম একই ইন্সটলার ব্যবহার করে। ইন্সটলারটির নাম হলো Ubiquity। অন্যদিকে, মানজারো কিংবা লুবুন্টুতে আপনি Calamares নামের অন্য একটি ইন্সটলারের দেখা পাবেন। কেডিই নিয়ন, পপ ওস, ডিপিন প্রভৃতি ওএসের আলাদা আলাদা ইন্সটলার রয়েছে।

তবে ইন্সটলারগুলো দেখতে কিছুটা ভিন্ন ও কিছু ধাপ এদিক-ওদিক থাকলেও, আসলে ইন্সটলেশন পদ্ধতিতে খুব বেশি পার্থক্য নেই। আমরা এখানে জরিন ওএস ইন্সটল করে দেখাবো।

সতর্কতা

আপনি বিভিন্নভাবে লিনাক্স ইন্সটল করতে পারেন। সবচেয়ে ঝুঁকিমুক্তভাবে ইন্সটল করতে ভার্চুয়ালবক্স ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে তা নিয়মিত ব্যবহারের জন্য ভালো পদ্ধতি না। এই পোস্টে ভার্চুয়ালবক্স নিয়ে আলোচনা করা হবে না।

আপনি হার্ডডিস্ক একদম ক্লিন করে ফেলে লিনাক্স ইন্সটল করতে পারেন। এক্ষেত্রে উইন্ডোজসহ হার্ডডিস্কের সব ডেটা মুছে যাবে। আবার বাকি ড্রাইভগুলো অক্ষত রেখে সি ড্রাইভসহ উইন্ডোজ সরিয়ে ফেলে লিনাক্স ইন্সটল করতে পারেন। অথবা উইন্ডোজ রেখে দিয়ে অন্য কোন ড্রাইভে লিনাক্স ইন্সটল করতে পারেন।

ইন্সটল শুরুর আগে আপনি অবশ্যই বুঝে নিবেন, আপনি কোনটি করতে চাচ্ছেন। সে অনুযায়ী অগ্রসর হতে হবে। আমার পরামর্শ থাকবে, আপনি যেভাবেই ইন্সটল করুন না কেন, কোন ক্লাউড ড্রাইভ বা ইউএসবি ডিস্ক বা অন্য কোথাও অবশ্যই আপনার সবচেয়ে জরুরী ডেটাগুলো ব্যাকআপ রেখে দিন। কেননা, প্রথম লিনাক্স ইন্সটল দিতে গিয়ে ভুলক্রমে হার্ডডিস্ক ক্লিন করে ফেলা বান্দার সংখ্যা কম নয়।

পোস্টটি সঠিকভাবে অনুসরণ করলে কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু তবুও, আপনার প্রয়োজনীয় কোন ডেটা হারিয়ে গেলে বা পিসির অন্য কোন সমস্যা হলে আমি দায়ী থাকবো না। অতএব, যা করবেন, নিজ দায়িত্বে ও নিজ ঝুঁকিতে…

পূর্বপ্রস্তুতি

লিনাক্স আইএসও ডাউনলোড

আপনার পছন্দের ওএসের আইএসও তাদের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে নিন। প্রয়োজনে এই পোস্টের সহায়তা নিতে পারেন।

বুটেবল ডিভাইস তৈরি

যদি আপনার একটি ডিভিডি রাইটার এবং একটি ব্লাঙ্ক ডিস্ক থাকে, সাধারণভাবে আইএসও ইমেজটি বার্ণ করে নিন।

অথবা যদি পেনড্রাইভ ব্যবহার করতে চান, উইন্ডোজে বুটেবল পেনড্রাইভ তৈরির বিভিন্ন সফটওয়্যার আছে। আমরা Rufus ব্যবহার করছি। Rufus চালু করে আপনার ডিভাইস, আইএসও সিলেক্ট করে স্টার্ট বাটনে প্রেস করুন।

