জরিন ওএস আমাকে মুগ্ধ করলো…

প্রথম দর্শনেই আমি অবাক হয়েছি, এবং বলুনতো, এত সুন্দর একটা ডেস্কটপ কাকে অবাক করবে না? জরিন ওএস তাদের নতুন ভার্সনটি সত্যিই অসাধারণ করেছে মনে হচ্ছে…

না, জরিন ওএস নিয়ে আমি কোন ডিটেইলড আলোচনা এখন করব না। মূলত শুধু স্বল্প সময়ের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করব। তবে জরিন ওএসের একটুখানি পরিচয় দিয়ে নিই। এটা উবুন্টুভিত্তিক একটা লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন যাদের লক্ষ্য হলো, দ্রুততর, শক্তিশালী, নিরাপদ ও প্রাইভেসী রেসপেক্টিং উইন্ডোজ ও ম্যাক ওএসের একটা বিকল্প দেওয়া। যদি উপরের ছবিতে জরিন ওএস দেখতে আপনার কাছে কিছুটা উইন্ডোজের মত লাগে, আপনি ঠিক ধরেছেন। এটা কোন সিক্রেট নয়, বরং জরিন ওএস এটাকে উইন্ডোজ লেআউটই বলে থাকে। কারণ তারা সবসময়ই উইন্ডোজ ও ম্যাক থেকে লিনাক্সে নতুন আগতদের বিশেষ সুবিধা দিতে চেষ্টা করে।

যেমন, পূর্বের ভার্সনগুলোতে আমরা উইন্ডোজ সফটওয়্যার চালানোর জন্য তাদের ওয়াইন ও প্লে অন লিনাক্স প্রি ইন্সটলড রাখতে দেখেছি। কিন্তু যে কারণেই হোক, জরিন ওএস ১৫ তে তা বাদ দেওয়া হয়েছে দেখছি। এতে তাদের উদ্দেশ্য কতটা ব্যাহত হলো জানি না যদিও…

লিনাক্স মিন্ট, এলিমেন্টরী ওএসসহ কিছু ওএস ইন্সটল দিয়ে একটা বিষয়ে খুব হতাশ হয়েছি বারবার। উবুন্টু ১৮.০৪ এর উপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়ায় সেগুলোর লেটেস্ট ভার্সনেও গিম্প, লিব্রেঅফিসসহ কিছু সফটওয়্যারের বেশ পুরনো ভার্সন পাওয়া যায়। তবে জরিন এ বিষয়ে আমাকে হতাশ করেনি। জানি না, এটা উবুন্টুর কোন ভার্সন ভিত্তিক, 18.04 LTS নাকি 19.04, তবে দেখে ভালো লাগলো, তারা কোর ভার্সনে গিম্প 2.10.8 আর লেটেস্ট লিব্রেঅফিস 6.2.4-2 যুক্ত করে দিয়েছে। যদিও, গিম্পের লেটেস্ট ভার্সনটি ২-৩ দিন আগে আসা 2.10.12, তবে, অন্তত মিন্টের মত 2.8.22 ভার্সন তো আর ধরিয়ে দিচ্ছে না!

ও হ্যাঁ, কোর ভার্সনের কথা চলে আসলো যখন তখন আরো কিছু কথা বলে নিই। জরিন ওএসের (৩*২)টি ভার্সন আছে। কোর, আল্টিমেট, এডুকেশন এবং এদের প্রত্যেকের লাইট ভার্সন। কোর, লাইট, এডুকেশন, এডুকেশন লাইট এই চারটি ভার্সন একদম বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। তবে আল্টিমেট এবং আল্টিমেট লাইট ভার্সনদুটি একসাথে $39 এ কিনে নিতে হবে, কারণ নির্মাতাদেরও তো খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকতে হবে, তাই না?

