জিমেইল একাউন্ট তৈরির নিয়ম (ছবিসহ)

বর্তমানে আমাদের বিভিন্ন কাজের জন্য ইমেইল অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্ভিস হলো গুগলের Gmail। আমি জানি, অনেকের কাছে এই পোস্টটি অপ্রয়োজনীয় মনে হতে পারে, কেননা, জিমেইল অ্যাকাউন্ট খোলা খুবই সহজ আর আমাদের অধিকাংশেরই ইতোমধ্যেই একটি কিংবা তার বেশি জিমেইল অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

কিন্তু, এমন অনেকেও থাকতেই পারেন, যাদের একটি জিমেইল একাউন্ট প্রয়োজন কিন্তু বুঝতে পারছেন না কীভাবে তৈরি করবেন। আমি আশা করব, তাদের জন্য এই পোস্টটি সহায়ক হবে।

জিমেইল মূলত গুগলের একাউন্ট সার্ভিসের একটি অংশ। একটি একাউন্ট থেকে জিমেইলের পাশাপাশি ইউটিউব, গুগল ড্রাইভ, প্লে স্টোরসহ গুগলের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট একসেস করা যাবে। একাউন্ট তৈরির জন্য https://accounts.google.com এই ঠিকানায় যেতে হবে। এখান থেকে Create Account লেখায় ক্লিক করতে হবে। ড্রপডাউন বক্স আসলে পার্সোনাল জিমেইল তৈরির জন্য For myself এ ক্লিক করতে হবে।

পরের ঘরে অ্যাকাউন্টের তথ্য, অর্থাৎ নামের প্রথম ও শেষ অংশ তথা পূর্ণ নাম, ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড নির্ধারণ করতে হবে। ইউজারনেমটিই মূলত আপনার জিমেইল আইডি। এটা ইউনিক হতে হবে। অর্থাৎ, পূূর্বে কেউ ব্যবহার করেছে, এমন নাম আর ব্যবহার করা যাবে না। যেমন, ছবিতে দেখা যাচ্ছে hzbrlbn@gmail.com ইতোমধ্যেই ডেটাবেজে আছে। এক্ষেত্রে তারা আমাকে কিছু নাম সাজেস্ট করছে, যা আমি ব্যবহার করতে পারি কিংবা নিজের পছন্দমত অন্য একটি নাম ব্যবহার করতে পারি। এক্ষেত্রে সাধারণত নাম একটু এদিকওদিক, নামের সাথে জন্মসাল বা কোন সংখ্যা কিংবা bd প্রভৃতি যুক্ত করতে দেখা যায়।

পাসওয়ার্ডের দুটি ঘর। দ্বিতীয় ঘরটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য, যে টাইপিংয়ে ভুল হয়নি। ঘর দুটি বর্ণ, সংখ্যা এবং সঙ্কেত মিলিয়ে অন্তত ৮টি বর্ণের শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দ্বারা পূরণ করতে হবে। এটা আপনাকে মনে রাখতে হবে, কিন্তু কাউকে বলা যাবে না। পাসওয়ার্ড সংরক্ষণের বিষয়ে আপনাকে সচেতন থাকতে হবে, ডায়েরি বা এমন কোথাও লিখে রাখা যাবে না যেখান থেকে অন্য কেউ পেয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তথ্য প্রদান করে Next প্রেস করে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে।

এই ধাপটি সবসময় প্রয়োজন হয় না। গুগল কখনো কখনো অ্যাকউন্ট তৈরির জন্য ফোন ভেরিফিকেশন করতে বলে। মূলত তাদের সিস্টেমের অপব্যবহার রোধে তারা এটি করে থাকে। আমি এখন যখন টিউটোরিয়াল লেখার জন্য জিমেইল তৈরি করছিলাম, তখন এই ধাপটি প্রয়োজন হয়নি।

যাই হোক, ফোন ভেরিফিকেশনের জন্য একটি ফোন নাম্বার দিতে হবে। এই নাম্বারটি কেবল ভেরিফিকেশনের জন্য, একাউন্টের সাথে এটি যুক্ত হবে না। অবশ্যই আপনার কাছে থাকতে হবে। কেননা এতে একটি মেসেজ আসবে, যেখানে একটি কোড থাকবে। আমার জানামতে বাংলাদেশে এই এসএমএসের জন্য কোন টাকা কাটে না, যদিও তারা সাধারণ রেট প্রযোজ্য বলছে। এরপর Next থেকে গিয়ে ফোনে মেসেজ আসা কোডটি লিখে যাচাই করতে হবে।

এরপরের ধাপে আরো কিছু ব্যক্তিগত তথ্য দিতে বলা হবে। এর মধ্যে মোবাইল নাম্বার ও রিকোভারী ইমেইল অপশনাল। উল্লেখ্য আগের নাম্বারটি ছিলো যাচাইয়ের জন্য, আর এটি আপনার একাউন্টের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকবে। এই নাম্বারটি মূলত একাউন্টকে আরো সিকিউর করার জন্য ব্যবহার হয়। যদি আপনার অন্য কোন ইমেইল অ্যাকাউন্ট না থাকে, তবে ঘরটি খালি রাখুন। আপনার ব্যক্তিগত তথ্যগুলো গুগলের নিয়ম অনুযায়ী নিরাপদ থাকবে।

Next থেকে পরবর্তী ধাপে গেলে বিশাল একটি ফিরিস্তি ধরিয়ে দেওয়া হবে গোপনীয়তা ও শর্তাবলী সংক্রান্ত। যদিও এটা পড়ার জন্য, তবে সাধারণ নিয়ম হলো চোখ বন্ধ করে I Agree বাটনে ক্লিক করা, কেননা, শর্ত পছন্দ হোক বা না হোক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আপনাকে অবশ্যই সম্মত হতে হবে।

তবে, MORE OPTIONS ঘরে কিছু অপশন আছে যা পছন্দমত নির্বাচন করে নিতে পারেন। সাধারণ অবস্থায় অপশন পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই, তবে চাইলে অপশনগুলো দেখে নিতে পারেন।

অভিনন্দন! আপনি সফটলভাবে একটি জিমেইল অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছেন। এখন জিমেইল মেইলবক্স একসেস করার জন্য https://mail.google.com এই ঠিকানায় যেতে হবে। লগ ইন না থাকলে কিংবা অন্য কোন ডিভাইস থেকে লগইনের ক্ষেত্রে ইউজারনেম তথা জিমেইল অ্যাড্রেস ও পাসওয়ার্ড প্রয়োজন হবে।

0 0 vote
Article Rating
Default image
তাহমিদ হাসান
এইতো, প্রতি ষাট সেকেন্ডে জীবন থেকে একটি করে মিনিট মুছে যাচ্ছে, আর এভাবেই এগিয়ে চলেছি মৃত্যুর পথে, নিজ ঠিকানায়। জীবন বড় অদ্ভুত, তাই না?
Subscribe
Notify of
guest
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
trackback
20 days ago

[…] আইডি না থাকলে তৈরি করে নেওয়ার জন্য এই নির্দেশনা অনুসরণ করতে […]

1
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x