এবারের স্ক্রিনে আপনাকে রাইট মোড সিলেক্ট করতে বলা হতে পারে। ISO Image mode মানজারো ওএস ছাড়া প্রায় সকল ডিস্ট্রোর ক্ষেত্রে কাজ করবে এবং এটাই রেকমেন্ডেড।

দ্রষ্টব্য: আমার চালানো ডিস্ট্রোগুলোর মধ্যে শুধু মানজারো DD Image mode ছাড়া কাজ করেনি। এক্ষেত্রে আপনার পেনড্রাইভ বিশেষভাবে ফরমেট হয়ে যাবে, ফলে অন্য কাজে ব্যবহার করা যাবে না। সেটা ঠিক করার জন্য সম্পূর্ণ ইন্সটলেশন শেষ হলে আবার Rufus থেকে ডিভাইসটি সিলেক্ট করে Boot Selection: None দিয়ে রাইট করতে হবে।

পার্টিশন টেবিল টাইপ জেনে রাখা

ইন্সটলের ক্ষেত্রে পার্টিশন টেবিলের ধরণের উপর ভিত্তি করে কিছুটা পরিবর্তন আসে। আপনার পিসিতে যদি উইন্ডোজ XP বা এর চেয়ে পুরোনো কিছু থাকে, তাহলে আপনার পার্টিশন টেবিল MBR। তবে উইন্ডোজ ৭/৮/১০ পার্টিশন টেবিল GPT অথবা MBR দুটিই হতে পারে।

MBR না GPT জানার জন্য Start বাটনে রাইট ক্লিক করে Command Prompt (Admin) অথবা Powershell (Admin) চালু করুন।
এখানে প্রথমে লিখুন diskpart এবং এরপর লিখুন list disk। এখন Gpt ঘরটা খেয়াল করুন, নিচের ছবিতে সেটি খালি রয়েছে। এর অর্থ আমার পার্টিশন টেবিল MBR, আর যদি এখানে * চিহ্ন থাকে, তবে আপনার পার্টিশন টেবিল GPT।

GPT হলে আমাদের আরেকটি বিষয় চেক করতে হবে। Windows+R চাপুন, Run Box চালু হবে। সেখান থেকে msinfo32 লিখে এন্টার চাপুন। এখন BIOS Mode ঘরে দেখুন, তা Legacy নাকি UEFI। যদি Legacy হয়, তবে আপনার সিস্টেম BIOS মোডে রয়েছে এবং UEFI থাকলে UEFI মোডে।

ছবিটি It’s FOSS থেকে নেওয়া

সিকিউর বুট ও ফাস্ট স্টার্টআপ ডিজেবল করা

এই ধাপ প্রযোজ্য হবে কেবল যদি:

  • আপনার পার্টিশন টেবিল GPT হয়
  • আপনি ৮/৮.১/১০ ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন
  • এবং আপনি উইন্ডোজের পাশাপাশি লিনাক্স ইন্সটল করতে চান

যদি উপরের তিনটি শর্তই আপনার জন্য সঠিক হয়, তবে আপনাকে Secure Boot ডিজেবল করে নিতে হবে। এজন্য এই টিউটোরিয়াল দেখুন।

তার সাথে Fast Startup ও বন্ধ রাখা ভালো। এজন্য Control Panel > Hardware and Sound > Power Options > System Settings > Choose what the power buttons do থেকে Turn on fast startup আনচেক করে দিন।

জায়গা বের করা

আপনি প্রয়োজনীয় ডেটাগুলো ব্যাকআপ নিয়ে পরবর্তীতে সম্পূর্ণ হার্ডডিস্ক (সকল ড্রাইভের সকল ডেটা) মুছে লিনাক্স ইন্সটল দিতে পারেন। তবে সেটা অনেকেই করতে চাইবেন না।

যাইহোক, আপনি উইন্ডোজ রেখে দিতে চান, অর্থাৎ, পিসিতে একসাথে উইন্ডোজ ও লিনাক্স রাখতে চান, তো, C Drive ব্যতীত অন্য কোন একটি ড্রাইভের প্রয়োজনীয় ফাইলগুলো সরিয়ে নিয়ে সম্পূর্ণ খালি করে ফেলুন।