তবে কোর ভার্সনেও আপনি খুব বেশি কিছু মিস করবেন না। আল্টিমেট ভার্সনটিতে বেশ কিছু গেমস, মিডিয়া ও বিজনেস সফটওয়্যার অতিরিক্ত আছে, যেগুলো কোর ভার্সনেও সফটওয়্যার সেন্টার থেকে ডাউনলোড করে নেওয়া যাবে। তবে যেটা মিস করবেন, জরিন ওএস কোরে তিনটা লেআউট আপনি পাবেন। দুটি উইন্ডোজ লেআউট ও একটি টাচ লেআউট। টাচ লেআউটটা টাচস্ক্রিন ডিভাইসে বিশেষ উপযুক্ত। আল্টিমেট ভার্সনে এর সাথে MacOS, Gnome3, Ubuntu লেআউট তিনটি বোনাস পাবেন।

আর এডুকেশন ভার্সনের এখন পর্যন্ত তারা নতুন রিলিজ আনেনি। তাছাড়া, লাইট ভার্সনগুলোও এখনো রিলিজ হয়নি, তবে আশা করা যাচ্ছে দ্রুতই হয়ে যাবে। এডুকেশন ভার্সনে কিছু কাজের এডুকেশনাল অ্যাপ যুক্ত থাকে। লাইট ভার্সনগুলোতে তারা লাইটওয়েট XFCE ডেস্কটপ ও সাধারণ ভার্সনগুলোতে একটু ভারি Gnome ব্যবহার করে। মনে নেই কোন চ্যানেল, তবে ইউটিউবে কোন একটা ভিডিওতে দেখলাম, রিভিউকারীর মতে, Gnome কে জরিন ওএস ই সম্ভবত সবচেয়ে সুন্দর চেহারা দিতে পেরেছে এবং আমিও তার সাথে মোটামুটি একমত।

আর যেটা মেনশন করতেই হচ্ছে, তাদের Zorin Appearance অ্যাপলিকেশনটা খুবই কাজের। এখানে আপনি লেআউট নির্বাচন করতে পারবেন, ডেস্কটপ আইকন এনাবল বা ডিজেবল করতে পারবেন, উইন্ডো বাটন পজিশন ডান-বাম করতে পারবেন, ফন্ট কনফিগার করতে পারবেন, প্যানেলে শো ডেস্কটপ বাটন, এক্টিভিটিজ ওভারভিউ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন- সব মিলিয়ে কাস্টমাইজেবিলিটিতে আপনাকে বড় একটা দখল দিবে।

তবে সবকিছু ছাপিয়ে এখানে থিম সেটিংসে নতুন ভার্সনটিতে নিয়ে আসা টুইকগুলো নজর কেড়েছে। এখন আপনি লাইট অথবা ডার্ক থিম আলাদাভাবে নির্বাচন করতে পারবেন অথবা দিন রাত অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত করার সুবিধা পাবেন। এর সাথে তারা Accent Color নামে নতুন একটি অপশন নিয়ে এসেছে। নির্বাচিত রং অনুযায়ী হাইলাইট কালার, আইকন, টেক্সট প্রভৃতি বদলে যাবে। এই ফিচারটা অসাধারণ!

ব্যাকগ্রাউন্ডের কালেকশনটা মনোমুগ্ধকর ছিলো, আর অনেক কিছুর মতই। বেশ চমৎকার সব ওয়ালপেপার আপনি পেয়ে যাবেন। তবে এখানেও তারা খেল দেখিয়েছে।

তারা একটি ওয়ালপেপার যুক্ত করেছে যা সময়ের সাথে বদলাবে। যেমনটি নিচের ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে। ঘড়ির দিকে লক্ষ্য করুন! এভাবেই এটা সময়ের সাথে বদলাবে।

আর সাথে জরিন কানেক্ট এর কথা মেনশন না করে পারছি না। যদিও আমি এখনও এটা ব্যবহার করিনি। তবে, এখন যেহেতু প্রায় সবাই অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার করেন, অ্যান্ড্রয়েডের সাথে কানেক্ট করার সুবিধা সব ডিস্ট্রোরই দেওয়া উচিৎ মনে করি।

এখন পর্যন্ত সবকিছুই ভালো লাগছে। যদি কেউ চালিয়ে দেখতে চান, আমি মনে করি, অবশ্ই এটা একটা ভালো পছন্দ।

জরিন ওএস

About the Author: তাহমিদ হাসান

এইতো, প্রতি ষাট সেকেন্ডে জীবন থেকে একটি করে মিনিট মুছে যাচ্ছে, আর এভাবেই এগিয়ে চলেছি মৃত্যুর পথে, নিজ ঠিকানায়। জীবন বড় অদ্ভুত, তাই না?

You May Also Like

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of