এন্ডলেস ওএস: লার্নিংয়ের জন্য বেস্ট ওএস সম্ভবত এটাই!

একটা ওএসের আইএসও সাইজ কত হতে পারে? এন্ডলেস ওএস ইংলিশ ফুল ভার্সনের সাইজ আমার ভাবনার চেয়ে অনেকটাই বেশি ছিলো, ১৬ জিবি! হ্যাঁ, আরেকটা বেসিক ভার্সন আছে, মাত্র ২ জিবি, কিন্তু ভেবে দেখলাম, যদি চালাতেতে হয়, তো পুরোটাই চালাই!

বেসিক ভার্সন আর ফুল ভার্সনের পার্থক্য আসলে কিন্তু বেশি না, শুধু ফুল ভার্সনে অতিরিক্ত ১০০ এর বেশি অ্যাপ প্রি-ইন্সটলড আছে। কিন্তু বিশ্বাস করুন, এই অ্যাপগুলোর জন্য ৩ দিন সময় ব্যায়ে ১৪ জিবি অতিরিক্ত ডাউনলোড করাটা বৃথা গেছে এমনটা একবারও মনে হয়নি।

কনসেপ্ট, ইন্টারফেস সব দিক থেকেই আর সব ওএস থেকে একদমই ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা দিবে এন্ডলেস ওএস। কিন্তু, এর অ্যাপ কালেকশন এর সবচেয়ে বড় অসাধারণত্ব।

আপনি কোন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করবেন, সেটা নির্বাচনের সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা দিক হলো আপনি কী কাজে আপনার কম্পিউটার ব্যবহার করবেন। আপনি যদি আপনার কম্পিউটার থেকে কিছু শিখতে চান, আপনার পড়াশোনায় সহায়তা নিতে চান অথবা মনের কৌতুহলগুলো মেটাতে চান, এন্ডলেস ওএসের মত আপনি আর কোন ওএস পাবেন না, ৯৯.৯৯% নিশ্চয়তা দিচ্ছি।

এন্ডলেস ওএসের ওয়েবসাইট বলছে:

এবং কথাটা বেশ সত্য। এন্ডলেস ওএস জ্ঞান আহরণের নতুন দুয়ার উম্মোচন করে দিবে। কীভাবে? সে কথায় পরে আসছি, তার আগে এন্ডলেস ওএসের অন্য কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলে নিই।

এন্ডলেস ওএস একটা কাস্টমাইজ গ্নোম ডেস্কটপসহ সিস্টেম প্রোভাইড করবে। এটা অনেকটাই কাস্টমাইজড এবং সাধারণ গ্নোম থেকে কিছুটা হালকা। পরিচিত আর সব ডেস্কটপ ইন্টারফেস থেকে এটা বেশ ভিন্নধর্মী।

উপরের ছবিটা দেখে কী মনে হচ্ছে? অ্যাপ্লিকেশন মেনু? নাহ! এটাই আপনার ডেস্কটপ। একটু অন্যরকম নয় কী? ডেস্কটপেই অ্যাপ্লিকেশনগুলো সাজানো থাকবে আর সাথে একটি সার্চবার আর উপরে একটা ক্যালেন্ডার উইজেট।

অবশ্য সবগুলো অ্যাপ এখানে নেই। যেসব অ্যাপগুলো অ্যাপসেন্টার থেকে ডেস্কটপে এড করা থাকবে শুধু সেগুলোই এখানে থাকবে। এছাড়া, কোন ওয়েবসাইটকেও অ্যাপে পরিণত করা যাবে। আর ইন্সটলকৃত অন্য অ্যাপগুলো সার্চ করে অথবা অ্যাপ সেন্টার থেকে পাওয়া যাবে।

সব অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে কোন মেনু টাইপের কিছু অথবা ডেস্কটপেই যদি ফেবারিট ও অল অ্যাপ্লিকেশনস এরকম দুটি ট্যাব থাকতো, তাহলে অ্যাপ ব্রাউজিং সুবিধাজনক হত মনে করি।

এরপর প্যানেলটা যদি দেখেন, এখানেও নতুনত্ব আছে। প্রথমে এন্ডলেস আইকনসহ যে বাটনটা দেখছেন, সেটাতে ক্লিক করলে আসলে অন্য কোন মেনু আসবে না, বরং এটা শো ডেস্কটপ বাটন বলতে পারেন। অবশ্য, তাদের ডেস্কটপটাকেই যদিও অ্যাপ্লিকেশন মেনু বানিয়ে দিয়েছে…

তার পাশে টাস্কবার। এই টাস্কবারটাতে অবশ্য বড় ধরণের একটা সীমাবদ্ধতা আছে, মিনিমাইজড অ্যাপগুলোতে কোন ইন্ডিকেটর দেখায় না। এটা বেশ বিরক্তিকর অবশ্যই। তার বামে নোটিফিকেশন এরিয়া ও ক্যালেন্ডার। তার বামে সিস্টেম মেনু এবং সর্ববামে অ্যাক্টিভিটিজ আইকন, যেটাকে হট কর্নার হিসেবেও এনাবল করতে পারবেন।