যদি উইন্ডোজের পরিবর্তে লিনাক্স ব্যবহার করতে চান, তবে C Drive থেকে ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় ফাইলগুলো অন্য ড্রাইভে সরিয়ে নিন।

এর সাথে সম্ভব হলে আপনার পিসির সব ফাইল অন্য কোথাও (যেমন, কোন পেনড্রাইভ বা গুগল ড্রাইভ বা মেগা) ব্যাকআপ রেখে দিন। না হলেও, অন্তত সবচেয়ে জরুরী ফাইলগুলো ব্যাকআপ রাখা ভালো। কেননা, অনেকেই লিনাক্স প্রথমবার ইন্সটল করতে গিয়ে না বুঝে ডিস্ক ক্লিন করে ফেলেন। আর যতই সতর্ক থাকুন, সামহাও ভুল তো হতেই পারে…

গুরুত্বপূর্ণ! লিনাক্স ইন্সটলের সময় আপনি পার্টিশনগুলো (C, D, E) এভাবে দেখতে পাবেন না। তাই যে ড্রাইভটিতে লিনাক্স ইন্সটল করতে চাচ্ছেন, সেটির মোট সাইজ ও ফ্রি স্পেস মুখস্থ বা কোথাও লিখে রাখুন। কেননা, সাইজ দেখেই আমাদের ড্রাইভ চিনতে হবে।

ইন্সটলেশন

আমি এখানে জরিন ওএস দিয়ে ইন্সটলেশন প্রসেস দেখাচ্ছি। উবুন্টু, লিনাক্স মিন্ট, এলিমেন্টরী ওএস প্রভৃতি ওএসের ইন্সটলেশনও প্রায় একদমই সেম মেথড হবে। আবার মানজারো, কেডিই নিয়ন, পপ!_ওএস সহ কিছু ওএসে আবার ইন্সটলারের চেহারা একটু ভিন্ন হবে, দু-একটা ধাপ আগেপরে হবে, তবে মূল নিয়ম, একইরকম।

যে ডিভাইসটিতে লিনাক্স আইএসও রাইট করা হয়েছে, সেটি থেকে পিসি বুট করতে হবে। এজন্য ডিভাইসটি পিসিতে ইনসার্টেড অবস্থায় পিসি চালু করুন এবং বুট মেনুতে যান। সাধারণভাবে চালু হওয়ার সময়ই আপনাকে নির্দেশনা দেওয়া হবে কোন কী (F2, F12, F9, ESC প্রভৃতি হতে পারে) প্রেস করে বুট মেনুতে যাওয়া যাবে। বুট মেনুতে যেতে পিসি সুইচ অন করে সেই কী কয়েক সেকেন্ড প্রেস করতে থাকুন।

এখানে আপনি বিভিন্ন ডিভাইস দেখতে পাবেন। যেটি Flash Disk, USB Removable Disk এরকম নাম হবে সেটি সিলেক্ট করতে হবে। যদি দুটি দেখা যায়, তবে যেটিতে UEFI শব্দটি নেই অথবা EFI শব্দটি আছে সেটি নির্বাচন করতে হবে।

এখন ইউএসবি ডিস্ক থেকে বুট হবে। এরপর আপনাকে ভাষা নির্বাচন ও Install অথবা Try দুটি অপশন দেওয়া হবে। Install অপশনটি আপনাকে সরাসরি ইন্সটলারে নিয়ে যাবে এবং Try অপশনটি নির্বাচনের মাধ্যমে ইন্সটল না করে রিমুভেবল ডিস্কটি থেকে লাইভ বুট করে কিছুটা অভিজ্ঞতা নেওয়া যাবে। এবং এতে আপনার পিসির কোন ক্ষতিও হবে না।

