কেন চাঁদ পৃথিবীতে পড়ে যাচ্ছে না?

সেদিন যদি আপেলটা না পড়ত, নিউটনের হয়ত তার মহাকর্ষ সূত্র দেওয়া হত না। এখন আমরা জানি, পৃথিবী সবকিছুকে তার নিজের দিকে টানে। তাই, একটা আপেল গাছ থেকে মাটিতে পড়ে, অথবা একটা বল ছেড়ে দিলে সেটা নিচে পড়ে যায়।

কিন্তু, প্রশ্ন হলো রাতের আকাশের ওই 10^22 kg ভরের বিশাল গোলক ওই চাঁদটা কেন তাহলে মাটিতে পড়ে যাচ্ছে না? মানে হ্যাঁ, আমি বলছি অবশ্যই এটা আমাদের জন্য ভালো, কিন্তু তবু কিউরিয়াস মাইন্ড ওয়ান্টস টু নো, হোয়াই? চলুন, জেনে নেওয়া যাক।

প্রথমে আপনি জানেন, পৃথিবী গোলাকার যদি আপনি ফ্লাট আর্থে বিশ্বাসী না হোন। এবং আরো আপনি জানেন, চাঁদ কিন্তু স্থির হয়ে নেই। অর্থাৎ, এটা পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। রাইট?

এখন আমাদের উত্তরটা খুঁজতে একটা বল হাতে ফাঁকা মাঠে চলে যাচ্ছি। না, সত্যিই যাচ্ছি না, ধরে নিন আরকি। এইতো আমরা মাঠে চলে আসলাম। এখন ছবিটা দেখুন।

আমরা একটা বলকে সামনের দিকে অর্থাৎ ছবিতে X বরাবর ছুঁড়ে দিলাম। তাহলে কী ঘটবে? জড়তার ধারণা থেকে জানি, গতিশীল বস্তু চিরদিন সমবেগে গতিশীল থাকতে চাইবে। অর্থাৎ, বলটা X বরাবর এগিয়ে যেতে চাইবে। কিন্তু অভিকর্ষ বল একে Y অর্থাৎ নিচের দিকে টানবে। কাজেই বলটা মোটামুটি কালো রঙের পথটিতে অগ্রসর হবে এবং কিছুদূর অগ্রসর হয়ে মাটিতে পড়ে যাবে।

এখন, আমরা আরেকবার বলটি ছুঁড়ে দিব। তবে এবার, আগের চেয়ে জোরে। তাহলে কী হবে? বলটা আগের মতই কিছুটা অগ্রসর হয়ে মাটিতে পড়বে। কিন্তু, এবার কিছুটা বেশি পথ অতিক্রম করবে। এবং যদি আমরা আরো গতি বাড়াই, তবে বলটির অতিক্রমকৃত দূরত্ব করবে। নয় কি?

যদি তাই হয়, তবে আমরা এবার আরো বড় করে বিষয়টা চিন্তা করি। ধরা যাক, এবার আমরা খুব খুব উঁচু একটা বিল্ডিংয়ে উঠলাম। এখানে আমরা খুব বড় একটা বল নিলাম, আর কোন শক্তিশালী যন্ত্রের সাহায্যে এটা নিক্ষেপ করলাম, ঠিক আগের বলটির মতই।

ছবিতে আমরা A বরাবর বলটি ছুঁড়ে দিয়েছি। ফলে বলটা A বরাবর এগিয়ে যেতে চাইবে। কিন্তু যেহেতু পৃথিবীও কেন্দ্রের দিকে বলটাকে টানবে, তাই সে লাল লাইন বরাবর চলে একসময় ভূ-পৃষ্ঠে পতিত হবে। এবার গতি আরেকটু বাড়ালে ঘটনা হবে খানিকটা এরকম।

যদি গতি আরো বাড়াই? তাহলে হয়তো, বলটা একবার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে মাটিতে পতিত হবে।

আপনি হয়ত, এখন বুঝতে পারছেন, বিষয়টা কোন দিকে যাচ্ছে। হ্যাঁ, আমরা এখন গতি যখন আরো বাড়াবো, তখন আমরা দেখতে পাবো, বলটা যেখান থেকে যাত্রা শুরু করেছিলো, চক্র শেষে সেখানেই এসে পৌছাবে ঠিক শুরুর গতিতে। এরপর এটা আবারো এভাবে ঘুরে আসবে এবং আবারো…

আসলে এখানে কী ঘটছে? বলটা সবসময় চাইবে তার দিকে গতিশীল থাকতে, অর্থাৎ, এখানে বৃত্তাকার গতিপথের স্পর্শক বরাবর, যার কয়েকটি সাদা তীর চিহ্ন দিয়ে দেখানো হয়েছে। কিন্তু পৃথিবী তাকে কেন্দ্রে দিকে টানবে (হলুদ তীর চিহ্ন)। ফলে, এদের লদ্ধিতে বলটি একটি বৃত্তাকার পথ লাভ করবে।

আমরা যে বিল্ডিংয়ে উঠেছিলাম, তার উচ্চতা যদি ৩৮৪,৩৯৯ কি.মি হয় আর বলটি যদি হয় ৭.৩৪২×১০২২ কেজি ভরের, যার ব্যাস ৩,৪৭৪ কি.মি এবং এটাকে ছোঁড়া হয় ৩৬৮৩ কি.মি/ঘন্টা গতিতে, তবে আসলে ঠিক এই ঘটনাটাই ঘটে চাঁদের সাথে।

এখন আরেকটা প্রশ্ন আপনার থাকতে পারে, চাঁদের বেগ আরো বেশি হলে কী হত? উত্তর হলো, সেক্ষেত্রে পৃথিবী ও চাঁদের দূরত্ব ক্রমাগত বাড়তে থাকতো, এবং একসময়, চাঁদ পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ প্রভাব থেকে বেরিয়ে যেত। এবং আমরা হয়ত, আমাদের আকাশে আজ একে দেখতে পেতাম না।

“তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে।”

সূরা আম্বিয়া: ৩৩

সোর্স:

https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A6

http://coolcosmos.ipac.caltech.edu/ask/176–How-fast-does-the-Moon-travel-around-Earth-

0 0 vote
Article Rating
Default image
তাহমিদ হাসান
এইতো, প্রতি ষাট সেকেন্ডে জীবন থেকে একটি করে মিনিট মুছে যাচ্ছে, আর এভাবেই এগিয়ে চলেছি মৃত্যুর পথে, নিজ ঠিকানায়। জীবন বড় অদ্ভুত, তাই না?
Subscribe
Notify of
guest
3 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
'র'
'র'
11 months ago

ভালো কন্টেন্ট 👍

আশা করি কন্টিনিউ করবে 🙂

Sohanur Rahman
5 months ago

ভাল লিখেছেন 🙂

3
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x