ডিফল্টলি এডভাইটা (Adwaita) থিম রয়েছে, যেটি আমার চোখে খুব সুন্দর নয় যদিও।

তবে Flat Remix থিম সেট করে দেওয়ার পর বেশ সুন্দর দেখাচ্ছে… কিন্তু একটা সমস্যা! পরে বলছি…

সত্যি বলি, ইন্টারফেসে খুব স্বচ্ছন্দবোধ করিনি… তবে, এটা ভালো যে তারা নতুন ধরণের কিছু করেছে। নতুনত্বের স্বাদ পেলাম…

এবার এই ওএসের সবচেয়ে বড় আকর্ষণের দিকে আসি। এখানে আপনি এমন অসাধারণ কিছু অ্যাপ পেয়ে যাবেন, যা অন্য ওএসগুলোতে পাবেন না এবং বিকল্প কোনভাবে ইন্সটলের উপায়ও আছে বলে আমার জানা নেই। এই ওএসের সাথে আপনি পড়াশোনা, স্বাস্থ্য, রান্নাবান্না, গেমসসহ বিভিন্ন ধরণের অসাধারণ সব অ্যাপ পেয়ে যাচ্ছেন।

এর মধ্যে আছে একটি অফলাইন এনসাইক্লোপিডিয়া, যেখানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার ৫০,০০০ এর বেশি আর্টিকেল পড়া যাবে কোন ইন্টারনেট কানেকশন ছাড়াই।

এখানে World Literature নামের একটি অ্যাপ আছে আর আমার কাছে এই একটা অ্যাপই অনেক ভালো না লাগা মেনে নিয়ে এই ওএসটি চালানোর জন্য যথেষ্ট। কেন? কারণ এখানে দুর্ধর্ষ সব ক্লাসিক বইগুলো আপনি পড়তে পারবেন বিনামূল্যে ও বৈধভাবে এমনকি তা ডাউনলোডও করে নিতে হবে না, অফলাইন!

এখানে শেষ না, শুরু। ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ, কুকিং, হিস্ট্রি, অ্যানিমেলস, অ্যাস্ট্রোনমি প্রভৃতি বিষয়ে পড়াশোনার জন্য দুর্দান্ত সব অ্যাপ রয়েছে এখানে। আর অ্যাপগুলো এত চমৎকার যা প্রকাশের ভাষা আমার জানা নেই। আমি কিছু স্কিনশট দিচ্ছি, কিন্তু এগুলো দেখে আপনি খুব সামান্য ধারণাই পাবেন, অ্যাপগুলো কতটা অসাধারণ!

এখানে কিন্তু অল্প কিছু অ্যাপের স্ক্রিনশট আমি দিয়েছি। আরো এরকম অনেক আছে! আর তার সাথে ট্রেডিশনাল লিব্রে অফিস, অডাসিটি, গিম্প, ইঙ্কস্কেপের মত অ্যাপগুলোও দেওয়া আছে, কোন টেনশন নেই!

লিনাক্স ওএসগুলোতে সাধারণত ফায়ারফক্স ব্রাউজার থাকে বাই ডিফল্ট। তবে তারা ক্রোম যুক্ত করেছে। যাই হোক, ক্রোমের যে হোমপেজটি তারা সেট করেছে, সেটিও বেশ ছিলো… এখানেও দেখা যাচ্ছে তারা লার্নিংকে কতটা ফোকাস করেছে।

ও, হ্যাঁ, মনে আছে, মাঝপথে থিমের কথায় এসে পরে বলার জন্য কিছু কথা আটকে রেখেছিলাম? এখন বলে ফেলি। আপনি অ্যাপসেন্টারের বাইরে থেকে কোন অ্যাপ এই ওএসে ইন্সটল করতে পারবেন না। যেকারণে থিম পরিবর্তনের জন্য গ্নোম টুইকসও আমি ইন্সটল করতে পারিনি। কাজেই থিম পরিবর্তনের কাজটা টার্মিনাল থেকে করতে হলো।…

এখন গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা পয়েন্ট আকারে বলে নিই,