আমরা Try অপশনটি নির্বাচন করব। কেননা, এতে ওএসটি আপনার জন্য কতটা উপযুক্ত, তা নিয়ে কিছু ধারণা যেমন পাওয়া যাবে, এর সাথে কিছু কাজ আছে পার্টিশন নিয়ে।

ফ্রি স্পেস তৈরি

যদি আপনি (নিজ দায়িত্ব ও ঝুঁকিতে) হার্ডডিস্ক একদম ক্লিন করে ফেলতে চান, অর্থাৎ, পিসির বর্তমান সব ডেটা মুছে ফেলে ক্লিনভাবে লিনাক্স দিতে চান, তবে আপাতত পার্টিশন নিয়ে কিছু করতে হবে না।

কিন্তু যদি শুধু উইন্ডোজ সরিয়ে বা উইন্ডোজের পাশাপাশি লিনাক্স ইন্সটল করতে চান, তাহলে আমরা যে ড্রাইভটি থেকে প্রয়োজনীয় ডেটা অন্যত্র সরিয়ে খালি করে নিয়েছিলাম, সেটি এখন মুছে ফেলবো।

পার্টিশন ম্যানেজার হিসেবে জরিন ওএসে GParted অ্যাপ্লিকেশনটি দেওয়া আছে, বেশিরভাগ ওএসে লাইভ বুটে এটা পেয়ে যাওয়ার কথা। আবার কেডিই ডেস্কটপযুক্ত ওএসে KDE Partition Manager-ও থাকতে পারে। অ্যাপ্লিকেশন মেনুতে সার্চ দিলে এই দুটির একটি পেয়ে যাবেন আশা করি (নিচের ছবির মত)।

এখানে আপনার পার্টিশনগুলো দেখা যাবে। আপনি যে পার্টিশনটি লিনাক্স ইন্সটলের জন্য খালি করে রেখেছেন, সেটি সিলেক্ট করুন, ডিলিট আইকনে ক্লিক করুন ও অ্যাপ্লাই (টিক চিহ্নের আইকন) করুন। তারপর ছবির মত কিছু unallocated স্পেস তৈরি হবে। এভাবেই রেখে দিন। আর ছবিতে এতগুলো পার্টিশন দেখে ভয় পাবেন না… আমি টেস্টিংয়ের জন্য প্রায়ই অনেক ওএস একসাথে ইন্সটল দিই বলে আলাদা আলাদা পার্টিশন তৈরি করে রেখেছি।

ইন্সটল

ডেস্কটপে দেখুন Install Zorin OS 15 একটি আইকন আছে। এটিতে ক্লিক করুন। তাহলে ইন্সটলার চালু হবে। প্রথম স্ক্রিনে ভাষা নির্বাচন করতে হবে। আমরা ইংলিশ-ই রেখে দিচ্ছি।

পরের ধাপে কীবোর্ড লেআউট। এখানেও পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। আমরা ইন্সটলের পরে বাংলা লেআউট যুক্ত করতে পারব। তাই পরিবর্তন করব না।

এবারের ধাপে ওয়ারলেস নেটওয়ার্কে কানেক্ট করব কিনা জানতে চাওয়া হচ্ছে। আপনি যদি ইন্সটল চলাকালীন রিলিজের পর থেকে আসা আপডেটগুলো ইন্সটল করে নিতে চান, তবে ওয়াইফাইয়ে কানেক্ট করে নিন।

পরের ধাপে আপনি আপডেট ও কিছু তৃতীয় পক্ষের সফটওয়্যার ইন্সটল করতে চান কিনা জানতে চাওয়া হবে। বলে রাখি, আপনার ইন্টারনেট কানেকশন ধীরগতির হলে ইন্সটলেশনের আপডেট ডাউনলোড করতে বেশ কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে।

ইন্সটলের ধরণ

এবার সবচেয়ে সেন্সিটিভ ধাপ! এইখানে এসে অনেকে উল্টোপাল্টা করে ফেলে। তাই আপনি যা করছেন, একটু সাবধানে করতে হবে।

ছবিতে দেখুন, কয়েকটি অপশন রয়েছে। পিসিতে বর্তমানে কী ওএস রয়েছে অথবা আপনি যে ওএস ইন্সটল দিচ্ছেন, সে অনুযায়ী অপশনগুলো কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তো, অবশ্যই বুঝেশুনে নিজের জন্য সঠিকটি নির্বাচন করতে হবে।

১. Install allongside অপশনটি আপনার বর্তমান ওএস রেখে দিয়ে তার সাথে আমাদের কিছুক্ষণ আগে খালি করে রাখা unallocated স্পেসে লিনাক্স ইন্সটলের জন্য নির্বাচন করা যেতে পারে।

২. Erase disk and install অপশনটি পুরো হার্ডডিস্কের সব ডেটা মুছে লিনাক্স ইন্সটল করার জন্য। অনেকেই অতি উৎসাহে এটা দিয়ে হার্ডডিস্ক ক্লিন করে ফেলে। তাই আপনার হার্ডডিস্কের ডেটার প্রতি মায়া থাকলে এটা সিলেক্ট করবেন না। তবে আপনার পিসিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু না থাকলে বা ব্যাকআপ থাকলে এবং আপনি সত্যিই হার্ডডিস্ক ক্লিন করে লিনাক্স ইন্সটল করতে চাইলে এটা নির্বাচন করুন।

৩. আরেকটি অপশন দেখা যেতে পারে, যেটি ছবিতে নেই (কারণ আমার পিসিতে উইন্ডোজ নেই), Replace Windows, এটা নির্বাচন করুন, যদি আপনি উইন্ডোজ (ও সি ড্রাইভের সবকিছু) মুছে ফেলে লিনাক্স ইন্সটল করতে চান। উল্লেখ্য, বাকি ড্রাইভগুলো ঠিক থাকবে।

৪. Something else হলো এডভান্সড অপশন। এর পরিবর্তে অন্য ওএসে Manual, Advanced এরকম অপশন থাকতে পারে। সাধারণভাবে, এটা ব্যবহার করারই পরামর্শ থাকবে, কারণ এটি পাওয়ারফুল।

তাহলে এবার বুঝেশুনে নিজের জন্য সঠিক অপশনটি সিলেক্ট করুন। প্রথম তিনটির ক্ষেত্রে এরপর আপনাকে দেখানো হবে পার্টিশনে কীধরণের পরিবর্তন ঘটবে।

পার্টিশন করা

যারা Something else নির্বাচন করব, তাদের এখন পার্টিশন তৈরি করতে হবে। আমরা যে খালি জায়গা তৈরি করেছি, সেটা ছবিতে দেখা যাচ্ছে। এই জায়গায় আমাদের কয়েকটি পার্টিশন তৈরি করতে হবে। এজন্য আমরা ফ্রি স্পেসটি সিলেক্ট করব এবং + বাটনে ক্লিক করব।

পরের স্ক্রিনে আমাদের পার্টিশন সাইজ, ধরণ, ব্যবহার, মাউন্ট পয়েন্ট ঠিক করতে হবে। পার্টিশন টেবিল টাইপ অনুযায়ী আমাদের প্রয়োজনীয় পার্টিশন কিছুটা ভিন্ন হবে।

এখানে নিচের তালিকা অনুযায়ী আপনার প্রয়োজনীয় পার্টিশনগুলো তৈরি করে নিন:

MBR এর ক্ষেত্রে

MBR এ চারটির বেশি প্রাইমারী পার্টিশন তৈরি করা যায় না। তবে তিনটি প্রাইমারী ও কয়েকটি লজিক্যাল পার্টিশন রাখা যেতে পারে।

পার্টিশনআবশ্যিকতাSizeTypeUse asMount Point
/bootকিছু পিসিতে দরকার হয়, তাই দেওয়া ভালো।~512 MBPrimary/LogicalExt4/boot
swapদেওয়া ভালো2-4 GBPrimary/Logicallinuxswap
/আবশ্যকঅবশিষ্ট খালি জায়গাPrimary/LogicalExt4/