  • পিওর লিনাক্স এক্সপ্রেরিয়েন্স পেতে চাইলে এটা একেবারেই না। এখানে শুধু অ্যাপসেন্টারের অ্যাপগুলোই ইন্সটল করা যাবে। বাইরের কোন অ্যাপ ইন্সটলের সুবিধা নেই। এমনকি টার্মিনালে sudo apt install কমান্ড কাজ করবে না। তবে ভালো বিষয়টা হলো ফ্লাটপ্যাক সাপোর্ট আছে।
  • অন্য লিনাক্সের সাথে ডুয়াল বুট ইন্সটলের জন্য ব্যবস্থা নেই। পুরো হার্ডডিস্ক ক্লিন করে ফেলতে হবে। যাই হোক, উইন্ডোজের সাথে ডুয়াল বুট করার জন্য আলাদা একটি ভার্সন আছে…
  • লার্নিংয়ের জন্য এর মত কোন ওএস হতে পারে মনে হয় না। এর অসাধারণ অ্যাপ কালেকশন আমাকে শুধু অবাক করেই যাচ্ছে। এর মধ্যে আছে একটি অফলাইন এনসাইক্লোপিডিয়া, যেখানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার ৫০,০০০ এর বেশি আর্টিকেল পড়া যাবে কোন ইন্টারনেট কানেকশন ছাড়াই। রয়েছে World Literature নামের একটি অ্যাপ যেখানে পৃথিবীর সেরা ক্লাসিক বইগুলো পড়া যাবে অফলাইনে… তার মধ্যে টম সায়ার, হাকলবেরি ফিন, ৮০ দিনে বিশ্বভ্রমণ (অবশ্যই সব ইংরেজি) এরকম ক্লাসিকগুলো দেখে আমার মনে হলো, শুধু এই একটা অ্যাপই ১৬ জিবি ডাউনলোড আর এর অনেক অনেক সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এর সাথে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ, কুকিং, হিস্ট্রি, অ্যানিমেলস, অ্যাস্ট্রোনমি প্রভৃতি বিষয়ে পড়াশোনার জন্য দুর্ধর্ষ সব অ্যাপ রয়েছে। আর অ্যাপগুলো এত চমৎকার যা প্রকাশের ভাষা আমার জানা নেই।
  • ইন্টারফেস, অ্যানিমেশনস এসব এক কথায় আমাকে সন্তুষ্ট করেনি। তবে আগেই বলেছি, শুধু বইয়ের অ্যাপটাই যেখানে যথেষ্ট সেখানে বাকি সব অ্যাপ মিলিয়ে আমি খুব দ্রুত এই ওএসটা ছেড়ে দিতে পারবো না…
  • এমনিতে গতি খারাপ না, তবে সম্ভবত ইউটিউব, নেটফ্লিক্স ভিডিও নিয়ে কিছু ইস্যুর কারণে এর বর্তমান ভার্সনে প্রি-ইন্সটলড ক্রোম ব্রাউজার দেওয়া। আর ক্রোম কেমন রিসোর্স হাংরি আপনারা জানেন… ফায়ারফক্স ইন্সটল এখনো করিনি… করে দেখতে হবে গতি।

সবকিছুর পরে, আপনি যদি এটা চালাতে চান, তবে আমার পরামর্শ থাকবে, সম্ভব হলে ফুল ভার্সনটাই চালিয়ে দেখুন। বেসিক ভার্সনে যদিও আপনি ফুল ভার্সনের সব অ্যাপ অ্যাপসেন্টারে পেয়ে যাবেন, তবুও প্রি-ইন্সটল্ড থাকার ব্যাপারটাই আলাদা। যখন আপনার কম্পিউটারে শেখার মত অনেক কিছু থাকবে, আপনি শিখতে আগ্রহী হবেন, নয় কী?

যাই হোক, বেসিক ভার্সনেও সমস্যা নেই। পছন্দমত অ্যাপসেন্টার থেকে অ্যাপ ইন্সটল করে নিলেই হবে।

ডাউনলোড করতে এখানে যেতে হবে। উইন্ডোজের জন্য তাদের একটি বিশেষ ইন্সটলার আছে যা Download From Windows ট্যাবে পাবেন। এই ইন্সটলার দিয়ে আপনি উইন্ডোজের পাশাপাশি এটা সরাসরি ইন্সটল করে ফেলতে পারবেন। আর .iso ইমেজ পেতে Download From Linux/Mac ট্যাব এ যান। বেসিক বা ফুল ইংলিশ ভার্সন (অথবা আপনি যদি অন্য কোন ভাষাতে দক্ষ হোন :/) সিলেক্ট করে ডাউনলোড করে নিন। এরপর এটি ভার্চুয়ালবক্সে ব্যবহার করতে পারেন বা পেনড্রাইভে রাইট করে ইন্সটল করে নিতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন, এই ইমেজটি থেকে ডুয়াল বুট ইন্সটলের জন্য ব্যবস্থা নেই। আপনাকে পুরো হার্ডডিস্ক ফরম্যাট করে তবেই ইন্সটল করতে হবে…

About the Author: তাহমিদ হাসান

এইতো, প্রতি ষাট সেকেন্ডে জীবন থেকে একটি করে মিনিট মুছে যাচ্ছে, আর এভাবেই এগিয়ে চলেছি মৃত্যুর পথে, নিজ ঠিকানায়। জীবন বড় অদ্ভুত, তাই না?

You May Also Like

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of