GPT-BIOS বা Legacy এর ক্ষেত্রে

পার্টিশনআবশ্যিকতাSizeTypeUse asMount Point
BIOS-Bootআবশ্যক1 MBPrimaryReserved BIOS boot area*
/bootকিছু পিসিতে দরকার হয়, তাই দেওয়া ভালো।~512 MBPrimaryExt4/boot
swapদেওয়া ভালো2-4 GBPrimarylinuxswap
/আবশ্যকঅবশিষ্ট খালি জায়গাPrimaryExt4/

*Reserved BIOS boot area অপশন না থাকলে / এর সাথে boot ফ্ল্যাগ যুক্ত করে দিতে হবে যা ইন্সটলারে রয়েছে।

GPT-UEFI বা EFI এর ক্ষেত্রে

পার্টিশনআবশ্যিকতাSizeTypeUse asMount Point
/boot/efiআবশ্যক250 MBPrimaryEFI System Partition*
/bootকিছু পিসিতে দরকার হয়, তাই দেওয়া ভালো।~512 MBPrimaryExt4/boot
swapদেওয়া ভালো2-4 GBPrimarylinuxswap
/আবশ্যকঅবশিষ্ট খালি জায়গাPrimaryExt4/

*EFI System Partition না থাকলে নিম্নরূপ পার্টিশন তৈরি করতে হবে।

পার্টিশনআবশ্যিকতাSizeTypeUse AsMount PointFlag
/boot/efiআবশ্যক250 MBPrimaryFat32/boot/efiesp

ইন্সটলেশনের বাকি অংশ

পার্টিশন তৈরি শেষে Install Now নির্বাচন করুন। উল্লেখ্য, উইন্ডোজে যে ড্রাইভ সিলেক্ট রাখা হত, সেখানে ইন্সটল হত। লিনাক্সে আমাদের Mount Point অনুযায়ী ইন্সটল হবে বলে কোনটি সিলেক্ট রয়েছে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। এরপর আপনাকে হার্ডডিস্কে কী কী পরিবর্তন হচ্ছে দেখানো হবে।

এবার নিজের নাম, পাসওয়ার্ড প্রভৃতি সেট করতে হবে। আর আমি শর্ট পাসওয়ার্ড সেট করেছি, কারণ, লিনাক্সে পাসওয়ার্ড জিনিসটা বিভিন্ন সময়ে দরকার হয়, বড় পাসওয়ার্ড তাই ঝামেলা মনে করি।

এখন ইন্সটল শুরু হয়ে যাবে…

ইন্সটল সম্পূর্ণ শেষ হলে আপনাকে বুটেবল ডিস্কটি রিমুভ করে রিস্টার্ট করতে বলা হবে। তারপর আর কী, উপভোগ করুন লিনাক্সের দুনিয়া!

বিকল্প পদ্ধতি

যদি উপরের পদ্ধতি কঠিন মনে হয়, তবে চিন্তা নেই, বিকল্প আছে। আশেপাশের কোন অভিজ্ঞ লিনাক্সিয়ানকে ধরে মুরগির ঠ্যাং ভাজা খাইয়ে দিন। এরপর তাকে দিয়ে ইন্সটল করিয়ে নিন। তবে সে আপনার পিসির ১২টা বাজাইলে আমার দোষ নাই…

সহায়তা

Series Navigation<< পেঙ্গুইনীয় (০৫): উবুন্টুর অনুভূতি নিন ওয়েব ব্রাউজারেপেঙ্গুইনীয় (পর্ব-০৭): সফটওয়্যার ইন্সটল করা >>
0 0 vote
Article Rating
Default image
তাহমিদ হাসান
এইতো, প্রতি ষাট সেকেন্ডে জীবন থেকে একটি করে মিনিট মুছে যাচ্ছে, আর এভাবেই এগিয়ে চলেছি মৃত্যুর পথে, নিজ ঠিকানায়। জীবন বড় অদ্ভুত, তাই না?
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x